সাংবাদিকতার বাতিঘর হাসান শাহরিয়ার

প্রকাশিত: ১০:৩৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২১

সাংবাদিকতার বাতিঘর হাসান শাহরিয়ার
সাঈদ চৌধুরী
পেশাদার সাংবাদিকতার বাতিঘর, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন সাংবাদিক, কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (সিজেএ) ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ইমেরিটাস, প্রবীণ কলামিস্ট ও ভাষ্যকার হাসান শাহরিয়ার চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি। ইন্না-লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলাইহি রা-জিউ-ন।
হাসান শাহরিয়ার গত বৃহস্পতিবার করোনার উপসর্গ ও অন্যান্য জটিলতা নিয়ে প্রথমে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তাকে আনোয়ার খান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু সেখানে আইসিইউ বেডের সঙ্কটের কারণে নেয়া হয় ইমপালস হাসপাতালে। সেখানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন বিজ্ঞ সাংবাদিক ও দক্ষ সংগঠককে হারাল। আমি হারালাম একজন প্রিয় অভিভাবক। মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।
হাসান শাহরিয়ার যতটা সাংবাদিক, ঠিক ততটাই সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব। তিনি জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি এবং বৈদেশিক সাংবাদিক সংস্থা ওকাবের সভাপতি ছিলেন। দুই মেয়াদে সিজেএ‘র আন্তর্জাতিক সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে এই সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ইমেরিটাস। সিজেএ‘র প্রেসিডেন্ট হবার পর সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার দক্ষ নেতৃত্ব ও সুক্ষ দিকনির্দেশনা উন্নত বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে।
হাসান শাহরিয়ার দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক ‘সানে’র সম্পাদক এবং পাকিস্তানের দৈনিক ডন পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার ছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সাময়িকী ‘নিউজ উইক‘ সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় কাজ করেছেন।
হাসান শাহরিয়ার একজন সত্যিকারের পেশাজীবী সাংবাদিক। জোটনিরপেক্ষ সম্মেলন থেকে শুরু করে বহু আন্তর্জাতিক সেমিনার এবং রাষ্ট্রীয় দ্বিপক্ষীয় সফর দক্ষতার সঙ্গে কভার করেছেন। এক সময় ফিচার সংস্থা ‘নিউজ নেটওয়ার্ক’ আয়োজিত বহু ওয়ার্কশপে তরুণ সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত সদালাপী, মিষ্টভাষী ও প্রাণখোলা মানুষ।
হাসান শাহরিয়ার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কথা বলেন। কোন ভনিতার আশ্রয় না নিয়ে অকপট সত্য বলেন। লেখায়ও স্পষ্টতা বিদ্যমান। রাজনৈতিক ও ইতিহাস নির্ভর বিষয়ে বেশি লেখেন। উপমহাদেশের, বিশেষ করে পাক-ভারতের রাজনীতি তার নখদর্পণে। তার লেখা তথ্যবহুল। বানান ও বিষয় বর্ণনা ত্রুটি মুক্ত। খুব একটা বিশেষণ ব্যবহার তার অভ্যাসে নেই। তিনি জটিল ও দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করেন না। লেখেন সহজ ও সাবলীল ভাষায়। এমন স্বতন্ত্র এক ভাষা যা তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করে দেয়। তার লেখা সমূহ ঝরনার মতো প্রবাহমান।
পড়াশোনা করার সময় থেকেই হাসান শাহরিয়ার নজর রাখতেন রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও মানুষজনের উপর। তার কলামে লিখতে শুরু করেন জীবনের সমস্ত অভিজ্ঞতা, যা ক্রমশ রূপ পায় কাহিনি আকারে। তার বহু-খ্যাত বহু-চর্চিত প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও কলাম এখন বই আকারে প্রকাশিত হচ্ছে।
হাসান শাহরিয়ারের সর্বশেষ গ্রন্থ ‘যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা‘ ঢাকার উৎস প্রকাশন থেকে সম্প্রতি বেরিয়েছে। দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন’র সম্পাদক নঈম নিজাম গ্রন্থটির মুখবন্ধ লিখেছেন। আর ভূমিকা লিখেছেন দৈনিক সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি। গ্রন্থটিতে মোট ৩৮টি প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াদি ছাড়াও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ১০টি প্রবন্ধ রয়েছে।
‘অতীত, অতীত নয়’ হাসান শাহরিয়ারের একটি কালজয়ী গ্রন্থ। ‘শেষ ভালো যার সব ভালো তার‘ গ্রন্থটিও ব্যাপক পাঠক প্রিয়তা লাভ করেছে। তার প্রতিটি গ্রন্থ ইতিহাসের অংশ।
হাসান শাহরিয়ারের ‘নিউজউইক-এ বাংলাদেশ : মুক্তিযুদ্ধ বিজয় এবং তারপর’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয় ২০১৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার, জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, পুরো গ্রন্থটি বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অংশ। এতে মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষাবিদ ও কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, হাসান শাহরিয়ার শুধু একাত্তরের ঘটনাই নয়, বাংলাদেশের ক্ষমতার পালাবদলের বিষয়গুলোও লিখেছেন। জিয়া-এরশাদ আমলের অনেক ঘটনা তুলে ধরেছেন।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, খ্যাতিমান সাংবাদিক ও লেখক হাসান শাহরিয়ার পেশাদার সাংবাদিকতার বাতিঘরের মতো। তিনি সাংবাদিকদের অন্যতম অভিভাবক। বিপদে-আপদে আশারস্থল। তার ‘নিউজউইক-এ বাংলাদেশ : মুক্তিযুদ্ধ, বিজয় এবং তারপর’ বইটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রামাণ্য দলিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে যারা লিখবেন ও গবেষণা করবেন, তাদের জন্য বইটি খুবই কাজে দেবে। শুধু তরুণদেরই নয়, এটি প্রবীণদেরও অনেক কাজে আসবে।
হাসান শাহরিয়ারের পেশার উৎকর্ষতা সম্পর্কে ভোরের কাগজ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ শ্যামল দত্ত বলেন, তিনি আমাদের বাতিঘরের মতো। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মুঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে হাসান শাহরিয়ার অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। তার লেখা উচ্চমানের। তার বই মুক্তিযুদ্ধের দলিল। ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক মহাসচিব ওমর ফারুক বলেন, তিনি আমাদের পেশার অন্যতম অভিভাবক। বিপদে-আপদে ছিলেন আশ্রয়স্থল।
হাসান শাহরিয়ারের পেশাদারিত্বের বিষয় তুলে ধরে আরো বক্তব্য রাখেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আবদুল জলিল ভূঁইয়া, সমকালের যুগ্ম সম্পাদক অজয় দাশ গুপ্ত, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ। বইটি নিয়ে আলোচনা করেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, হাসান শাহরিয়ারের বড় ভাই লেখক তৌফিক চৌধুরী, কবি আসাদ চৌধুরী, সমাজবিজ্ঞানী ও লেখক ড. মীজানুর রহমান শেলী, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত, দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক আবুল কাইয়ূম, সাংবাদিক ও ইউনেসকোর প্রতিনিধি পারভীন আহমেদ, সমকালের উপ-সম্পাদক অজয় দাস গুপ্ত প্রমুখ।
শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বইটির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান উৎস প্রকাশনীর কর্ণধার মোস্তফা সেলিম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী। কোরআন তেলয়াত করেন মনজুর হাসান ইসরাত। অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি হাসান শাহরিয়ার। বক্তারা তার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ১৯৯২ সালে আমরা তার সাথে মতবিনিময় করেছিলাম। তিনি আমাদের যে দিক নির্দেশনা ও কর্মপরিকল্পনা দিয়ে ছিলেন, আন্দোলন বাস্তবায়ন তা খুবই সহায়ক হয়েছে। দেশে এবং বিলেতে যতবার দেখা হয়েছে, সাংবাদিকতা এবং সিলেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা হয়। সবসময় পরম মমতায় তিনি কাছে টানেন ও খোঁজ খবর নেন।
হাসান শাহরিয়ারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন মরহুম গিয়াস কামাল চৌধুরী। তিনি ১৯৮৭ থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি ছিলেন। ১৯৯২ সালে একুশে পদক লাভ করেন। তখন আমি তরুণ সাংবাদিক হলেও গিয়াস কামাল চৌধুরী আমাকে ভালোবাসতেন। সিলেটে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমাদের অতিথি হয়েছেন। বিশেষ করে সিলেট বিভাগ বাস্তবায়ন আন্দোলনের সময় তাকে নিয়ে এসেছিলাম। তিনদিন সিলেট থেকে ভয়েস অফ আমেরিকায় আমাদের রিপোর্ট করেছেন।
গিয়াস কামাল চৌধুরী বিএফইউজে ও ডিইউজের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও ছিলেন। তবে ভয়েস অফ আমেরিকার সংবাদদাতা হিসেবেই তাকে বেশি চেনেন দেশবাসী। সাংবাদিকতার পাশাপাশি নিয়মিত কলাম লিখতেন গিয়াস কামাল চৌধুরী। মৃত্যুর আগে দীর্ঘদিন তিনি অসুস্থ ছিলেন। তার চিকিৎসার জন্য সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের মাধ্যমে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে নিয়োগের ব্যবস্থা করেছিলাম। তারপর যখনই দেখা হত, নানা প্রসঙ্গে হাসান শাহরিয়ারের কথা উল্লেখ করতেন।
১৯৯১-৯২ সালে সাংবাদিক মোজাম্মেল হক জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি হন। গিয়াস কামাল চৌধুরীর মাধ্যমে আগে থেকেই তিনি ছিলেন সখ্য। বিলেত আসার পর সাপ্তাহিক ইউরো বাংলা প্রতিষ্ঠার সময় তিনি আমাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। লন্ডন সফরের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমি তাকে পাঠিয়েছিলাম। মোজাম্মেল হকের পরের সেশনে ১৯৯৩-৯৪ সালে হাসান শাহরিয়ার জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি হলেন। আগের দুই সভাপতি আমার ঘনিষ্ট হওয়ার কারণে আমাদের সিলেটের গর্ব হাসান শাহরিয়ার সম্পর্কে প্রায়শ খোঁজ খবর নিতাম। নির্বাচনে সাধ্যমত প্রচার করেছি। জাতীয় প্রেসক্লাবের ভাবমূর্তি ও পেশাগত মান বৃদ্ধিতে হাসান শাহরিয়ারের ভূমিকা নিয়ে তারা সবসময় প্রশংসা করতেন।
হাসান শাহরিয়ার সিলেটের কৃতি সন্তান সাংবাদিক মকবুল হোসেন চৌধুরীর কনিষ্ট পুত্র এবং আইনজীবী ও কলামিস্ট হোসেন তওফিক চৌধুরীর অনুজ। তার মূল বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বিন্নাকুলী গ্রামে। পিতা মকবুল হোসেন চৌধুরী অবিভক্ত আসাম-বাংলার বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, খেলাফত আন্দোলনের নেতা ও ভাষাসংগ্রামী ছিলেন। ঐতিহ্যবাহী সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মকবুল হোসেন চৌধুরী ১৯৩৭ সালে আসাম ব্যবস্থাপক সভার সদস্য (এমএলএ) নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন পত্রিকা ‘যুগভেরী’র (১৯৩২) প্রথম সম্পাদক। সিলেটের ‘যুগবাণী’ (১৯২৫) ও কলকাতার দৈনিক ‘ছোলতান’ (১৯৩০) পত্রিকারও সম্পাদক ছিলেন। দৈনিক ‘আজাদ’ এর মালিক মাওলানা আকরম খা তাকে ঢাকায় ‘আজাদ’ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করার অনুরোধ জানালে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ছিলেন।
মানব জমিনের প্রধান সম্পাদক কৃতি সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী স্মৃতিচারণে লিখেছেন, হাসান শাহরিয়ারের সঙ্গে দৈনিক ইত্তেফাকে কাজ করেছি প্রায় এক যুগ। তাকে নিয়ে গর্ব করার মতো অনেক কিছু রয়েছে। ধীরস্থির, অত্যন্ত স্বাধীনচেতা একজন সাংবাদিক। উপমহাদেশ জুড়েই তার নাম জারি রয়েছে সাংবাদিকতা অঙ্গনে। যখনই বিদেশে কেনো ফেলোশিপ বা সম্মেলনে যোগ দিয়েছি, তখন অন্য এক হাসান শাহরিয়ারের নাম শুনেছি। জেনেছি অনেক কিছু। বিশেষ করে পাকিস্তানি সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচয় হলেই তারা প্রথমে যে তিন-চারজন ঢাকার সাংবাদিকের নাম উচ্চারণ করেন, তখন হাসান শাহরিয়ারের নাম এসে যায়। তাকে আমি ‘ওস্তাদ’ বলেই ডেকেছি বরাবর।
মতিউর রহমান চৌধুরী হাসান শাহরিয়ারের বাবা সম্পর্কে বলেন, মকবুল হোসেন চৌধুরী বাংলা সাংবাদিকতায় একটি অনন্য নাম। যত দিন বাংলা সাংবাদিকতা থাকবে, তত দিন তাঁর নাম উচ্চারিত হবে। মুসলিম মনীষীরা নানাভাবেই তাঁকে মূল্যায়ন করে গেছেন। বাংলা সাংবাদিকতার ইতিহাস লিখতে গিয়ে অনেকেই বলেছেন, প্রয়াত চৌধুরী ছিলেন এক সাহসী যোদ্ধা। আমার বিবেচনায়, তিনি ছিলেন এই উপমহাদেশে মুসলিম জাগরণের এক কারিগর। পিছিয়ে থাকা মুসলিম সমাজকে আলোর পথে নিয়ে আসার জন্য যে কজন মানুষ নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন, তিনি তাঁদের একজন।
প্রয়াত মকবুল হোসেন চৌধুরীর সাফল্য হচ্ছে তিনি বংশের মধ্যে সাংবাদিকতার বীজ রোপণ করে গিয়েছিলেন। ছেলেরা সাংবাদিকতায় আসবে, এটা তিনি চেয়েছিলেন কি না জানা নেই। তবে রক্তের টানে দুই সন্তান সাংবাদিকতায় এসে বাংলা সাংবাদিকতার প্রসার ও সমৃদ্ধি ঘটিয়েছেন। এটা বলা চলে নিঃসন্দেহে।