সিলেটে শ্বাসরোধ করে শিশু গৃহকর্মী হত্যা : গ্রেফতার ১

প্রকাশিত: ১২:২১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০১৭

93ee56e00bce7cd0b2de950387729b65-598661d75d5e0সিলেটের গোলাপগঞ্জের বুধবারীবাজার ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে ১০ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা ও লুকিয়ে লাশ দাফনের চেষ্টার অভিযোগে গৃহকর্তাকে গ্রেফতার করেছে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত কামরুল ইসলাম (২০) বনগাঁও গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে।

এদিকে, এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ গতকাল সকালে কামরুলদের বাড়ি থেকে শিশু খাদিজার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। নিহত খাদিজা বেগম (১০) সুনামগঞ্জের তাহিরপুর গ্রামের দিনমজুর আলী নূরের কনিষ্ঠ কন্যা।

শুক্রবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটলেও পুলিশকে না জানিয়ে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে গতকাল (শনিবার) সকালে গোসলের পর লাশ দাফন করার চেষ্টা করে অভিযুক্ত কামরুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।

গোলাপগঞ্জ থানায় মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন খাদিজার পিতা আলী নূর। তিনি জানান- কামরুলের বাবা মারা যাওয়ায় তার বৃদ্ধ মাকে দেখাশুনার জন্য প্রায় ৪মাস পূর্বে প্রতি মাসে ৫শ’ টাকা বেতনে কামরুলদের বাড়ীতে গৃহকর্মীর কাজে মেয়েকে দেন।

‘ঘটনার দিন  শুক্রবার (৪ আগস্ট) মাগরীবের নামাজের পর কামরুল আমার বাড়ীতে এসে জানায় আমার মেয়ে গলায় ওড়না লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে আমি তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখি মেয়ের গলায় ওড়না পেচানো। ওড়নার অপরদিক জানালার গ্রীলের সাথে বাঁধা। খাদিজার মা কুলসুমা বলেন-আমার মাইয়া (মেয়ে)-কে  হত্যা করা অইছে (হয়েছে)। অভাবের সংসারের লাগি (জন্য) মাইয়ারে (মেয়ে) কাজে দিছলাম (দিয়েছিলাম)। আর তারা দিলও (দিয়েছে) মেয়ের লাশ।

গোলাপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (প্রশাসন) ফজলুল হক জানান- প্রথামিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে শিশুকে। পুলিশকে না জানিয়ে তারা লাশ লুকিয়ে ফেলারও চেষ্টা চালায়। এরপর পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী হাসপাতালের মর্গে লাশ প্রেরণ করে। এঘটনায় বাড়ির গৃহকর্তা কামরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুর পিতা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

লাশের সুরতহাল প্রস্তুতশারী গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) দেলোয়ার হোসেন জানান- পুলিশকে না জানিয়ে লাশের গোসল করানোর কারণে শিশু খাদিজা ধর্ষণের শিকার হয়েছে কিনা প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করা যায়নি। তবে গলার হাড় ভাঙা দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধ করেই শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।