সিমকী খান বাগিচার অলৌকিক বিষয় আশয়

প্রকাশিত: ৬:৪২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২০

সিমকী খান বাগিচার অলৌকিক বিষয় আশয়

সিমকী ইমাম খান

১০

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে বলেছিলেন পিতৃভূমি সিরাজগঞ্জে কাজ করতে। সেখানকার মাটি ও মানুষের উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে। মজা করে বলেছেন, তার কাছে উল্লাপাড়া মানেই সিমকী ইমাম খান । আমি তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করে সিরাজগঞ্জে ব্যাপকভাবে কাজ করেছি। যে কোন কাজ সুষ্ঠু ভাবে করতে হলে একটা কেন্দ্র দরকার হয় । সেই কেন্দ্রবিন্দুকে ঘিরেই রচিত হয় বৃত্ত । আর সেকারণেই সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় আমার নিজস্ব ভূমিতে গড়ে তুলেছি সিমকী খান বাগিচা । সিরাজগঞ্জের কৃতি সন্তান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইও জানেন এই বাগিচার কথা ।


টুকু ভাইয়ের স্ত্রী সাবেক এম পি রুমানা মাহমুদ আমাকে ছোটবোনের মতো ভালবাসেন ।

আমার জীবনে যা কিছু অর্জন করেছি তা হালাল উপায়েই অর্জন করেছি । আমি তা হলফ করে বলতে পারি। কখনোই কারোর এক পয়সাও মেরে খাইনি । কারো বাড়া ভাতে ছাই ঢালিনি । আল্লাহপাক আমাকে বাড়ি গাড়ি সহ যে অর্থ সম্পদ দিয়েছেন তা আমি একান্তই নিজস্ব প্রচেষ্টায় করেছি সৎ ভাবে ও সততা দিয়ে। সাদা ভাবে সাদা পথে হাটি হাটি পা পা করে । আমার উপার্জিত প্রতিটি অর্থ আমার রক্ত ঘাম ঝরিয়ে করা । আমি আমার উপার্জিত সেই অর্থ সম্পদ দিয়ে কখনোই নিজের ব্যক্তিগত কোন বিলাসিতার চিন্তা করিনি । বরং সবসময়ই মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছি । তা অর্থ দিয়ে হোক, সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে হোক কিংবা কোনো বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে হোক। ব্যক্তিগত জীবনে আমি স্বচ্ছতার সঙ্গে চলাফেরা করি । আমি সাদাকে সাদা বলি, কালোকে কালো বলি তাতে যদি কেউ কষ্ট পায় আমার তাতে কোন কিছু আসে যায় না । কারণ এই জগতে কাউকে না কাউকে সত্যের পতাকা বহন করে সামনে এগুতে হবে । তাই আমি মনে করি সত্যের পতাকাবাহী একজনের মধ্যে আমিও আছি।

আমি আমার এলাকায় জনগণের বৃহৎ স্বার্থের কথা চিন্তা করে সিমকী খান বাগিচা নামে এই বাড়ি করেছি । তাতে পাঁচ হাজারের অধিক বিভিন্ন ধরনের গাছ গাছালি দিয়ে ফলে ফুলে সজ্জিত করে অপরূপ নান্দনিক দৃষ্টিনন্দন একটি পরিবেশ তৈরি করেছি , যাতে মানুষ আমার বাড়িতে বেড়াতে এসে মনে আনন্দ উপভোগ করতে পারে । শুধু তাই নয়, এখানে জনগণের কল্যাণে আমার বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে যা আমি ভবিষ্যতে বাস্তবায়ন করে আমার এলাকা সহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা অতিথিদেরকে নির্মল আনন্দ ও সারপ্রাইজ দেবো বলে ভাবছি।
সিমকী খান বাগিচার ইতিহাস বড় নির্মম । এই বাড়ির তৈরি করার পেছনে আমাকে বহু ধরনের ত্যাগ তিতিক্ষা ও নানা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আসতে হয়েছে । কিন্তু আমি কোন বাধা-বিপত্তির কাছে মাথা নত করিনি বরং মানুষের জন্য আমার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার লক্ষে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছি । কিছু মানুষ এই বাড়িটিকে কেন্দ্র করে এখনো ষড়যন্ত্র করে আসছে । কিন্তু এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রকারীরা কোনভাবেই সফল হতে পারবে না ইনশাল্লাহ । কারণ আমার নিয়্যাত নেক ও ছহি ।
আমি স্বপ্ন দেখি , আমার নির্বাচনী এলাকা সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া নেওয়ার গাছা উপজেলার গণমানুষের একফোঁটা বিশ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে এই সিমকী খান বাগিচাটি ।এ-ই বাড়িটি কে কেন্দ্র করে আমি বহু সুদূরপ্রসারি চিন্তাভাবনা নিয়ে সামনে এগুচ্ছি সামান্য একটু কথা না বললেই নয় আমার ভবিষ্যৎ চিন্তাধারার একটি হলো এই বাড়িতে এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে এলাকার জনগণের স্বাস্থ্য সুবিধার্থে সিমকী খান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ার চিন্তা চেতনা রয়েছে তা আমি একদিন বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ ।
এক অজানা রহস্যে ঘেরা এই সিমকী খান বাগিচ, সিমকী বাগিচায় গেট থেকে একটু ভেতরে ঢুকেই হাতের বাম পাশে একটি লিচু গাছ রয়েছে যা অনেক পুরনো । সেখানে নিচুতলার পরিবেশটা বেশ চমৎকার। ভ্রমরের গুঞ্জন আর পাখিদের কলরবে মুখরিত হয়ে যায় সেই লিচুবাগান। সেই লিচুতলাটি অত্যন্ত সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে বসার বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে সাজানো হয়েছে। লিচু যখন আস্তে আস্তে বড় হয় তখন এক অপরূপ নান্দনিক সৌন্দর্য চোখে পড়ে মনে হয় যেন সৃষ্টিকর্তা কত মহান তার সৃষ্টি কত সুন্দর তিনি ফুল-ফল পশুপাখি নদী-নালা গাছগাছালি পাহাড়-পর্বত দিয়ে পৃথিবীটাকে কত সুন্দর অপরূপ সৌন্দর্যে মুখরিত করে রেখেছেন।
বলতে ইচ্ছে করে ফাবি আইয়ি আলাইয়ি রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান, হে আল্লাহ তোমার কোন নিয়ামত আমরা অস্বীকার করিব। লিচু বাগানের একটু দূরেই একটি পুকুর রয়েছে।পুকুরটি বেশ পুরানো । পদ্ম ফুলে ডেকে যাওয়া পুকুরটি প্রতি বর্ষার মৌসুমে যখন পানিতে ডুবো ডুবো করে তখন মনে হয় যেন পুকুরের পাড়ে বসে চন্ডিদাসের মত বড়শি বেয়ে কাটিয়ে দেই সারাটা জীবন । কোন এক অজানা আগন্তুক এর অপেক্ষায়। চতুর্দিকে গাছগাছালী দিয়ে আবৃত এই পুকুরের পানি বেশ ঠান্ডা । পুকুরে হাঁসেরা খেলা করে নিজের আনন্দে । মাছেরা বিচরণ করে অবাধে আর পদ্মফুলগুলো মানুষ দেখে মিটি মিটি করে হাসে । মনে হয় যেন প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মিলন মেলা।
পুকুরটিতে বেশ আধ্যাত্মিকতা রয়েছে । প্রায় সময় দেখা যায়, এর আশেপাশে সাদা পোশাক পরিহিত কে যেন হাঁটছে। আবার কখনো কখনো দেখা যায় পুকুরের মাঝখানে পদ্ম ফুলের সাথে খেলা করছে এক অপরূপ সুন্দরী । এগুলো নাকি জিন পরী ।


আমার কাছেও ঠিক তাই মনে হয় । কারণ, আমি ঢাকায় আমার নিজ বাড়িতে সিসি ক্যামেরা দিয়ে প্রায় সময়ই দেখতে পাই আলোর ঝলকানি । আলো জ্বেলে গুনগুন সুরে কি যেন হাঁটাচলা করছে আবার কখনো কখনো দেখা যায় কি এক অদ্ভুত আলো পুকুরের আশেপাশে বিচরণ করছে । আমার বাড়িতে বেশ কয়েকজন পাহারাদার রয়েছে ,যারা বাড়িটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত । তাদের কেউ কেউ আবার বাড়িটি যত্ন আত্তির কাজে নিয়োজিত । তারা আমাকে অনেকেই বলেছে, ম্যাডাম আপনার এই বাড়িটি এক অদ্ভুত বাড়ি! কিন্তু তাতে কি কোন ভয় লাগে না আমাদের। কারণ রাতের আঁধারে এখানে বহু বুযুর্গদের আনাগোনা আমরা দেখতে পাই । কখনো কখনো পরীদের আগমন আমরা লক্ষ করে থাকি। কিন্তু এগুলো আমাদের কোন ক্ষতি করে না । তাই আমরা এগুলো কে ভয় পাই না । বরং আমাদের কাছে আনন্দ লাগে।
আমার বাড়ির সামনে আমি এলাকার জনগণের নামাজের সুবিধার জন্য সিমকী খান জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছি । একদিকে ছেলেদের আরাক দিকে মেয়েদের এখানে বহু মুসল্লীরা প্রতিদিন নামাজ পড়েন । আমি আমার নিজের পকেটের পয়সা দিয়ে মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জেন সাহেবদের বেতন দিয়ে থাকি । মসজিদের ইমাম সাহেব আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, ম্যাডাম মসজিদে অনেক সময় আমি বুযুর্গদের আগমন লক্ষ করেছি। তারা এখানে মনে হয় নামাজ পড়তে আসেন। কিন্তু আমাদের কোনো ক্ষতি করেন না ।
মূলত এখানে ভালো জিন পরীর একটা আনাগোনা আছে আমরা লক্ষ্য করে থাকি। আসলে আমি সিমকী খান, আমার মনের নান্দনিক সৌন্দর্যবোধ থেকেই মনের মতো তৈরি করেছি আমার বাড়িটি।
যখন ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া নেওয়ার গাছা আমার নিজ বাড়িতে প্রবেশ করি মনে হয় আমি যেন অন্য আরেক ভুবনে প্রবেশ করেছি ।একবার প্রবেশ করলে দ্বিতীয়বার খান বাগিচা ছেড়ে চলে আসতে আমার আর ভালো লাগে না । তারপরও বাস্তবতার প্রয়োজনে প্রাণের সিমকী খান বাগিচা ছেড়ে আসতেই হয় । তারপরও শত কাজের মাঝে আমি একটু সুযোগ পেলেই চলে যাই আমার সেই প্রাণের বাড়ী সিমকী খান বাগিচায়।


আমাকে একজন বুজুর্গ ব্যক্তি ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত দিয়েছেন সিমকী খান বাগিচাই নাকি হবে আমার জীবনের শেষ ঠিকানা। আমার মৃত্যুর পরেও এখানে এক অনাবিল শান্তির পরিবেশে মানুষ মহান আল্লাহ তাআলার এবাদত বন্দী করবে ।দুরুদ শরীফ জিকির আজগর মহান আল্লাহর কাছে তাদের মনের বাসনা পূরণ করার জন্য দোয়া করবে মিলাদ মাহফিল হবে আল্লাহ রাসুল সাঃ এর তরিকা মোতাবেক কার্যক্রম চলবে এটা আমার নির্দেশনা। বাড়িটি আমার অনেক প্রিয় । আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না সবুজে ঘেরা বাড়ির চারপাশে মনে হয় যেন বাড়িটি আমার কোন ভিনদেশে অবস্থিত ।কিন্তু মনে যাই হোক না কেন এই বাড়িটির অবস্থান আমার প্রিয় জন্মভূমি সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া নেওয়ারগাছায়।
ঢাকা থেকে যখন আমি আমার সিমকী খান বাগিচায় প্রবেশ করি তখন মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথের সেই কথা- “দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া ঘর হইতে দু’পা ফেলিয়া একটি ধানের শীষের উপরে একটি শিশির বিন্দু”” আবার কখনো কখনো কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের কথা মনে পড়ে বহু দেশ দেখিয়াছি বহু নদ দলে, কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মেটে সিমকী খান বাগিচার পুকুরের জলে। আসলে ছোটবেলা থেকেই আমার ভেতর সবসময় একটা আধ্যাত্মিকতা কাজ করে । আমি আমার জীবনের সবকিছুই আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করি। স্কুল কলেজে লেখাপড়া শেষ করে লেখাপড়ার সর্বোচ্চ পাঠ চুকিয়ে যখন সংসার জীবনে প্রবেশ করি তখন দিন দিন আমার ভেতর আধ্যাত্মিক চিন্তা চেতনা আরো বেশি বেশি বৃদ্ধি পেতে থাকে এমনকি আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত এবং পারিবারিক জীবনের সর্বক্ষেত্রে আমি এটা আধ্যাত্নিক ছোঁয়া পাই । আমি নিজেও লক্ষ্য করে দেখেছি আমার জীবনের সবকিছুই আধ্যাত্মিক ভাবে ঘটে যাতে মানুষের চেয়ে সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছাটাই সবচেয়ে বেশি বাস্তবায়িত হয় । এমন বেশ কিছু অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে আমার জীবনে যা যেকেউ শুনলে বিশ্বাস করতে পারবেনা । কিন্তু আসলে তা সত্য।
আমার ডুপ্লেক্স বাড়ীটি পাঁচ তলা ফাউন্ডেশনের ।পুরো বাড়িটাই শ্বেতপাথরের তৈরি । সিঁড়িগুলি লাল পাথরের, বারান্দাগুলি সবুজ পাথরের, আর বাড়িটি ফ্লোর সাদা পাথরের ।


প্রতিটি রুমে একেক ধরনের আধ্যাত্মিকতার ছোয়া ।যে বা যারা এ বাড়ীতে রাএি যাপন করেছেন তাঁরাই রাতের কাহিনী সকালে নাস্তার টেবিলে খোশ মেজাজে ব্যাখ্যা করতে থাকে্ন । আর আমি মিটি মিটি হাসি । ওনাদের আশ্বস্ত করি, আপনাদের ভয় নেই । আমার গৃহরক্ষীরা আপনাদেরকে পছন্দ করেছেন । কারণ যে বা যারা কোন অসৎ উদ্দেশ্যে আসে তারা এই বাড়িতে টিকতে পারেনা, । কোন না কোন ক্ষতি হয়ে যায় তাদের । সিমকী খান বাগিচায় অসৎ মানুষের জায়গা নাই, এ এক অজানা রহস্য !

আমি স্বপ্ন দেখি, আমার প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। পরিদর্শন করবেন সিমকী খান বাগিচা । সেদিন সারা উল্লাপাড়ায় সুখের বন্যা হয়ে যাবে ।ওনার কথা মত আমি এখানে কি কাজ করেছি দেখে হয় তো তিনি অবাক হয়ে যাবেন।
(চলবে)

এডভোকেট সিমকী ইমাম খান ঃ সদস্য, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটি

ছড়িয়ে দিন

Calendar

December 2021
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031