সাভারে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা

প্রকাশিত: ১:২১ পূর্বাহ্ণ, মে ২৭, ২০১৮

সাভারে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে  জরিমানা

কামরুজ্জামান হিমু
সাভারে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে খাদ্যে ভেজাল দেয়া, নিম্নমানের মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি ও মজুদ করা, অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে হোটেল পরিচালনা ও খাবার বিক্রি করা, ওজনে কম দেয়া ইত্যাদি অভিযোগে ১ লক্ষ ৮০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।। শনিবার( ২৬শে মে) সকালে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রাসেল হাসানের নেতৃত্বে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে সাভারের নামাবাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বাজারের মাছ, সবজি, ফল ব্যবসায়ীদেরও প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হয় এবং কিছু জাটকা ও পচাঁ মাছ নষ্ট করা হয়। প্রত্যেক দোকানের সামনে পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শনের জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ।
অভিযান পরিচালনার সময় মা ফার্মেসিকে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ রাখার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।এসময় ড্রাগ সুপার মাহবুব হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। মেয়াদোত্তীর্ণ বিপুল পরিমাণ ঔষধ সাভার মডেল থানার পিছনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। দীর্ঘদিনের ধরে এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি প্রদত্ত সনদের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো বলে জানা যায়।
এছাড়া ওজনে কম ও নোংরা পরিবেশে তেল বিক্রি করার দায়ে মেসার্স আহমেদ এন্ড সন্সকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পচা খেজুর বিক্রির দায়ে ফল ব্যবসায়ী মোতালেবকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা ও পচা-বাসি খাবার বিক্রি এবং মজুদ করার দায়ে নিতাই চন্দ্র মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক তপন ঘোষকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা ও ভবিষ্যতে যাতে এধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকে সেজন্য সতর্ক করা হয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে হোটেল পরিচালনার দায়ে মুসলিম হোটেলের মালিক স্বাধীন চৌধুরীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সর্বশেষ নোংরা পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা ও ওজনে কম দেয়ার দায়ে কালী সাহা মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক প্রণয় কুমার সাহাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উল্লেখ্য কালি সাহা মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক প্রণয় কুমার সাহা দীর্ঘদিন ধরে ওজনে কম দিয়ে দই বিক্রি করে আসছিলো। তার দোকনে প্রতিটি দইয়ের পাতিলে ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম দই ওজনে কম দেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সাথে এক সাক্ষাতকারে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রাসেল হাসান বলেন, এ অভিযান রমজান মাস উপলক্ষে নয় বরং এটা আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের একটি অংশ। আজকে সাভারের নামাবাজারে ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসময় বিভিন্ন খাবার হোটেল, মিষ্টি, ফল, ঔষধের দোকানে অনিয়ম দেখে জরিমানা করা হয়েছে ও প্রাথমিকভাবে তাদের সতর্কও করা হয়েছে যাতে তারা ভবিষ্যতে এধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকে।
উল্লেখ্য অভিযান পরিচালনার সময় সাভার উপজেলার স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মো. মোজম্মেল হোসেনসহ পুলিশ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।