সিলেটে উড়ছে উন্নয়নের পতাকা

প্রকাশিত: ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১

সিলেটে উড়ছে উন্নয়নের পতাকা

সুরমা কুশিয়ারা মনু খোয়াই বিধৌত হযরত শাহজালাল (র;)ও ৩৬০ আউলিয়ার স্মৃতি বিজড়িত দু‘টি পাতা একটি কুড়ির জেলা সিলেট। ছোট বড় টিলা পাহাড় নদী আর সবুজেঘেরা এই অঞ্চলে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদের ভান্ডার। পাথর বালু, তেল গ্যাসসহ পর্যটনশিল্প দেশের অর্থনেতিক উন্নয়নের সাথে জড়িয়ে রয়েছে। এই অঞ্চলের প্রায় ১০লাখ লোক বসাবাস করছেন ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। প্রতিনিয়ত তাদের প্রেরিত রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে চলেছে। তাইতো প্রবাসীদের প্রতি সরকারের রয়েছে গভীর আন্তরিকতা। প্রবাসীদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা নিয়েও কাজ করছে সরকার। ৩১ জানুয়ারী ২০১৮ সিলেট এসে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত তিনি সিলেটে অবস্থান করেন। সেদিন আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভাস্থলে প্রায় অর্ধশতাধিক উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন ও প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরবর্তী সময়ে একে একে বাস্তবরূপ লাভ করছে সেই প্রকল্পগুলো। শাহাজালাল সারকারখানা, সিলেট জেলা কারাগার, সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ওসমানী হাসপাতালের নতুন ভবন, সিলেট মেরিন একাডেমী, শেখ রাসেল টেক্সটাইল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক, শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও সিলেট টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট, ডিজিটাল নগরীর প্রকল্প, ১১৪টি নদী খনন ও তীর সংরক্ষণ, বঙ্গবন্ধু মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স, নতুন বিসিক শিল্প নগরী এবং সড়ক ও ড্রেন স¤প্রসারণ, সৌন্দর্য্যবর্ধন ও আধুনিকায়নে ১২শ’ কোটি টাকার প্রকল্প সিলেটে উন্নয়নের পতাকা হয়ে উড়ছে।

 

বর্তমান সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি উন্নতি যোগাযোগ ব্যবস্থায়। সড়ক, আকাশ, রেল ও নৌপথে সমানতালে নেয়া হয়েছে উন্নয়ন প্রকল্প। আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে সিলেট-ঢাকা ৬ লেন মহাসড়ক প্রকল্প। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এডিবির ঋণ বরাদ্দের ফলে অর্থ নিয়ে কেটেছে অনিশ্চয়তা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পটি পাশ হয়েছে একনেকে। মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত হলে বদলে যাবে এখানকার অর্থনীতির চিত্র। নতুন গতি পাবে শিল্প ও পর্যটন।

 

শুধু তাই নয়, ছয় লেন হয়ে গেলে এ মহাসড়ক দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সাথে বাণিজ্যিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ারও আশা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০১৫ সালে জাতিসংঘের চাকরি শেষে দেশে ফিরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক চারলেন প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আলোর ঝলকানি দিচ্ছে। সিলেট হতে তামাবিল পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনসহ চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। এজন্য ৩ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এ প্রকল্পে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) ২ হাজার ৯৭০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ঋণ দেবে। চলতি বছর কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালে জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক পৃথক এসএমভিটি লেনসহ চার লেনে উন্নীতকরণ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ভারত, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার এবং চীনের ক্রস বর্ডার সংযোগ স্থাপনসহ উপআঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে।

 

 

শতাধিক বছরের পুরনো সিলেট রেলওয়ের ৫টি স্টেশন আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। রেলওয়ের নিজস্ব অর্থায়নে এ সংক্রান্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২ কোটি টাকা। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন, আধুনিক স্টেশনে যে সকল সুযোগ-সুবিধা থাকার কথা তার সবই এসব স্টেশনে থাকবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর বিনা টিকিটের যাত্রীও ঠেকানো যাবে। বর্তমানে প্রকল্পটি দরপত্র আহŸানের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। চলতি অর্থবছরেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মো. খলিলুর রহমান জানান, সিলেট বিভাগের ৫টি রেলওয়ে স্টেশনকে আধুনিকায়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রেলওয়ে স্টেশনগুলোর চিত্র অনেকটা পাল্টে যাবে। যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে রেলওয়ে স্টেশনে বসতে পারবেন। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে রেলওয়ের কর্তৃপক্ষ কাজ করছেন।

 

দ্রুত গতিতে চলছে বেতারের সিলেট কেন্দ্রের আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ। শতাধিক বছর পর সিলেট সিটি কর্পোরেশন বর্ধিত আকারে নতুন রূপ পাচ্ছে। আগষ্ট ২১-এ বর্ধিত সিটির গেজেট প্রকাশ হয়েছে।

 

প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবী সরাসরি বিদেশ থেকে নিজের জেলায় এসে পৌছানো। এতে করে সময় ও ভোগান্তি কম হবে। প্রবাসীদের এই দাবী পুরনে ইতোমধ্যে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে লন্ডন, দুবাই, জেদ্দা সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা নেয়া হয়। বিশ্বের সকল রুটে ফ্লাইট পরিচালনা ও বিদেশী বিমানের যাত্রা বিরতি সহ বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে পৌছাতে হাতে নেয়া হয়েছে বিশাল কর্ম পরিকল্পনা। বিমানবন্দর স¤প্রসারণে দুই হাজার ৩০৯ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দরের আয়তন তিন গুণ বাড়বে। বেইজিং আরবান কনস্ট্রাকশন গ্রুপ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের কাজ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই বিমানবন্দর সিলেটবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর একটা উপহার। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে ৩৪ হাজার ৯১৯ বর্গমিটারের আধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন। এই টার্মিনালে আটটি বিমান একসঙ্গে যাত্রী ওঠানামা করতে পারবে। এর বাইরে ছয় হাজার ৮৯২ বর্গমিটারের কার্গো ভবন, দুই হাজার ৪১৫ বর্গমিটারের ফায়ার স্টেশন, দুই হাজার ৭৭২ বর্গমিটারের কন্ট্রোল টাওয়ার, এক হাজার ৩৯৫ বর্গমিটারের প্রশাসনিক ভবন, ৬০৬ বর্গমিটারের মেইনটেন্যান্স ভবন, দুই হাজার ৫২৪ বর্গমিটারের ইউটিলিটি ভবন এবং ৯ হাজার ২৯৯ বর্গমিটারের মধ্যে আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া বিদ্যমান সুবিধাসহ আরো সুপরিসর ছয়টি উড়োজাহাজ পার্কিং উপযোগী ৭১ হাজার ৭৪৩ বর্গমিটার এপ্রোন নির্মাণ, এপ্রোনের সংযোগকারী ট্যাক্সিওয়ে, বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রসহ ফুয়েল ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড হাইড্রেন্ট সিস্টেমসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো ও স্থাপনা নির্মিত হবে। বিমান সূত্র জানায়, বর্তমানে বিদ্যমান প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের যে আয়তন আছে তার তিন গুণেরও বেশি আয়তন নিয়ে তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন টার্মিনাল। বিদ্যমান টার্মিনালে বছরে মোট ছয় লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া যায়। নতুন টার্মিনালের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে (২০৪০ সাল পর্যন্ত) বছরে ২০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিকমানের যাত্রীসেবা প্রদানের জন্য ভবনে থাকবে ছয়টি বোর্ডিং ব্রিজ (ডাবল ডকিং দুটি, সিঙ্গেল ডকিং দুটি), কনভেয়ার বেল্টসহ ৩৬টি চেক-ইন-কাউন্টার, যার মধ্যে দুটি স্বয়ংক্রিয়, বহির্গামী ও আগমনী যাত্রীদের জন্য মোট ২৪টি পাসপোর্ট কন্ট্রোল কাউন্টার, ছয়টি এস্কেলেটর, ৯টি লিফট এবং আগমনী যাত্রীদের জন্য তিনটি লাগেজ কনভেয়ার বেল্ট, ভবনের ফ্লোরে বসবে ইঞ্জিনিয়ারড স্টোন। নতুন টার্মিনালের প্রথম তলা আগমনী যাত্রীদের এবং দ্বিতীয় তলা বহির্গামী যাত্রীদের জন্য ব্যবহৃত হবে। শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে আগত যাত্রী টার্মিনালের চেক-ইন লেভেলে পৌঁছে যাবেন। আবার বিদেশ থেকে আগত যাত্রীরা প্রথম তলা থেকে বিমানবন্দর ত্যাগ করে সারফেস রোড ব্যবহার করে শহরের যেকোনো প্রান্তে যেতে পারবেন। টার্মিনাল অভিমুখী বা বহির্মুখী সব যানবাহন চলাচল হবে একমুখী, যা বিমানবন্দর অংশকে সম্পূর্ণ যানজটমুক্ত রাখবে।

 

পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হচ্ছে সিলেটের আরও দুটি শুল্ক স্টেশন। এরমধ্যে সিলেটের বিয়ানীবাজারের শেওলা শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। আর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ শুল্কস্টেশনকে স্থলবন্দরে উন্নীতের জন্য জমি অধিগ্রহণ কাজ শুরু কয়েছে। গেলো বছরের ১৩ ফেব্রæয়ারি অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও শেওলা শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয় আরও প্রায় ৬ বছর আগে। ২০১৫ সালের ৩০ জুন। তবে এতোদিন ঘোষণার মধ্যেই আটকে ছিলো স্থলবন্দর। শুল্ক স্টেশনের অবকাঠামো, লোকবল নিয়েই চলছিলো শেওলার কার্যক্রম। সেবাও ছিলো শুল্ক স্টেশনের। ঘোষণার প্রায় ৬ বছর পর গত ১৩ ফেব্রæয়ারি শেওলাকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরে রূপ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। শেওলা ও ভোলাগঞ্জের আগে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিলে স্থল বন্দরের কার্যক্রম চালু হয়। তামাবিল শুল্ক স্টেশনকে ২০০১ সালে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর প্রায় ১৬ বছর পর ২০১৭ সালে তামাবিলে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শেওলার অবস্থান ভারতের আসাম রাজ্যের বিপরীতে। ভারতের সাত রাজ্যের সাথে যোগাযোগ অপেক্ষাকৃত সহজতর হওয়ায় এখানে স্থল বন্দরের কার্যক্রম শুরু হলে আমদানি-রফতানি আরও বৃদ্ধি পাবে। ভোলাগঞ্জ দিয়ে আমদানি-রফতানি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা তাদের। স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ১২৪ কোটি টাকা ব্যায়ে শেওলা স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ রুপ দেয়া হচ্ছে। নৌ পরিবহণ মন্ত্রনালয়ের অধীনে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেকটিভিটি প্রজেক্ট-১ এর আওতায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ২ বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, প্রায় ২৫ একর জায়গার উপর শেওলা স্থলবন্দর নির্মান করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় পূর্বের ১৫ একরের বাইরে নতুন করে ৯ একর জমি অধিগ্রহণসহ গোডাউন, ইয়ার্ড, নিরাপত্তা প্রাচীর, ওয়েব্রিজ স্কেল, ট্রাক পার্কিং, ডমেস্টিক ব্যারাক নির্মাণ করা হবে। আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে এই শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দরে উন্নীত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। সিলেটের দুই শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দরে উন্নীতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়ের বলেন, কেবল স্থলবন্দরে উন্নীত করলেই চলবে না। ব্যবসায়ীরা যাতে স্থলবন্দরের পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পান সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

 

 

সিলেট সফরকালে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটবাসীর দাবীর প্রতি সম্মান জানিয়ে সিলেট বিশ্ববিদ্যালয় স্থাúনের ঘোষনা দেন। কাল আর ক্ষেপন হয়নি। যে ঘোষনা সেই কাজ। দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষা, গবেষণা ও সেবার মান এবং সুযোগ-সুবিধা স¤প্রসারণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদে অনুমোদন হয় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৮। একই বছরের ২০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী। উপাচার্য নিয়োগের পর নগরীর চৌহাট্টায় স্থাপিত অস্থায়ী কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। মাত্র দুই বছরে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যান্য মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের লক্ষ্যে সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গোঁয়ালগাও মৌজার ৫০.২২ একর এবং হাজরাই মৌজার ৩০.০৯ একরসহ সর্বমোট ৮০.৩১ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, ইতোমধ্যে সিলেট বিভাগের সকল মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ ও নার্সিং কলেজ সমুহের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিদর্শন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ, ৪টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, ১টি সরকারি নার্সিং কলেজ, ৪টি বেসরকারি নার্সিং কলেজ এবং ১টি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজসহ মোট ১২টি স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক অধিভূক্তি প্রদান করেছে। এসব কলেজে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এই বছরের ১৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথম পরীক্ষা। এ ব্যপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সিলেটবাসীর দাবি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের। এ জনদাবিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর অনুমোদন হয় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন। এবছরের ২০ নভেম্বর আমি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে প্রথম পরীক্ষা গ্রহণ সম্পন্ন হয়। আশাকরি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় আমরা সফলভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারব। সেই সাথে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা ও উদ্ভাবনের দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপাচার্য।

 

বৃটিশ আমলের সিলেট জেলা কারাগার। যেমন ছিল জরাজীর্ণ, তেমনি ছিল স্থানাভাব। অধিক কয়েদী, হাজতীকে গাদাগাদি করে থাকতে হতো কারাগারে। এই সরকারের উন্নয়নের অরেকটি অন্যতম চিত্র হচ্ছে নব নির্মিত সিলেট জেলা কারাগার। সিলেট সদর উপজেলার বাদাঘাট এলাকায় নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণ ও স্থানান্তরের প্রকল্প একনেকে পাস হয়। ২০১০ সালে। এরপর বাদাঘাট এলাকায় চেঙ্গেরখাল নদীর তীরে ৩০ একর জমির উপর এই কারাগার নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়। জানা যায়, নতুন কারাগারের নির্মাণকাজ শুরুর পর ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত। পরে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। তবু কাজ শেষ না হওয়ায় ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। সময় বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়ও বাড়ে। দেড়শ’ কোটি টাকার প্রকল্প ২২৭ কোটিতে গিয়ে ঠেকে।

 

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের চেহারায় এবার নতুন রূপ পাবে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সীমানা বর্ধিতকরণ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (এলজিআরডি)-এর স্থানীয় সরকার বিভাগের (সিটি কর্পোরেশন-১) এর উপসচিব নূমেরী জামান স্বাক্ষরিত গেজেটটি ৩১ আগস্ট প্রকাশিত হয়। এর আগে সিসিকের বর্ধিত এলাকাকে ওয়ার্ডে বিভক্তকরণ ও বিন্যাস সম্পন্ন করে তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায় সিলেট সফর করে যাওয়া বিশেষ টিম। মন্ত্রণালয়ের পাসের পর তা গেজেট আকারে প্রকাশের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। চলতি বছরের ২৬ জুলাই সিসিক-এর বর্ধিতকরণ প্রস্তাব প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে অনুমোদিত হওয়ার পর অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় বর্ধিতকরণের বিষয়টি। বাকি ছিলো কেবল বর্ধিত এলাকার বিভক্তিকরণ ও ওয়ার্ড বিন্যাস। সিসিক সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে কঠোর গোপনীয়তার সাথে সেই বিষয়টি সম্পন্ন করা হয়। এ লক্ষ্যে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি টিম সিলেট সফর করে। ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়টি জটিল হওয়ায় স্থানীয় দপ্তরকে সাথে নিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তা পর্যবেক্ষণ করে যায় মন্ত্রণালয় থেকে আগত টিম। পরে তারা ওয়ার্ডে বিন্যাস করে পরে তা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান। জানা গেছে, সিসিকের বর্তমান আয়তন ২৬.৫০ বর্গ কি.মি.। সীমানা স¤প্রসারণের জন্য প্রস্তাবিত এলাকার আয়তন ৩৩ বর্গ কি.মি.। স¤প্রসারণের পর সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মোট আয়তন হয়েছে ৫৯.৫০ বর্গ কি.মি.। এতে সিসিকের সাথে সিলেট সদর ও দক্ষিণ সুরমার ৭টি ইউনিয়নের ২৮টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

 

 

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অন্তর্ভুক্ত নগরের আবু সিনা ছাত্রাবাস স্থলে নির্ধারিত ২৫০ শয্যার জেলা আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। প্রসঙ্গত: ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারী সিলেট নগরীর আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯ টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর উন্মোচনের ১ টি ২৫০ শয্যার সিলেট জেলা হাসপাতাল। এই হাসপাতাল নির্মান কাজ চলছে দ্রুত গতিতে।

 

 

সিলেটে যাত্রা শুরু করেছে মেরিন একাডেমি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ একাডেমির উদ্বোধন করেন। সিলেট শহরতলীর চেঙ্গেরখাল নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রায় ১শ’ ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত সিলেট মেরিন একাডেমি। ২০১২ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও পাবনায় ৪টি মেরিন একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। সিলেট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের প্রচেষ্টায় তার নির্বাচনী এলাকা সিলেট সদর উপজেলার হাটখলা ইউনিয়নের বাদাঘাট এলাকার চেঙ্গেরখাল নদীর পারে সিলেটের প্রথম জলপথের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিলেট মেরিন একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। পরে ২০১২ সালের জুন মাসে প্রতিষ্ঠানটির জন্য ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। আর ২০১৩ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর সিলেট মেরিন একাডেমির কাজের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে গণপূর্ত বিভাগের তত্ত¡াবধানে ১০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট মেরিন একাডেমির অবকাঠামো নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হয় ২০১৭ সালে।

 

উন্নয়নের পথে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক। সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জে প্রায় ১৬৩ একর জায়গায় তৈরি হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক-সিলেট। হাওর এলাকায় প্রায় ২০ ফুট গভীর অংশ ভরাট করেই তৈরি করা হয় এই পার্ক। কর্তৃপক্ষ জানালেন, এমনভাবে ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে, বড় বড় বন্যা হলেও প্রকল্পে পানি উঠবে না। এরইমধ্যে প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ব্যয় হচ্ছে মোট ৩৩৬ কোটি টাকা। এখানেই হবে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার। এর জন্য ৭ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক ভবনের পূর্ব দিকে যে খোলা জায়গায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও পাঁচ তারকা হোটেল। ৮টি প্রতিষ্ঠানকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সনি, আরএফল, ব্যাবিলন ইত্যাদি। তিনি আশাবাদী এই প্রকল্পে ৫০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। প্রকল্প এলাকায় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নির্মাণ করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি অঙ্গন। সেখানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল থাকবে। শিগগিরই এসবের নির্মাণকাজ শেষ হবে। জানা গেল, ৩২ একর জমি বরাদ্দ নিয়েছে সনি। এখানে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে প্রতিষ্ঠানটি। ২০ একর জায়গা নিয়েছে আরএফল। প্রতিষ্ঠানটি সেখানে তাদের ভিশন ব্র্যান্ডের ৬৬টি আইটেম তৈরি করবে। দুটি প্রতিষ্ঠানেরই লক্ষ্য হলো এখানে নির্মিত পণ্যগুলো ভারতের ৭টি রাজ্যে (সেভেন সিস্টার্স) রফতানি করা।

 

ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি (এনজিএফএফ) নামে ফেঞ্চুগঞ্জের ওই পুরাতন সারকারখানা স্থাপন করেছিল জাপানের কোবে স্টিল লিমিটেড। ২০ বছরের ইকোনমিক লাইফ নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পুরাতন ওই সারকারখানা চলেছিল প্রায় অর্ধশত বছর। ১৯৬১ সালের ১৩ই ডিসেম্বর এনজিএফএফ যাত্রা শুরু করে। জরাজীর্ণ হয়ে গেলেও ওই কারখানা ২০১২-১৩ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। শাহজালাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে। শাহজালাল সারকারখানার ইকোনমিক লাইফও ২০ বছর। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণে এটিকেও দীর্ঘদিন চালু রাখা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞমহলের অভিমত।

 

 

জানা যায়, শাহজালাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি প্রকল্পটি চীন বাস্তবায়ন করলেও এতে আমেরিকা ও নেদারল্যান্ডসের প্রযুক্তি থাকায় এই সারকারখানা অনেক টেকসই হবে। শাহজালাল সারকারখানার প্রধান প্ল্যান্ট ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়ার প্রসেস লাইসেন্সর হচ্ছে অ্যামোনিয়ায় আমেরিকার বিখ্যাত কোম্পানি কিলোগ ব্রাউন অ্যান্ড রোটস (কেবিআর) ইউরিয়ায় নেদারল্যান্ডসের খ্যাতিমান কোম্পানি স্টেমিকার্বন বি. ভি।

 

 

শাহজালাল সারকারখানা সরজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, উৎপাদনের চিত্র। প্রায় সাড়ে ৪শ’ একরের বিশাল আয়তনের শাহজালাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মূল কারখানায় ভূমির পরিমাণ প্রায় ৫২ একর। শাহজালাল সারকারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, বর্তমানে নিজস্ব প্রকৌশলী দ্বারাই সারকারখানার সব সেকশন পরিচালিত হচ্ছে। উৎপাদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে দৈনিক ১১শ’ টন সার উৎপাদন হচ্ছে। সারের চাহিদা কিছুটা কম থাকায় এবং গোডাউনে পর্যাপ্ত স্থান সংকুলান না হওয়ায় বর্তমানে উৎপাদন প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে রাখা হয়েছে। ২০১২ সালের ২৪শে মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শাহজালাল সারকারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার পর কুচক্রীমহল এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা নেতিবাচক প্রসঙ্গের অবতারণা করেন। ওই মহল এমনও বলেন যে, গ্যাসের কারণে শাহজালাল সারকারখানা চালু করা সম্ভব হবে না। তৎকালীন সরকারে ঘাপটি মেরে থাকা সিলেটবিদ্বেষী ওই মহলের মুখে চুনকালি দিয়ে শাহজালাল সারকারখানা শুরু থেকেই উৎপাদনে সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। এমনটাই জানালেন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) জনৈক কর্মকর্তা। শাহজালাল সারকারখানা শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি মালেক চৌধুরী জানান, ফেঞ্চুগঞ্জে পুরাতন সারকারখানার পাশে নবনির্মিত শাহজালাল সারকারখানা দেশের বৃহত্তম ও সফল শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে। তিনি বলেন, এই শিল্প প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান এবং জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

 

 

শাহজালাল সারকারখানা সারশিল্পে নবদিগন্তের দ্বার উন্মোচন করেছে। ফেঞ্চুগঞ্জ তথা সিলেটবাসীর প্রাণের দাবি ছিল পুরাতন সারকারখানার পাশে একটি নতুন সারকারখানা স্থাপন। আওয়ামী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কথা দিয়ে কথা রাখায় তার প্রশংসা যেন আজ এই অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে। শাহজালাল সারকারখানা স্থাপিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতার ফলে। এখানে অত্যাধুনিক এই সারকারখানা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় গোটা এলাকার চিত্রই পাল্টে গেছে। সিলেট বেতার কেন্দ্রের আধুনিকায়নের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে তথ্য মন্ত্রণালয়। ৫৬ কোটি ২২ লাখ টাকার প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। তবে নানা জটিলতায় প্রকল্পটি ওই সময়ের মধ্যে শেষ করতে না পারায় এ বছরের জুন পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে সংশোধনী প্রস্তাবে। একইসঙ্গে ৫৫ দশমিক ২৬ শতাংশ, তথা ৩১ কোটি ৭ লাখ টাকা বাড়তি ব্যয়ের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে সংশোধনীতে। তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬১ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বেতার, ঢাকা কেন্দ্রের অনুষ্ঠান রিলে করার মধ্য দিয়ে সিলেট কেন্দ্রের স¤প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ১৯৬৭ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে সিলেট কেন্দ্র থেকে নিজস্ব অনুষ্ঠান স¤প্রচার শুরু হয়। ১৯৭০ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক বেতার কেন্দ্র হিসেবে কার্যক্রম শুরু হয় সিলেটে। ১৯৭৮ সালের ২ নভেম্বর ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার নতুন ৯৬৩ কিলোহার্জ এএম ট্রান্সমিটার স্থাপন করে স¤প্রচার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করে কেন্দ্রটি। পরবর্তী সময়ে ১৯৮২ সালে স্টুডিও প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর স্থায়ীভাবে মীরের ময়দানের বেতার ভবন থেকে এই কেন্দ্রের স¤প্রচার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ২০০২ সালে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ট্রান্সমিটার সংস্থাপন করা হয় এই কেন্দ্রে। ২০০৭ সাল থেকে এক কিলোওয়াট ক্ষমতার ১০৫ দশমিক শূন্য মেগাহার্জ তরঙ্গেও এফএম ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সব কেন্দ্রের এফএম ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হয় এবং এর মাধ্যমে অনুষ্ঠান স¤প্রচার শুরু হচ্ছে। ২০১৩ সালের জুন মাসে একটি ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার ৯০ মেগাহার্জ তরঙ্গেও এফএম ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হয় এবং এর মাধ্যমে অনুষ্ঠান স¤প্রচার শুরু হয়। তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সিলেট বেতার কেন্দ্রকে আধুনিক ও ডিজিটাল করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিল মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে আকর্ষণীয় ও উচ্চ কারিগরি মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান স¤প্রচার নিশ্চিত করা যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

বদলে যাবে নগরী। স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে সিলেটে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কমপ্লেক্স’। দেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের কোনোও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই কমপ্লেক্স নির্মাণে ব্যয় হবে দেড় হাজার কোটি টাকা। এ সংক্রান্ত প্রকল্পে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাজেট অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রকল্পটি। ২৫ তলাবিশিষ্ট এই কমপ্লেক্সের নকশাও চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ট্রায়াঙ্গল কনসালট্যান্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান নকশা করেছে। এর সাথে স্থপতি শাকুর মজিদ জড়িত। সিসিকের পরিকল্পনা থেকে জানা গেছে, সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকার হাসান মার্কেট ও লালদিঘী সিটি সুপার মার্কেটের জায়গায় গড়ে তোলা হবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কমপ্লেক্স’। প্রায় ১৫ একর জায়গাজুড়ে হবে এই আধুনিক স্থাপনা। যেখানে ‘বঙ্গবন্ধু চত্বরে’ তাঁর স্মৃতি ছাড়াও ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতীকী উপস্থাপনা থাকবে।

 

 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তর্জনী উঁচিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, তার সেই তর্জনীর আদলে ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সে’ একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে। এখানে ‘বঙ্গবন্ধু প্লাজা’য় থাকবে মুক্তিযুদ্ধের দালিলিক স্মারক সংগ্রহশালা, সিনেপ্লেক্স, অডিটোরিয়াম, এক হাজার আসনের কনভেনশন হল। থাকবে শেখ রাসেলের নামে পার্কও। নির্মিতব্য এই কমপ্লেক্সে মানুষের চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থার দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য কমপ্লেক্সে থাকবে নাগরিক চত্বর। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য রাখা হবে উন্মুক্ত মঞ্চ। কমপ্লেক্সে থাকবে খোলা পার্ক, বইমেলা বা কুঠিরশিল্প মেলা করার জন্য ৩৪২টি স্টল বসানোর সুবিধা। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা সহযোগে কমপ্লেক্সটি হয়ে ওঠবে দৃষ্টিনন্দন। এই কমপ্লেক্সের ল্যাম্পপোস্টগুলো হবে সিলেটের ঐতিহ্য দুটি পাতা-একটি কুঁড়ির আদলে। এদিকে, হাসান মার্কেট ও লালদিঘী সিটি সুপার মার্কেটে বর্তমানে যারা ব্যবসা করছেন, তাদের পুনর্বাসনের জন্য কমপ্লেক্সের মধ্যে ছয় তলাবিশিষ্ট একটি আধুনিক মার্কেট নির্মাণ করা হবে। জানা গেছে, সিলেটে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কমপ্লেক্স’ গড়ার উদ্যোগ নেয় সিটি করপোরেশন। নকশা প্রস্তুত ও প্রকল্প প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করে বিষয়টি অনুমোদনের জন্য সিলেট-১ আসনের সাংসদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন চলতি বছরের জুনে ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ বরাবরে আবেদন করেন। এরপর সেখান থেকে মেলে অনুমতি। এই ট্রাস্টের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

লেখক- সিলেট ব্যুরো প্রধান, দৈনিক জনকণ্ঠ

ছড়িয়ে দিন