সান্ধ্যকালীন কোর্সের টাকায় ঢাবির ১০ শিক্ষকের বিদেশ ভ্রমণ

প্রকাশিত: ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৮

সান্ধ্যকালীন কোর্সের টাকায় ঢাবির ১০ শিক্ষকের বিদেশ ভ্রমণ

স্টাফ রিপোর্টার
সান্ধ্যকালীন কোর্সের টাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দশ জন শিক্ষক মিশর-দুবাই ভ্রমণে গেছেন। গত ২০শে জুন তারা বিদেশ সফরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে। বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন সহকারী অধ্যাপক ড. এম বদরুজ্জামান সান্ধ্যকালীন কোর্সের টাকায় ঐ দশ শিক্ষকের বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
বিদেশ সফরে যাওয়া দশ শিক্ষক হলেন : বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ডা. শাকের আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক সন্তোষ কুমার দেব, নুসরাত জাহান, মোহাম্মদ রুহুল আমিন, মিনা মাহবুব হোসেন, প্রভাষক প্রসেনজিৎ সাহা, আব্দুল্লাহ আল মুনীম, বিপ্লব রায়, সামিয়া আফরীন সেতু ও করবী কবির।
এব্যাপারে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের একাধিক অধ্যাপক গণমাধ্যমকে বলেন, সান্ধ্যকালীন কোর্সের থেকে আয়কৃত টাকাগুলোর ক্ষেত্রে কিছুটা অস্বচ্ছতা রয়েছে। নৈতিকভাবে কখনোই এ টাকায় বিদেশ ভ্রমণ ঠিক নয়। এটা হলো জনগণের টাকার অপব্যবহার। এব্যাপারে বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, সান্ধ্যকালীন কোর্সের টাকায় বিদেশ ভ্রমণের নিয়ম নেই। তারা নিয়ম না মেনেই ফান্ডের টাকা নিয়ে বিদেশ ভ্রমণে গেছেন।
গত মে মাসের ৫ তারিখ (রবিবার) বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভা হয়। সেখানে বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ ব্যাপারে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। এতে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এম বদরুজ্জামান ভূঁইয়াকে উপদেষ্টা, সন্তোষ কুমার দেবকে আহ্বায়ক এবং কামরুজ্জামানকে সদস্য করা হয়। এ ভ্রমণে প্রভাষকের ২৫ শতাংশ, সহকারী অধ্যাপকের ৩০ শতাংশ ও অধ্যাপকের ৪০ শতাংশ ব্যয় নিজস্বভাবে বহন করাার সিদ্ধান্ত হয়। বাকি টাকা বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্সের ফান্ড থেকে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালাটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ সূত্র থেকে জানা যায়, এই ভ্রমণে প্রত্যেকের প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ পড়বে। সে হিসেবে একজন প্রভাষক সান্ধ্যকালীন কোর্স থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা, একজন প্রভাষক ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ও একজন অধ্যাপক ৯০ হাজার টাকা করে নিবেন। সব মিলিয়ে দশজন শিক্ষক সান্ধ্যকালীন কোর্সের প্রায় ১১ লাখ টাকা ব্যয় করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভার নিয়ম অনুযায়ী সান্ধ্যকালীন কোর্সের আয়ের ৩০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ডে দেয়ার নিয়ম রয়েছে। বাকি টাকা শিক্ষকদের সম্মানী, বিভাগের উন্নয়নমূলক কাজেও শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানে ব্যয় করা হয়। বিভিন্ন বিভাগের বিরুদ্ধে সান্ধ্যকালীন কোর্সের সঠিক পাওনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।