মার্চ ফর ডেমোক্রেসি

প্রকাশিত: ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২০

মার্চ ফর ডেমোক্রেসি

সিমকী ইমাম খান

৭,

সক্রিয় রাজনীতি করতে গিয়ে যেমন সরকার দলের দমন নিপীড়নের শিকার হলাম, তেমনি টের পেলাম দলের ভেতরেই মীরজাফরের অস্তিত্ব । এ ধরণের কুচক্রী মহল অবশ্য সব দলেই কম বেশী আছে । কিন্তু এদেরকে চিনতে কখনো কখনো অনেক সময় লেগে যায়। এদের কারণে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিএনপির রাজনীতি ।
২০১৩ সালের শেষ প্রান্তে এসে ১৮ দলের পক্ষ থেকে বেগম জিয়া ঘোষণা করেন মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচি । সেদিন কি ঘটেছিল, সাংবাদিকেরাই তা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। এখনো সংবাদপত্র ঘাটলে সেসব তথ্য বেরিয়ে আসবে ।
২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর রোববার বিকালে গুলশানের বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর আগে দুপুর ৩টার পর বেগম জিয়া নয়পল্টনে কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার জন্য বাসভবন থেকে বের হয়ে গেটে অবস্থান নেন। নয়পল্টনে আসার জন্য গাড়িতে উঠে প্রায় আধাঘন্টা পর্যন্ত বাসভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশ বেগম জিয়াকে বের হতে না দেয়ায় তিনি আবারো বাসভবনে চলে যান।
এসময় মার্চ ফর ডেমোক্রেসিতে কেন যেতে দেয়া হচ্ছে না তা উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চেয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আমাকে কেন অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমাকে যেতে দিন, যেতেই হবে। খালেদা জিয়া গাড়ি থেকে নেমে পতাকা হাতে বাড়ির প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। বাসা থেকে বের হতে না পেরে খালেদা জিয়া পুলিশদের উদ্ধেশ্য করে বলেন, আপনাদের অফিসার কোথায়? এতক্ষণ তো অনেক কথা বলেছেন….মুখটা বন্ধ কেন এখন?

পুলিশের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে থাকুন। জনগণের সঙ্গে থাকেন। দেশের মানুষের সঙ্গে থাকেন। তবেই কাজে দেবে। দেশ বাঁচবে, মানুষ বাঁচবে। আজকে সবার দায়িত্ব হয়ে গেছে দেশ বাঁচানো। আর আপনারা এখন ঘরে ঘরে ঢুকে মানুষ হত্যা করছেন। মনে করেন এগুলোর হিসাব নাই? এই মা-বোনের কান্না। বিডিআরের অফিসারদের ওয়াইফদের কান্না এগুলো কি বৃথা যাবে? এগুলো কোনো দিন বৃথা যাবে না। আজকে যাঁরা এই জুলুম নির্যাতন করছেন, তাঁদেরকে একদিন এদের মতো চোখের পানি ফেলতে ফেলতে চোখ অন্ধ হয়ে যাবে।

গণতন্ত্রের অভিযাত্রা কর্মসূচিতে শামিল হতে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও বের হতে পারেননি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য খালেদা জিয়া পল্‌টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাবার জন্য চেষ্টা করেন। রোববার দুপুর সোয়া ১টার দিকে খালেদা জিয়া গাড়িতেও উঠে বসলেও বাসার প্রধান ফটক পুলিশ ঘিরে রাখায় তিনি বের হতে পারেননি।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে তিনি একবার গাড়িতে উঠে বসলেও বের হতে না পেরে গাড়ি থেকে নেমে যান। বেলা পেৌনে তিনটার দিকে বেগম খালেদা জিয়া আবার বাসা থেকে বের হবার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়। পেৌনে তিনটার দিকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দ্বিতীয় দফায় বাসা থেকে বের হবার উদ্দেশ্যে গাড়িতে উঠে বসেন। তবে পুলিশের বাধার মুখে তিনি বের হতে পারেননি। বাসার গেট বন্ধ করে বাইরে আইনশৃ্ংখলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এসময় মহিলা পুলিশরা বাসার দরজা ঘিরে রাকে। একজন মহিলা পুলিশ কর্মকর্তা বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রচুর পুলিশ বাসার গেটে অবস্থান নেয়। সাংবাদিকদেরও এসময় বাসার গেটের সামনে দাঁড়াতে দেয়নি পুলিশ ।
রোববার সকাল থেকেই গুলশানের বাসভবনের সামনে পুলিশের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে। আট প্লাটুন পুলিশ বাড়িটি ঘিরে রেখেছে। বেলা ২টার পর আরো দুই প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির সামনে একটি জলকামান নেয়া হয়। এ ছাড়া বাড়ির সামনের রাস্তায় বালুভর্তি তিনটি ট্রাক ও পেছনের রাস্তায় দুটি ট্রাক আড়াআড়িভাবে রেখে সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে রক্ত দিয়ে হলেও বিএনপির মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচি প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে অপরিচিত কাউকে দেখলেই পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা বলেছেন, খালেদা জিয়া শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করবেন তার কোনো গ্যারান্টি নেই। ঢাকা শহরে নৈরাজ্য করতে তিনি সারা দেশ থেকে সন্ত্রাসী জঙ্গিদের ঢাকায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের এই নৈরাজ্যমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা হবে।

আগের দিন বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগ নেতারা এসব কথা বলেন। সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজের সভাপতিত্বে প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, মুকুল চৌধুরী, শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

২০১৩ সালের ২৯ শে ডিসেম্বর আমরা যখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের নির্দেশে হাইকোর্ট চত্বরে মার্চ ফর ডেমোক্রেসির আন্দোলনে অংশগ্রহণ করি ঠিক তখনই আমার মনের ভেতর এক ধরনের আধ্যাত্মিক ধারণা কাজ করেছে ।কেন যেন আমার মনে হয়েছিল , আজ কোন একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছি ইনশাল্লাহ যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এবং বিপর্যয় আসলে অন্ততপক্ষে সবাই পিছু হটে গেলেও আমি অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম খান কখনোই একচুল পিছপা হব না । এবং আমি প্রয়োজনে মিছিলের সামনে থেকে গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করবো ।


আমরা ছিলাম হাইকোর্ট চত্বরে । ন্যয়বিচারের এই পীঠস্থান সবার কাছেই পবিত্র ও সন্মানিত । হঠাত করেই আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে আওয়ামী লীগের একদল উশৃংখল নেতাকর্মী আমাদের ওপরে হামলা চালালো । না, দলীয় পরিচয় দিয়ে ওদের সম্মানিত করবো না । ওরা সন্ত্রাসী । একজন আইনজীবী হিসেবে আমার কাছে স্রেফ দুষ্কৃতিকারী । ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় ওরা হাইকোর্ট চত্বরে আমার ওপর লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার শুরু করে ।সুপ্রিম কোর্টের ফটক আটকে দেয় পুলিশ। জলকামান আমাদের ভিজিয়ে দেয়। তারপর একসময় দেখি, ফটকের তালা খুলে শত শত লোক ধর ধর করে ভেতরে ঢুকে গেল। স্যান্ডেল ভেজা থাকায় ভালোভাবে দৌড়াতে পারছিলাম না। একপর্যায়ে আমাকে ২০ থেকে ৩০ জন ধরে ফেলে দুই কান ধরে এলোপাতাড়ি লাথি, চড়, কিল, ঘুষি মারতে থাকল। আমার জামা ছিঁড়ে ফেলে। একেক জনের হাতে বড় বড় লাঠির মাথায় জাতীয় পতাকা বাঁধা। সেই লাঠি দিয়েই সমানে মারতে থাকে । একপর্যায়ে আমাকে লাথি দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় । এরপর পা দিয়ে মাটিতে পিষতে থাকে । আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে তারা পা দিয়ে জোরে জোরে আঘাত করতে থাকে । আমি হাত দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করি । কিন্তু পারি না। উপস্থিত অনেকেই আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে কিন্তু ভয়ে সামনে আগায় না । একজন নির্ভীক সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাকে এদের হাত থেকে রক্ষা করেন । ওই সন্ত্রাসীদের বাবা মায়ের পরিচয় থাকে না। ওদের একটাই পরিচয় , ওরা ক্ষমতাসীন । ওদের হাতেই প্রাণ দিয়েছেন বিশ্বজিত , আবরার সহ অসংখ্য নীরিহ নিরস্ত্র মানুষ । আমি আল্লাহর রহমতে ওইদিন প্রাণে বেঁচে যাই।
পরে তারা আমাকে ওখান থেকে উদ্ধার করে নিরাপত্তার খাতিরে আমাকে বাসায় পৌঁছে দেন। সেখান থেকে আমার পরিবারের লোকজন বিশেষ করে আমার মেয়েরা আমাকে কালবিলম্ব না করে দ্রুত একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করে । ওখানে আমি চরম ব্যথা-বেদনায় ভুগছিলাম পরে ডাক্তার আমাকে পরামর্শ দিল আপনি যে আঘাত পেয়েছেন এই আঘাতের চিকিৎসা করাতে আপনাকে হসপিটালে দীর্ঘদিন অবস্থান করতে হবে । যদি সম্ভব হয় আপনি হসপিটালে অন্তত এক মাসের জন্য ভর্তি হয়ে যান। আমি আমার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দু’একদিন হাসপাতাল অবস্থান করে বাড়িতে ফিরে আসি পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমি কিছুদিন পরেই ব্যাংককে চলে যাই ।
ব্যাংককে ডাক্তারেরা আমাকে দেখে অবাক হয় । অবাক হওয়ার কারণ , নরপশুরা আমাকে যেভাবে প্রহার করেছে তার প্রতিটি ক্ষতচিহ্ন দৃশ্যমান । আমার হাতে-পায়ে পিঠে কোমরে এবং মাথায়, চোয়ালের ডান পাশে প্রচন্ড রকমের জখম হয়ে ভিতরে রক্ত জমে যায় । এই পরিস্থিতিতে ব্যংককের ডাক্তাররা আমাকে বহু যত্ন সহকারে চিকিৎসা সেবা দিতে থাকে । তারা আমাকে পরামর্শ দেন, আপনি আপাতত ব্যাংককে চিকিৎসা করে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান । পরে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার জন্য আপনাকে বারবার ব্যাংককে আসতে হবে । আমি কিছু চিকিৎসা নিয়ে আবার ঢাকায় চলে আসি । ডাক্তার আমাকে পরবর্তী এপয়েনমেণ্ট দিয়ে দেন । পরবর্তী তারিখে এসে আমার ফুল বডি চেকআপ করে আবারো চিকিৎসা সেবা গ্রহণ জন্য অনুরোধ করেন।
এইভাবে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়ে আসছি । বিদেশে গেলে আমার প্রথম সিদ্ধান্তই থাকে আগে চিকিৎসা করাবো । তারপর আমার অন্যান্য টুকটাক কাজ সেরে আমি দেশে ফিরে আসি। আমার বিদেশে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য থাকে চিকিৎসা করার । কারণ আমার শরীরে যে পরিমাণ ব্যথা এখনো আমি অনুভব করি মনে হয় না ভবিষ্যতে সুস্থভাবে আর দশটা মানুষের মত স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারব । অনেকেই আমাকে দেখে হয়তো ভাবতে পারে আমি সুস্থ, কিন্তু না । আমি যে আঘাত পেয়েছি যে স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে আমি আঘাত পেয়েছি তা কোনভাবেই কাউকে দেখানোর মত নয় একান্তই ব্যক্তিগত মানুষ ছাড়া এ ধরনের আঘাতের চিহ্ন একটা মেয়ে মানুষের পক্ষে কাউকে দেখানো সম্ভব না । এখনো আমার দুই পা ব্যথায় মাঝেমাঝে আমি অচল হয়ে যায় । পায়ের ব্যথায় আমি দরজা লাগিয়ে চিৎকার করে কান্নাকাটি করি আর বলি কি অন্যায় করেছিলাম আমি? কি দোষে আমাকে এইভাবে বেদম প্রহার করা হলো ।
আজ আমি শারীরিক যন্ত্রণায় বিছানায় পড়ে কাঁতরাই । খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটি । আমি তো মায়ের জাত । আমি একজন নারী । আমি কারো বোন , আমি কারো মা, কারো কন্যা । ভাবতে অবাক লাগে একজন নারীর গায়ে কিভাবে মানুষ এইভাবে আঘাত করতে পারে? আমার মাঝে মাঝে মনে হয় কোন অসভ্য দেশে আমরা বসবাস করছি।
আমি আহত হবার এক দিন পর বেডে শুয়েই প্রথম আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছিলাম,”আমি একজন নারী, একজন আইনজীবী—এসব না-হয় বাদই দিলাম। আমি তো একজন মানুষ। আমি বিএনপি করি। শুধু এই কারণে ২০ থেকে ২৫ জন পুরুষ আমার ওপর চড়াও হয়ে অমানবিক নির্যাতন করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার আইনজীবী সিমকী ইমাম খান প্রথম আলোর কাছে এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গত ২৯ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা এই আইনজীবীর ওপর হামলা চালান।
সিমকী ইমাম জানালেন, তিনি বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হওয়ায় সেখান থেকে এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটার পরও দেশের মানবাধিকারকর্মীরা নিশ্চুপ রয়েছেন।… ”


আমি দলের জন্য দেশের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়েছি কিন্তু এর প্রতিদান হিসেবে দলের প্রতি আমার যে প্রত্যাশা ছিল আমি যথাযথভাবে পাইনি । এখন কেউ যদি আমাকে প্রশ্ন করে আপনার কতটুকু চাওয়া ছিল কতটুকু পাওয়া ছিল আমি বলবো , আমার চাওয়া পাওয়া বলতে ব্যক্তিগত কিছু নয় । আমার চাওয়া পাওয়া ছিল বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের মুক্তির পতাকা আবারও উত্তোলিত হবে ।
মানুষ হিসাবে দলের প্রতি দেশের প্রতি আমার ছোটখাটো চাওয়া পাওয়া থাকতেই পারে । আমি অনেক সংগ্রাম করে অনেক যুদ্ধ করে বহু প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আজ রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয়েছি । সেই তুলনায় দল হয়তো আমাকে যথাযথ মূল্যায়ন করেনি ।আমি আহত হওয়ার পর সবাই কমবেশি সমবেদনা জানিয়েছে কিন্তু দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অনেক সময় কতিপয় স্বার্থন্বেষী নেতা, নেত্রীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি । কখনোই মুখ ফুটে কাউকে কোন অভিযোগ করিনি । কারণ সব বিচারের মালিক তো আমাদের মহান আল্লাহ ।
কিছু বিষয় আজো আমাকে ব্যথিত করে মর্মাহত করে । তা হল আমাকে মার্চ ফর ডেমোক্রেসি আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার কারনে আরো ভালোভাবে মূল্যায়ন করতে পারতো । কিন্তু তা তো করেই নি । আমার এই ঘটনাকে ইস্যু করে সব কিছু ওলট পালট করে দিতে পারত, সেটাও করে নি।
কেন করেনি তা আমার জানা নেই ।
একজন নারীকে যখন কেউ হত্যার উদ্দেশ্যে পদতলে পিষ্ট করে প্রকাশ্যে দিবালোকে , তাও আবার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন যেখানে চর্চা হয় সেই হাইকোর্ট চত্বরে , সেটা নিঃসন্দেহে একটি রাজনৈতিক বড় ধরনের ইস্যুতে পরিণত হতে পারত । কিন্তু দল সেটা করেনি । বাংলাদেশের সমস্ত ইলেক্ট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ার ভাইয়েরা এই বিষয়টাকে দেশেবিদেশে ব্যাপকভাবে তুলে ধরে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে । আমার দুঃখ এখানেই । বিষয়টা দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ফলাও হয়েছে ব্যাপকভাবে ।
আমার শরীরের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে আমাকে মারে নাই । আমি এখন পর্যন্ত ঠিকমত হাঁটতে পারি না । মিছিল করতে পারি না । আমার ওপর যে পাশবিক হামলা চালানো হয়েছে তা অবশ্যই নিন্দনীয় ঘটনা । মার্চ ফর ডেমক্রেসিতে আমি যে ভাবে লাঞ্ছিত হয়েছি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, তা কিছুতেই পূরণ হবার নয় ।

আমি কখনই ব্যক্তিগত স্বার্থের কথা চিন্তা করে চলাফেরা করি না । বেঁচে থাকার জন্য
আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করি।

এডভোকেট সিমকী ইমাম খান ঃ সদস্য, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটি

ছড়িয়ে দিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

December 2021
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031