ঢাকা ১৪ই জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ই জিলহজ ১৪৪৫ হিজরি

সিলেটে ফের আজাদের আধিপত্য বিস্তারের শোডাউন!

redtimes.com,bd
প্রকাশিত মার্চ ৩, ২০১৮, ০৭:২৯ অপরাহ্ণ
সিলেটে ফের আজাদের আধিপত্য বিস্তারের শোডাউন!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রনজিত সরকার দুজনই বন্ধু হিসেবে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত । আধিপত্য নিয়ে সংঘাত-সহিংসতা এখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে । এমসি ও সরকারি কলেজের পাশাপাশি রয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ । যার কারণে এখানে বলয় বৃদ্ধির পাশাপাশি আধিপত্যের দ্বন্ধ সিলেটের অন্যান্য স্থানের চেয়ে অনেক বেশী । গত চার মাসে এদুটি গ্রুপের দ্বন্ধে খুন হন ছাত্রলীগ কর্মী জাকারিয়া মুহাম্মদ মাসুম, ওমর মিয়াদ এবং তানিম খান । এরমধ্যে ওমর মিয়াদ ও তানিম খান রঞ্জিত গ্রুপের অনুসারি । আর জাকারিয়া মাসুম যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামানের অনুসারি । আভ্যন্তীণ দ্বন্দ্বের জেরধরে এ তিনজনই খুন হন প্রতিপক্ষ আজাদ গ্রুপের কর্মীদের হাতে । এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা দলীয় প্রভাবের কারণে মামলাগুলোর দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি না থাকায় বার বারই রক্তে রঞ্জিত হয় সিলেটের টিলাগড় । টিলাগড় পয়েন্ট “ডেডজোন” হিসেবে পরিচিতি পায়।

৪ জানুয়ারি সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের আয়োজন করে রনজিত গ্রুপের নেতাকর্মীরা । এসময় তারা কলেজের ভেতরে শোডাউন দেয় ।  এমন খবর পেয়ে কলেজে অবস্থান নেয়ার প্রস্তুতি নেয় আজাদ গ্রুপের কর্মীরা। একপর্যায়ে আজাদ গ্রুপের কর্মীরা মিছিল নিয়ে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে তাদের ধাওয়া করে রঞ্জিত গ্রুপ ।

এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় । সেই ঘটনার জেরধরেই রবিবার (৭ জানুয়ারি) টিলাগড়ে আজাদ গ্রুপের অনুসারিদের হামলায় নিহত হন সিলেট সরকারী কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তানিম খান । পরিকল্পিতভাবে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় । তানিম সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা গ্রামের ইসরাইল খানের ছেলে । পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তানিম ছিলেন সবার ছোট । সিলেটে পড়ালেখার কারণে তিনি শহরতলীর ইসলামপুর এলাকায় একটি মেসে থাতকতেন ।

এই ঘটনার কিছুদিন অবস্থা শান্ত থাকার পর, আজ শনিবার আবার সরব হয়ে মাঠে নামেন সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদের অনুসারিগণ।

শনিবার বেলা ১১টা থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে ধোপাদিঘীরপার হাফিজ কমপ্লেক্সে জড়ো হয় নেতাকর্মীরা । শোডাউন ও মিছিলে উপস্থিত ছিলো এমসি, সরকারী, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ল-কলেজ, দক্ষিন সুরমা উপজেলা, জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ. কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ ।এছাড়া সিলেট নগরীর সকল ওয়ার্ড ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে খন্ড খন্ড মিছিল এসে মিলিত হয় । দুপুর ১টার দিকে চার হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহনে বিশাল মিছিল-শোডাউন শুরু হয়। মিছিলটি ধোপাধিঘীরপার থেকে শুরু হয়ে বন্দরবাজার, কোর্টপয়েন্ট, জিন্দাবাজার হয়ে চৌহাট্টা পয়েন্টে এসে বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয় । বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন – আজাদুর রহমান আজাদ, মুশফিক জায়গিরদার, পঙ্কজ পুরকায়স্থ, রামপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর সহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা ।

হঠাৎ সিলেটের রাজপথে আওয়ামীলীগ অঙ্গসংগঠনের শোডাউন । মিছিলের এক মাথা শহীদ মিনার আরেক মাথা অগ্রগামী স্কুলের সামনে । এমন মিছিল দেখে স্বাভাবিকভাবেই অনেকেই কৌতুহলী হন ।  সিলেটবাসী বুঝে গেছে এটি-যে চলমান গ্রুপিং রাজনীতির আধিপত্য বিস্তারের শোডাউন । যে শোডাউনে ভালোই খেলা দেখালেন সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও ২০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ । প্রায় হাজার চারেক নেতকর্মী সিলেটের রাজপথ ‘আজাদ- আজাদ’ শ্লোগানে মুখরিত করে তুলে । এই শোডাউনে আজাদ বুঝিয়ে দিয়েছেন রাজনীতির মাঠে তার বিশাল অবস্থানের কথা ।  মিছিলে উপস্থিত ছিলো আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী।

সিলেটে আওয়ামীলীগের একক শোডাউন হিসেবে এতবড় মিছিল স্মরণকালে আর কেউ করতে পেরেছে কিনা সন্দেহ । যে মিছিলকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে আবারো অশান্ত সিলেটের ‘ডেডজোন’ টিলাগড় । বরাবরের মতো আজাদ গ্রুপ ও রঞ্জিত গ্রুপের নেতাকর্মীরা এই মিছিলের পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নেয় । এমনিতেই ডেডজোন খ্যাত টিলাগড়ের কোন মিছিল মিটিংয়ের কথা শুনলে সিলেট নগরবাসী আতঙ্কে থাকেন । শংকা দেখা দেয়-‘না জানি আবারো কোন মায়ের বুক খালি হয়।’  তার উপর রঞ্জিত গ্রুপের নেতাকর্মীরাও মিছিলের বিরুদ্ধে তৎপর ছিলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে । এদিকে আজাদ অনুসারীদের এমন শোডাউনে নড়েচড়ে বসেছে রঞ্জিত অনুসারীরা । জানা গেছে, তারাও বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে । ফলে আবারো উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ‘ডেডজোন’ খ্যাত টিলাগড়ে ।

রঞ্জিত অনুসারীরা এই মিছিলকে হত্যা মামলার আসামীদের পূণর্বাসন হিসেবে অভিহিত করে । ফেসুবকে পাল্টা মিছিলেরও হুমকি আসে । এর মধ্যে রঞ্জিত সরকার অনুসারী ছাত্রনেতা আলতাফ হোসেন মুরাদ -২০ টি হেলমেট নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দেন ।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আজাদ অনুসারীরাও যে কোন উপায়ে শোডাউন করতে ফেসবুকে ঘোষণা দেন । যার ফলে শনিবারের মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় ।

তবে ভালো খবর হচ্ছে কোন অঘটন ছাড়াই সিলেট নগরীতে বিশাল শোডাউন সম্পন্ন হয় ।

June 2024
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30