সাভারের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ কবির আটক

প্রকাশিত: ৪:৪৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৯

সাভারের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ কবির আটক

সাদ্দাম হোসেন

সাভারের শীর্ষ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী কবির হোসেনকে আটক করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরো বলেন, কবিরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আটক করা হয়েছে। তার সঙ্গীদের আটক করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

গতকাল চাঁদাবাজি ও মারধরের ঘটনায় ব্যবসায়ী আপেল মাহমুদ বাদী হয়ে কবির হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলা (মামলা নং ৫৫) দায়ের করে। এমামলায় মো. ফজা, মো. জহির, মো. হায়দারসহ ৭-৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

মামলার ব্যাপারে ব্যবসায়ী আপেল মাহমুদ বলেন, চাঁদা দিতে রাজী না হওয়ায় কবির অ‍ামাকে মারধর ও হত্যার হুমকি প্রদান করে। পরে সে গাড়ি ভাঙচুর করে এবং দলবলসহ অস্ত্র নিয়ে শোডাউন করে। পরে আপেল মাহমুদ কবিরের বিরুদ্ধে দন্ডবিধি-১৮৬০ এর ১৪৩/ ৩২৩/ ৩৮৫/ ৪২৭/ ৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন বলে জানান।

কবির সাভার পৌর শ্রমিক লীগের কথিত আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম সম্পাদন করত। সাভার পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনের কর্মী হয়ে কবিরের পথচলা শুরু। মাদকের সঙ্গে কবিরের সম্পৃক্ততা রয়েছে জানা যায়। ‍কবির হত্যা, চাঁদাবাজিসহ কয়েকটি মামলার আসামি হলেও প্রকাশ্যে তার নানা অপকর্ম চলতো। ওয়াপদা রোডের সরকার দলীয় নারী কর্মী সুলতানা বেগমের বাড়িতে হামলা, ভ্যানচালক জাহাঙ্গীরকে মারধর ও ব্যবসায়ী সানি, লিটন, বাবু, সুমনের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে কবির ও তার দলবলের বিরুদ্ধে।

কবির বাহিনীর সক্রিয় সদস্য অ‍ালামিন, রিয়াদ, ইসমাইল ও নিহান।

ইতোপূর্বে কবিরের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা (মামলা নং ৫৪) নামে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার বাদী ছিলেন মজিবুর রহমান ভূইয়া। কবিরের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় মজিবর রহমানের ভাগ্নে আকাশকে হত্যার চেষ্টার করে কবির। সেসময় আকাশকে মারাত্মক জখম করে কবির ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। পরে মজিবর রহমান বাদী হয়ে দন্ডবিধির ১৪৩/৩৪২/৩২৩/৩০৭/৩২৬/১১৪ ধারায় অভিযোগ এনে কবিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

তবে আইনের ফাক ফোকরে সে মামলা থেকে জামিন পায় কবির। জামিন পাওয়ার পরই সে আবার তার অপকর্ম শুরু করে দেয়। সর্বশেষ ব্যবসায়ী আপেল মাহমুদের দায়েরকৃত মামলায় সে আবার গ্রেপ্তার হলো।