সাংবাদিকদের উন্নয়নে কাজ করে যেতে চান পিআইবি’র ডিজি

প্রকাশিত: ১১:৪২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৮

সাংবাদিকদের উন্নয়নে কাজ করে যেতে চান পিআইবি’র ডিজি

জান্নাতুল ফেরদৌস

সাংবাদিকদের উন্নয়নে কাজ করে যেতে চান বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)’র মহাপরিচালক মো. শাহ আলমগীর । তিনি বলেন, বাংলা ভাষায় সাংবাদিকদের শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণের একমাত্র প্রতিষ্ঠান পিআইবি । কিন্তু এর মধ্যেই তার দায় শেষ হয়ে যাচ্ছে না । শিক্ষা নেবার পর সাংবাদিক তার পেশায় ভালো করতে পারছে কী না, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে কী না, সে অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিতে পারছে কি না সে সব ও পিআইবির বিচার্য বিষয় হয়ে উঠেছে ।তাই এখানে মহাপরিচালক হিসেবে আমার মেয়াদ বাড়লে দায়িত্ব ও বেড়ে যায় । তিনি গতকাল বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এসোসিয়েশন বিওএমএ-র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মত বিনিময় কালে এ কথা বলেন ।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাধারন সম্পাদক সৌমিত্র দেব, কামরুজ্জামান হিমু, আনহার আহমেদ সামসাদ প্রমুখ । সৌমিত্র দেব বলেন , পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবে মেয়াদ বৃদ্ধিতে আরেকবার শাহ আলমগীর তার যোগ্যতার স্বীকৃতি পেয়েছেন । তার সময়ে পিআইবির ইতিহাসে নজির বিহীন উন্নয়ন হয়েছে । পিআইবির আটতলা ভবন উদ্বোধন হয়েছে । সাংবাদিকতায় মাস্টার্স কোর্স চালু হতে যাচ্ছে ।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়েছেন ,অনলাইন নীতিমালার খসড়া প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন । সম্প্রতি সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্যও একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন ।

নেতৃবৃন্দ অনলাইন মিডিয়ার উন্নয়নে  অতীতের মতো আগামীতেও তার সহযোগিতা কামনা  করেন ।

মো. শাহ আলমগীর ময়মনসিংহের গৌরীপুর কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স করেন। এর বাইরে মস্কো ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম থেকে সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা ও থমসন ফাউন্ডেশন পরিচালিত সাংবাদিকতায় উচ্চতর কোর্স সম্পন্ন করেছেন। তাছাড়া বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সেও অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে— করাচিতে সাউথ এশিয়ান ফ্রি মিডিয়া আয়োজিত ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া বিষয়ক কর্মশালা, ফিল্ম আর্কাইভস আয়োজিত ফিল্ম অ্যাপ্রিশিয়েসন কোর্স ও ভারতের গোয়ায় UNDP আয়োজিত ‘South Asian media and its role in attaining the Millennium Development Goal’ শীর্ষক সম্পাদকদের কর্মশালা।

শাহ আলমগীরের সাংবাদিকতা পেশার শুরু ছাত্রজীবন থেকেই। উপমহাদেশের প্রথম শিশু-কিশোর সাপ্তাহিক কিশোর বাংলা পত্রিকায় যোগদানের মাধ্যমে তিনি সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। এখানে তিনি সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত। এরপর তিনি কাজ করেন দৈনিক জনতা, বাংলার বাণী, আজাদ ও সংবাদে। প্রথম আলো প্রকাশের সময় থেকেই তিনি পত্রিকাটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাস থেকে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত যুগ্ম বার্তা-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর তিনি টেলিভিশন মিডিয়ায় কাজ শুরু করেন। চ্যানেল আই-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক, একুশে টেলিভিশনে হেড অব নিউজ, যমুনা টেলিভিশনে পরিচালক (বার্তা) এবং মাছরাঙা টেলিভিশনে বার্তা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জনাব আলমগীর ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শিশু কল্যাণ পরিষদ এবং শিশু ও কিশোরদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান ‘চাদের হাট’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালনা বোর্ডেরও সদস্য তিনি।

পিআইবিতে যোগদানের পূর্বে তিনি সর্বশেষ এশিয়ান টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।