সালোয়ারের ওপর গেঞ্জি নিষিদ্ধের নোটিশে ছাত্রী হলে অস্বীকার হল প্রশাসনের।

প্রকাশিত: ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০১৭

সালোয়ারের ওপর গেঞ্জি নিষিদ্ধের নোটিশে ছাত্রী হলে অস্বীকার হল প্রশাসনের।

এর আগে বুধবার, ২৩ আগস্ট হলের ভিতরে বিভিন্ন স্থানে সাঁটানো নোটিশে হল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বলা হয় ‘হলের অভ্যন্তরে দিনের বেলা ও রাতের বেলা কখনোই অশালীন পোশাক (সালোয়ারের ওপর গেঞ্জি) পরে ঘোরাফেরা করা অথবা হল অফিসে কোনো কাজের জন্য প্রবেশ করা যাবে না। অন্যথায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য কর্তৃপক্ষ বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিবে।’

এই নোটিশ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে বুহস্পতিবার সকাল দশটার দিকে আরেকটি নোটিশ দেয়া হয়। যাতে উল্লেখ করা ছিল, ‘সকল আবাসিক ছাত্রীদের জানানো যাচ্ছে যে, ছাত্রীদের কক্ষ, বারান্দা, বাথরুম ও ব্যক্তিগত এলাকা ব্যতীত অত্র অফিস এলাকায়/হল অফিসে যে কোন কাজের জন্য যথাযথ পোশাক পরিধান করে আসতে হবে। হলের ভাবমূর্তি রক্ষা করবার দায়িত্ব সকলের।’ এ বিজ্ঞপ্তিতেও ‘আদেশক্রমে- হল কর্তৃপক্ষ’ লেখা থাকলেও তাতে কারো স্বাক্ষর ছিল না।

তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে হলের আবাসিক শিক্ষক ড. ফাহমিদা ইয়াসমিন মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন যে, বৃহস্পতিবার ছাত্রীদের পোশাক উল্লেখ করে যে নোটিশ দেয়া হয়েছে তার দায়িত্ব হল কর্তৃপক্ষ নেবে না। তবে বৃহস্পতিবার সকালে ‘ছাত্রীদের কক্ষ, বারান্দা, বাথরুম ও ব্যক্তিগত এলাকা’ উল্লেখ করে যে নোটিশ দেয়া হয়েছে তার দায়িত্ব হল কর্তৃপক্ষ নিবে। দ্বিতীয় নোটিশ হল কর্তৃপক্ষের নোটিশ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হলে ২২ শ মেয়ে আছে। তাদের বাবা, মা, গেস্টসহ অনেককে নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়। হলের ইন্টারনাল বিষয়ে আজকের (দ্বিতীয়) নোটিশটি দেওয়া হয়েছে।’

hall notice

তবে সর্বশেষ এক বিজ্ঞপ্তিতে আগের দুটি বিজ্ঞপ্তির কথাই অস্বীকার করা হয়েছে। এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিতা রেজওয়ানা রহমান টোয়িন্টিফোর লাইভ নিউজপেপারকে বলেন, ‘হলে ছাত্রীদের পোশাক নিয়ে পরপর যে দুটি নোটিশ দেয়া হয়েছে তাতে হল প্রশাসনের কোন স্বাক্ষর ছিল না। স্বাক্ষরবিহীন নোটিশের দায়ভার হল প্রশাসনের নয়। সিনিয়র ম্যামদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’

ছাত্রীরা কি এ ধরনের নোটিশ হল কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে দিতে পারে? -জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে এবং হল প্রশাসনকে বিতর্কে ফেলতে কেউ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এ নোটিশ দিয়ে থাকতে পারে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাধারণ ছাত্রী বলেন, ‘এটা কি হচ্ছে বুঝতে পারছি না, নোটিশের উপর নোটিশ দেয়া হচ্ছে! আমরা খুবই বিব্রত বোধ করছি।’ অপর এক ছাত্রী বলেন, ‘হল কর্তৃপক্ষ যদি না দেয় তাহলে কে দেবে এই নোটিশ? সমালোচনার মুখে পড়ে এখন দোষ অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন।’

সুত্র:টোয়িন্টিফোর লাইভ নিউজপেপার