সাভারে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ভাতা বহি বিতরণ

প্রকাশিত: ১১:০২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০১৮

সাভারে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ভাতা বহি বিতরণ

সাদ্দাম হোসেন
সাভার উপজেলায় বসবাসকারী মুক্তিযোদ্ধা ও মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বজনদের মাঝে সম্মানী ভাতা পরিশোধের বই বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩রা জুন) সাভার উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এবং ঢাকা-১৯ আসনের সাংসদ ডা. এনামুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ও মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বজনদের মাঝে এ ভাতা পরিশোধের বই বিতরণ করেন। এসময় সাভার উপজেলার ১১৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে এ ভাতা পরিশোধ বই প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে ড. এনামুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। একাত্তরে তারা অসীম সাহসিকতা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাদের আত্মত্যাগের জন্যই আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। তাদের জন্য আজ আমরা একটা স্বাধীন দেশে বসবাস করতে পারছি। যদি তারা সেদিন মুক্তিযুদ্ধে না ঝাঁপিয়ে পড়তেন তাহলে আজও আমরা পরাধীনতার শৃৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকতাম।
এসময় তিনি আরো বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন তাদের জন্য বর্তমান সরাকার রাষ্ট্রীয় ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থার করেছে। বর্তমানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকেও ভাতা দিচ্ছে সরকার। খেতাব, শারীরিক অসামর্থ্যতাসহ নানা বিবেচনায় সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা এবং রেশন হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এক লক্ষ আশি হাজার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান। ২০১৪ সালে এ ভাতা তিনবারে বাড়িয়ে তিন হাজার থেকে দশ হাজার টাকা করা হয়। সম্মানী ভাতা বিতরণ নীতিমালা- ২০১৬ অনুযায়ী ৬৭৭ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে ভাতা দিচ্ছে সরকার। এদের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ ৩০ হাজার, বীর উত্তম ২৫ হাজার, বীর বিক্রম ২০ হাজার, বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ১৫ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা দেয়া হয়।
শারীরিক অসামর্থ্য অনুযায়ী চার ক্যাটাগরিতে মুক্তিযোদ্ধারা ভাতা পেয়ে থাকেন। ৯৬-১০০ শতাংশ শারীরিক অক্ষমদের ‘এ’ শ্রেণি, ৬১-৯৫ শতাংশ অক্ষমদের ‘বি’ শ্রেণি, ২০-৬০ শতাংশ অক্ষমদের ‘সি’ শ্রেণি এবং ১-১৯ শতাংশ অক্ষমদের ‘ডি’ শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। ‘এ’ শ্রেণিভুক্তরা ৪৫ হাজার, ‘বি’ শ্রেণিভুক্তরা ৩৫ হাজার, ‘সি’ শ্রেণিভুক্তরা ৩০ হাজার, এবং ‘ডি’ শ্রেণিভুক্তরা ২৫ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পান। এছাড়াও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা, মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ পরিবারকে ২৮ হাজার টাকা করে ভাতা দেয় সরকার। তবে কোনো মুক্তিযোদ্ধা একাধিক খেতাবপ্রাপ্ত হলে তিনি সর্বোচ্চ খেতাবের জন্য নির্ধারিত হারে একটি সম্মানী ভাতা নিতে পারেন।
মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রাণলয় সূত্রে আরো জানা যায়, বর্তমানে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের ২২ হাজার সদস্যকে রেশন দিচ্ছে সরকার। রেশন হিসেবে প্রতি মাসে একটি পরিবারকে ৩৫ কেজি চাল, ৩০ কেজি আটা, ৫ কেজি চিনি, ৮ লিটার ভোজ্য তেল ও ৮ কেজি ডাল দেয়া হচ্ছে। এছাড়া যুদ্ধাহত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ২২ টি সুবিধা ভোগ করেন। শিক্ষাভাতা হিসেবে দুই কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে প্রতিজন বার্ষিক এক হাজার ছয়শত টাকা এবং বিবাহ ভাতা হিসেবে অনধিক দুই কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে প্রতিজনের ক্ষেত্রে উনিশ হাজার টাকা করে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বছরে দুটি ঈদে মূল ভাতার সমপরিমাণ অর্থ এবং ২৬শে মার্চ ও ১৬ই ডিসেম্বর ৪৮০ টাকা করে প্রীতিভোজের জন্য দেয়া হচ্ছে। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে খরচ বহন করা হচ্ছে। আর বিদেশে চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ আট লক্ষ টাকা করে সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি পরিচয়পত্র দেয়া হচ্ছে। এটি প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নবায়ন করতে হয়। এই পরিচয়পত্র দেখিয়ে সরকারি যানবাহনে বিনা ভাড়ায় যাতায়ত করতে পারছেন মুক্তিযোদ্ধারা। এছাড়া বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরীন সব রুটে বছরে একবার ও আন্তজার্তিক রুটে বছরে দুইবার বিনা ভাড়ায় যাতায়তের সুবিধা দেয়া হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সরবরাহ করা হচ্ছে। হুইলচেয়ারে চলাচলকারী মুক্তিযোদ্ধাদের বছরে একবার ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের ব্যবস্থা করেছে সরকার। এছাড়া তাদের একটি মোবাইল ফোন এবং সর্বোচ্চ এক হাজার নয়শত টাকা পর্যন্ত মোবাইল বিল দেয়া হচ্ছে।
সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের প্রতি সদস্যকে দৈনিক ১২৫ লিটার পানির বিল মওকুফের সুবিধা দেয়া হচ্ছে। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার নিজস্ব বাড়ির ১৫শত বর্গফুট পর্যন্ত হোল্ডিং ট্যাক্স, দুই বার্নার গ্যাসের বিল, দুইশ ইউনিট বিদ্যুৎ বিল মওকুফের সুবিধা পাচ্ছে।
এভানে বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে সাভারে ১১৬ জন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ভাতা বই বিতরণ করা হয়েছে।