নেত্রীর জামিন ও আমাদের স্বস্তি

প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২০

নেত্রীর জামিন  ও আমাদের স্বস্তি

সিমকী ইমাম খান

১৫

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারপার্সন ও তিন বারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী,গণতন্ত্রের মা,দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত মিথ্যা মামলা সহ ম্যাডামের আরো বেশ কয়েকটি মামলার আইনজীবী হিসেবে এ্ডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া অনেক সাহসিকতার সহিত সৎ ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।আমি এ্ডভোকেট সিমকী ইমাম খান সানাউল্লাহ মিয়া সাথে প্রতিটি মামলায় ঐ সময়ে সহযোগী আইনজীবী হিসেবে আদালতে কাজ করেছি। ওই মামলাগুলোতে সহযোগী আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার মুহুর্তে সরকার পক্ষের আইনজীবীদের রোষানলে পড়ে চক্ষুশূল হয়েছি তবুও কখনো ভয় পাই নি বরং অকূতোভয়ে সর্বদা সচেষ্ঠ থেকে বেগম জিয়ার পক্ষে সু-বিচারের জন্য আদালতে লড়াই করেছি এবং আইনজীবী ফোরামের নেত্রী হিসেবেও বেগম খালেদা জিয়ার জন্য কোর্ট প্রাঙ্গনে মিছিল,মানববন্ধন,সাংবাদিক সম্মেলন করেছি। এ্ডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে শারিরিকভাবে প্যারালাইজড হয়ে যাবার পর তিনি আর কোর্টে যেতে পারেননি ।


দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০২০ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উচ্চ আদালতের জামিন আবেদনটি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ খারিজ করে দিয়েছেন এবং আদালত থেকে বলা হয়েছিলো যে, বিএসএমএমইউ’র সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। যেহেতু, তিনি কারাবন্দি রয়েছেন, জেল কোড অনুযায়ী তাকে চিকিৎসা দেওয়া হবে। এর বাইরে গিয়ে তার ইচ্ছামতো চিকিৎসা দেওয়া যাবে না। কিন্তু খালেদা জিয়া আদালতের এই মতামতের উপর ভিত্তি করে বিএসএমএমউ এ তার আর্থরাইটিসের জন্য নির্ভরযোগ্যহীন উন্নত চিকিৎসায় সম্মতি দেননি।
বাংলাদেশে কারাবন্দী বিএনপি আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন তার ভাই-বোনেরা।

বিদেশে পাঠানোর জন্য মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ চেয়ে তাঁর পরিবারের পক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে আবেদন করেন।

কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এমন আবেদন করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মেডিকেল বোর্ড যেন বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে সরকারকে সুপারিশ করে সেজন্য তাদের এই আবেদন।

এই আবেদন করার পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা খালেদা জিয়াকে দেখতে গিয়ে তাঁর বোন সেলিমা ইসলাম জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার শারিরীক অবস্থা প্রতিনিয়ত খারাপ হচ্ছে এবং সেজন্য তারা বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে হলেও তাঁর মুক্তি চান এবং তিনি বিবিসি’র সাক্ষাৎকারেও বলেছিলেন, আমরা চাচ্ছি সরকার বিবেচনা করুক। যেভাবেই হোক, তাকে বিদেশে নেয়ার জন্য আমাদের পারমিশন দিক। প্যারোলে দিলেও দিতে পারে। কারণ তাঁর অবস্থা খুবই খারাপ।

একইসাথে তিনি বলেন, আবেদনে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চেয়েছি। আর বলেছি যে, নি:শর্ত মুক্তি দিতে। কারণ এটা মিথ্যা মামলা। সেজন্য আমরা নি:শর্ত মুক্তির জন্য বলেছি।

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে এই প্রথম তার পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার লিখিত আবেদন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে।

মি: ইস্কান্দার আবেদনে লিখেছেন, খালেদা জিয়ার দ্রুত অবনতিশীল স্বাস্থ্যের পরিপ্রেক্ষিতে যেকোন অপূরণীয় ক্ষতি এড়াতে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত বিদেশী হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন।

খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যয় বহন করে এবং তাদের দায়িত্বে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এই আবেদনে।

অতঃপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনে কোন সারা না পেয়ে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করে তার নিকট বিশেষ চিঠিতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আবেদন করেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে দলের আন্দোলন ও আইনি লড়াই সফল না হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নির্দেশে সরকারের নির্বাহী আদেশে বেগম খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত রেখে তাকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দেয় এবং সরকারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়ার বয়স, শারীরিক অসুস্থতা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে শর্ত সাপেক্ষে তাঁকে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকার খালেদা জিয়াকে এমন সময়ে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল, যখন সারা দেশ করোনাভাইরাসের কারণে অবরুদ্ধ। অবরুদ্ধ বাংলাদেশে একজন প্রবীণ রাজনীতিকের, যিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করে এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন, তাঁর মুক্তির সংবাদ নিশ্চয়ই স্বস্তির। আমরা তাঁর মামলার গুণাগুণ বিচার করতে যাচ্ছি না। বিচারিক আদালতে দুটি মামলায় তিনি দণ্ডিত হলেও উচ্চ আদালতে তা বিচারাধীন আছে। এ অবস্থায় যেকোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির জামিন পাওয়ার অধিকার আছে। এর আগে সাবেক সামরিক শাসক এরশাদসহ আরও অনেককে একই ধরনের মামলায় জামিন দেওয়া হয়েছে।
২৫ শে মার্চ ২০২০ বুধবার বেলা দুইটার কিছু পর কারা কর্তৃপক্ষ মুক্তির ছাড়পত্র নিয়ে বিএসএমএমইউতে যায়। অতঃপর বিকেল সোয়া চারটায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে(বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেল থেকে ০২ বছর ৪৫ দিন কারান্তরীন থাকার পর অবশেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছেন।

খালেদা জিয়াকে তাঁর ভাই শামীম ইস্কান্দার, বোন সেলিনা ইসলাম ও ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমানের বড় বোন শাহিনা খান জামিন আনতে যান। বেলা আড়াইটার দিকে তাঁদের গাড়ি হাসপাতাল চত্বরে ঢোকার পরই কয়েক শত নেতা-কর্মী সেখানে জড়ো হন। স্বজনেরা সেখানে পৌঁছানোর মিনিট দশেক আগে আসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গোলাপি রঙের শাড়ি পরিহিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউ’র কেবিন ব্লক থেকে বের হন বিকেল সোয়া চারটায়। চোখে ছিল রোদচশমা। তিনি বেরিয়ে আসার পরপরই হাসপাতালের ভেতরেই তাঁর গাড়িকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের প্রচণ্ড ভিড় জমে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার যে নির্দেশনা, সে কথা কারও মাথায় ছিল বলে মনে হয়নি। তিনি বিএসএমএমইউ থেকে বের হওয়ার পর গাড়ির সঙ্গে সঙ্গে নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ মোটরসাইকেলে এবং একটি বড় অংশ মানুষ হেঁটে এগোতে থাকে। কারও কারও হাতে ছিল হাতে লেখা প্ল্যাকার্ড। নেতা-কর্মীদের ভিড়ের কারণে খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ি ধীরগতিতে এগোচ্ছিল। দীর্ঘদিন পর দেশনেত্রীর মুক্তির সু-সংবাদে নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমাগমে মুখরিত হবার পরিস্থিতিতে একপর্যায়ে পুলিশ বিএনপির নেতা-কর্মীদের লাঠিচার্জ শুরু করে।

বহুদিন পর হলেও দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তিতে বিএনপি’র সর্বস্তরের নেতাকর্মী স্বস্তিবোধ করছেন সেই সঙ্গে তাদের মধ্যে আতঙ্কও বিরাজ করছে করোনা ভাইরাসের মহামারী রোগের সংকটময় পরিবেশের বৈরী অবস্থার কারনে। বেগম জিয়া কারমুক্তির পর তার পরিবার তাকে সরাসরি গুলশানের ভাড়া বাড়ী “ফিরোজা”তে নিয়ে যান।

এদিকে এ্ডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় দেশনেন্ত্রীর কারামুক্তির সু-সংবাদ পেয়ে খুশি হয়েছিলেন কিন্তু অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় তিনি ২৭ মার্চ হাসপাতালে অকাল বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং তার মৃত্যুর খবর শুনে সদ্য কারামুক্তি পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেছেন এবং দলীয় মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির নেত্রীবৃন্দ সহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মী তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।বেগম জিয়া বর্তমানে কারামুক্তির পর থেকে গুলশানে তার বাড়ীতে পারিবারিক পরিবেশে বিশেষভাবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কিছুটা সুস্থতাবোধ করছেন ।
আমি , এ্ডভোকেট সিমকী ইমাম খান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সংবাদ পেয়ে আনন্দে আত্বহারা হয়েছি । আমি মনে প্রাণে ম্যাডাম জিয়ার জন্য প্রতিটি দিন দোয়া করেছি যেন তিনি যে কোন মুহুর্তে জেল থেকে মুক্তি লাভ করেন। আল্লাহ সুবাহানা তাআলা আমাদের সকলের দোয়া কবুল করেছেন। আমরা জাতীয়তাবাদী আদর্শের সকল নেত্রীবৃন্দ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারিরিক সুস্থতার জন্য দোয়া করছি। তিনি যেন অতিদ্রুত সময়ে সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে নতুন উদ্যমে ফিরে আসেন এবং আল্লাহ তাকে দীর্ঘায়ু দান করেন ,আমিন ।।

ছড়িয়ে দিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

December 2021
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031