যেভাবে কারাবন্দি হলেন

প্রকাশিত: ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০২০

যেভাবে কারাবন্দি হলেন

সিমকী ইমাম খান

১১,

আমি মা-বাবার আদরের কন্যা । মা-বাবা আমাকে ভীষণ আদর করতেন আমিও আমার বাবা-মাকে অনেক ভালবাসতাম।
বাবা-মায়ের কথা মতো চলতাম । সব সময় মায়ের আদেশ উপদেশ গুলো আমি মাথায় করে রেখেছি। জীবনে এমন কোন বড় অন্যায় অপরাধ করিনি, যাতে আমার বাবা-মা কষ্ট পাবে আমি সবসময় বাবা-মায়ের হাসি মুখটা চাইতাম বাবা-মায়ের হাসি মুখটা দেখলে আমার মনে হতো আমার মা যেন আমার জান্নাত।
ঠিক তেমনি আমার পিতা ও আমাকে অনেক স্নেহ করতেন আদর করতেন ভালোবাসতেন । আজ তারা দুনিয়াতে বেঁচে নেই । পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন । আল্লাহ আমার এই নেককার পিতামাতাকে জান্নাত নসিব করুন আমিন। মাকে আমি এখনো অনুভব করি ।এখনো মায়ের কথা মনে হলে আমার দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরে আমি নিরবে জানালার কাছে বসে মায়ের জন্য চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি হে আল্লাহ তুমি আমার পিতা-মাতাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করো আমিন ।
আসলে মা তো মা,ই । মায়ের বিকল্প কি কখনো হয়, হয়না । এজন্যই বলা হয়েছে মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত। মায়ের প্রতি আমি ছিলাম বেশ দুর্বল । আমি কখনো কল্পনা করতে পারতাম না ,আমার মা একদিন পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিবে কিন্তু এটাই বাস্তব সত্য সবাইকেই একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে সবাইকে একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে (কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত)
যাই হোক মা হারানোর বেদনা দীর্ঘদিন বহন করতে করতে যখন আমি রাজনীতিতে সক্রিয় হই তখন আমি আমার মায়ের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাই আমার নেত্রী দেশনেত্রী দেশমাতা আমার মাতা বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে । তারপর থেকে আমি দেশমাতা খালেদা জিয়াকে যতটুকু দলের প্রধান হিসেবে মনে করতাম, তার চেয়ে অধিক মনে করতাম তিনি আমার একজন মা । শুধু তাই নয়, একজন মমতাময়ী মা ।


যখন গুলশানের ম্যাডামের কার্যালয়ে যেতাম মনটা আমার ব্যাকুল হয়ে থাকে কখন আমি আমার মাকে দেখব শুধু মায়ের একটু হাসি মাখা মুখ শুধু মায়ের একটু কথা একটু স্নেহের দৃষ্টিতে আমার দিকে নজর দেওয়ার অপেক্ষায় আমি বিভোর হয়ে থাকতাম।
যখন সুযোগ পেতাম মাকে দেখার তখন মনটা আনন্দে ভরে যেত। মনে হতো, যেন মাকে বারবার পা ছুঁয়ে সালাম করি আর মা যেন আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।
আসলে আমি যতোটুকু রাজনীতির প্রতি দুর্বল তার চেয়ে অধিক দুর্বল আমি আমার নেত্রী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি। যেদিন আমার চোখের সামনে দিয়ে আমার মাতা দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় সেই দিন আমার মাথায় আকাশ ঙেঙ্গে পড়ে। তখন আমি আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। শত শত মিডিয়ার সামনে আমি শিশুদের মতো কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি । দিনটি ছিল ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী । ঐদিন মনে হয়েছিল যেন গোটা পৃথিবীটা যেন আমার মাথায় ভেঙ্গে পড়েছে ,এ আমি কি দেখছি । আমার চোখের সামনে আমার মাকে পুলিশে ধরে নিয়ে যাচ্ছে । এ আবার কেমন দেশ বিনা কারণে বিনা দোষে সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী, যার কোন তুলনা নেই তিনি এদেশের মাটি ও মানুষের নেত্রী , এ দেশের গণতন্ত্রের মানস কন্যা ,আপোসহীন নেএী গণতন্ত্রের অপর নাম বেগম খালেদা জিয়া । মনে চেয়েছিল নিজের জীবন দিয়ে পুলিশের হাত থেকে মাকে রক্ষা করি।

রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যাবহার করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে রাজনৈতিক চক্রান্তমূলক মিথ্যা মামলায় “এক তরফা” রায় দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ তথা এদেশের সকল শ্রেনীর পেশাজীবী ও সাধারন জনমনে একটা শংঙ্কা ও আক্ষেপ সৃষ্টি হয়। কারণ , যে মামলায় সাবেক তিন বারের সফল প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়্যারপারসন, বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করে কারাবন্দি করা হয়েছে এই মামলার ঘটনার(জিয়া অর্ফানেষ্টের এতিমের দুই কোটি টাকা আত্বস্বাত) সাথে তার কোন যোগসুত্র নেই এমনকি দুই কোটি টাকা বহাল তবিয়্যতে ব্যাংক হিসেবেই জমা রয়েছে এবং তার প্রবৃদ্ধিও হয়েছে । যেটা বিভিন্ন পত্র পত্রিকা এবং ইলেকট্রনিক প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদের শিরোনামে দেশবাসী অবগত হয়েছেন। আপষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনার জন্য সরকার বকসি বাজারের বিশেষ আদালত তৈরী করেন। ম্যাডাম জিয়া বকসি বাজারের বিশেষ আদালতে মামলা চলাকালীন যতোবার হাজিরা দিতে এসেছেন আমি এ্যাড. সিমকী ইমাম খান বেগম খালেদা জিয়ার মামলার নিয়োগকৃত আইনজীবী এ্যাড. সানাউল্লাহ মিয়া স্যারের সাথে প্রতিটি তারিখেই সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে ম্যাডামের পক্ষে আইনী লড়াইয়ে সরাসরি সহযোগী আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছি । যেটা সকলেই অবগত আছেন। ম্যাডাম জিয়ার জন্য আদালতে সহযোগী আইনজীবী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ঢাকা আইনজীবী ফোরাম এবং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও কোর্ট চত্তরে আইনজীবী নেত্রীবৃন্দদের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে মিছিলে শ্লোগান, সাংবাদিক সম্মেলন সহ নানামূখী কর্মসূচীতে সক্রিয়ভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছি । নিজস্ব উপলদ্ধি থেকে। বেগম জিয়ার পক্ষে আইনী লড়াইয়ে আদালত প্রাঙ্গনে সরকার দলের আইনজীবী ও প্রশাসনকে উপেক্ষা আইনজীবী পরিচয়ে কাজ করার জন্য নানা রকম নিপীড়ন,মামলা, হামলা,হুমকির স্বীকার হয়েছি তবুও কখুনো পিছু-পা হই নি । কারন বেগম জিয়া শুধু আমাদের দলীয় প্রধান নয় তিনি আমাদের মা সমতূল্য একজন অভিভাবক । তার পরম মমতায় আমরা জাতীয়তাবাদী নীতিতে উজ্জিবিত হয়ে রাজপথে আন্দোলন,সংগ্রাম করে জিয়ার আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা রায়ের অজুহাতে পুলিশ প্রশাসন যেদিন বকসি বাজারের আদালত হতে গ্রেফতার করে কারাগরে নিয়ে যাচ্ছিলেন আমি ম্যাডামের এই পরিণতি দেখে স্বাভাবিক থাকতে পারিনি । অশ্রুসিক্ত নয়নে কেঁদেছি এবং মহান আল্লাহর নিকট তার প্রতি এমন অবিচারের বিচারের জন্য প্রার্থনা করেছি। সেদিন আদালত প্রাঙ্গন থমথমে পরিবেশে নিরব হয়ে গিয়েছিলো। বাংলাদেশের ইতিহাসে সেই দিনটি স্বাক্ষী হয়ে থাকবে ।

(চলবে)

এডভোকেট সিমকী ইমাম খান ঃ সদস্য, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটি

ছড়িয়ে দিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

December 2021
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031