সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালের অসামান্য কৃতিত্ব

প্রকাশিত: ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০১৫

হোসাইন আহমদ সুজাদ: অতি সম্প্রতি সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতাল এক নজির বিহীন সাফল্য অর্জন করেছেন। এসবিএন সূত্রে জানা গেছে,গত ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৫ ইং তারিখে মো: জামাল আহমদ (৩৬) নামের এক ব্যক্তি ব্রেন হেমোরাইজিং এ মস্তিস্কে অতিরিক্ত বক্তক্ষরন ঘটে ব্রেন স্ট্রোক করে সাথে সাথে তাকে ইবনে সিনা হাসপাতালের আই.সি.ইউ তে ভর্তি করা হয়েছিল। দীর্ঘ ২৫ দিন তাকে আই.সি.ইউ তে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা হয়েছিল। হতাশার বিষয় এই রোগীর অবস্থা ছিল খুবই আশংকাজনক এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের ধারনা মতে এই সব স্ট্রোকের রোগী সাধারণত ৩/৪ দিনের বেশী বাচানো যায় না। কারন হিসাবে দেখা যায়, ডাক্তারী ভাষায় জ্ঞানের লেভেল নাকি ৮ এর নীচে থাকলে সেক্ষেত্রে মাথায় অস্ত্রোপাচার করা যায় না। যাতে করে মাথার রক্ত বের করে আনা যায়। দুভার্গ্যজনক বিষয় ছিল ঐ রোগীর জ্ঞানের লেভেল ছিল মাত্র ৪ কিংবা ৫ এবং তা প্রতিদিনই উপর নীচ হচ্ছিল কিন্তু ৮ এর ‍উপর ‍যাচ্ছিল না। এ রকম সংকটময় মুহূর্তে আভিজ্ঞ আই.সি.ইউ ইনচার্জ ডা: রাশেদ মাহমুদের নেতৃত্বে তার পুরো টিমকে নিয়ে নিরলস ভাবে প্রতিটা মুহুর্তে এই রোগীকে বাঁচানোর চেষ্টায় প্রাথমিকভাবে যা যা করনীয় তাই করেন। একটানা ১৪ (চৌদ্দ) দিন পর মহান আল্লাহ পাকের অশেষ মেহের বানীতে জামাল আহমদের জ্ঞান ফিরে। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ঔষধ দ্বারাই রোগীর মাথা থেকে রক্ত শুকিয়ে ফেলা হয়েছিল। পর্যায় ক্রমে তাকে চিকিৎসা প্রদান করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: এনায়েত হোসেন। রাগিব রাবেয়া হাসপাতালের নিউরো সার্জারী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালের সাবেক নিউরো সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা: নজরুল হোসেন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিয়োলজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান সহযোগী ‍অধ্যাপক ডা: সাহাব উদ্দিন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডেসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: মোস্তাক হোসেন। ইবনে সিনা হাসপাতাল থেকে রিলিজ হওয়ার পর জামাল আহমদকে নিয়মিত দেখছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা: রাশেদুন নবী খান। উল্লেখ্য রোগীর চিকিৎসার সার্থে তার মাথার মোট ৫টি সিটি স্কেন ও বুকে ৬টি সিটি স্কেন করা হয়েছিল। প্রথম সিটি স্কেন দেখেই ডাক্তারদের ধারাণা ছিল এই রোগীকে বাঁচানো সম্বভপর নয়।
কিন্তু আল্লাহর রহমতে সে এই বিপদ জনক মুহুর্ত কাটিয়ে উঠেছে। সে বেঁচে উঠেছে তার এবং তার পুরোপুরী সুস্থ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। জামাল আহমদের পরিবারের সাথে আলাপ করে জানা গেছে,তার সংকটময় মুহুর্ত থেকে উত্তোরনের নেপথ্যে সার্বিক সহযোগীতা ও সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়েছেন উক্ত হাসপাতালের চেয়ারম্যান মাওলানা মো: হাবিবুর রহমান, এম.ডি ডা: মোদাব্বির হোসেন, ডি.এম.ডি জনাব কাদের খান। তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা পোষন করে তাদের দীর্ঘায়ু ও সুস্থাস্থ্য কামনা করছেন। আরোও যারা সহযোগীতা করেছেন পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা পোষণ করেছেন। তন্মধ্যে আই.সি.ইউ ‍ইনচার্জ ডা: রাশেদ মাহমুদ, সিনিয়র মেডিসিন অফিসার ডা: তফজ্জল হোসেন, কাস্টমার কেয়ার কর্মকর্তা রেজাউল করিম লায়েক, ওবায়েদ উল্লাহ বিন এফ রহমান, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব, একাউন্টস অফিসার মনছুফ হোসেন, সহকর্মী, আত্নীয়-স্বজন, ঘনিষ্ট বন্ধু-বান্ধব, তন্মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ফার্ষ্ট সিকিইউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গোবিন্দগঞ্জ শাখার সিনিয়র অফিসার কাওছার আহমদ (পাপ্পু) সহ আরও অনেকে। স্থানীয়দের মতে সিলেটে এই সব স্ট্রোকের রোগীর সঠিক চিকিৎসার বেলায় সিলেটে ‍অবস্থিত যে সব হাসপাতাল বা ক্লিনিকের আই.সি.ইউ আছে তার মধ্যে সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেছে সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালের আই.সি.ইউ। অন্যান্য হাসপাতালের আই.সি.ইউ থেকে চিকিৎসা সেবা যথেষ্ট সাশ্রয়ী ‍এবং ঝুকি মুক্ত ও ‍নিরাপদ। মো: জামাল আহমদ (৩৬) সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সরকারী চাকুরীজীবি। তিনি বিবাহিত এবং তার একটি ৪ (চার) বছরের কন্যা সন্তান আছে। তার মা-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পক্ষ থেকে জামাল আহমদের আশু রোগ মুক্তি কামনায় সিলেট বাসী তথা সারা বিশ্বের সকল জনগনের কাছে দোয়া প্রার্থী হয়েছেন।

ছড়িয়ে দিন