সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড, চার্জশিট দাখিল আগামী ৭ এপ্রিল

প্রকাশিত: ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৬

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড, চার্জশিট দাখিল আগামী ৭ এপ্রিল

এসবিএন ডেস্ক: সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিলের জন্য ৭ এপ্রিল নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। মামলার চার্জশিট দাখিলের দিন ধার্য ছিল রোববার। নির্ধারিত তারিখে চার্জশিট দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম ইউনুস খান নতুন এ দিন ধার্য করেন।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন।

সাগর-রুনি খুন হওয়ার পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। থানার হাত ঘুরে তদন্তের দায়িত্ব যায় ডিবিতে।

প্রথমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। ৪ দিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অপেশাদার খুনিরা ধারাল অস্ত্রের আঘাতে দুজনকে হত্যা করেছিল বলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়। সাংবাদিক দম্পতি খুনের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ঘটনাস্থলে গিয়ে সবার সামনে বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করা হবে; যা না ঘটার পর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে।

ঘটনার ৬২ দিন পর ডিবি আদালতের কাছে ব্যর্থতা স্বীকার করলে তদন্তের দায়িত্বে আসে র‌্যাব। এখনও তারাই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ৪ বছর পেরুনোর একদিন আগে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে র‌্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সব হত্যাকাণ্ডেরই যে দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন হয়ে যায়, তা নয়। স্পর্শকাতর মামলাগুলোতে সময় লাগে।’

তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে প্রায় প্রতি মাসেই একবার করে তদন্তের ‘অগ্রগতি প্রতিবেদন’ দিয়ে যাচ্ছেন তদন্ত কর্মকর্তা। সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারী প্রতিবেদন দেওয়া হয়। মামলার পরবর্তী তারিখ রয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারী।

ডিবির দুজনের হাত ঘুরে র‌্যাবের দু’জন এই তদন্তের দায়িত্ব পালন করেন। ওই চারজনের পর এখন র‌্যাব সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহমেদ চালাচ্ছেন তদন্ত।

ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে। তার প্রতিবেদন আসার পর যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানান র‌্যাব মুখপাত্র।

প্রথম দফায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এসব আলামতে পাওয়া নমুনার সঙ্গে দু’জন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল মিলেছে বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারপর আর কিছু বলা হয়নি এ বিষয়ে।