সিসিক নির্বাচন নেতাদের মন্তব্য এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

প্রকাশিত: ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০১৮

সিসিক নির্বাচন  নেতাদের মন্তব্য এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার:

জামায়াত-বিএনপির দীর্ঘ দিনের বন্ধুত্বে চিড় ধরেছে এটি এখন দিবালোকের মত সত্য । বিএনপি’র বন্ধুত্বে হাতেহাত রাখা দল জামায়াত জোটের ঐক্য ভেঙে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি’র বিরুদ্ধে সিসিক নির্বাচনে। অন্য দুই নগরী বরিশাল ও রাজশাহীতে ধরাছোঁয়ার বাহিরে বন্ধু’ জোট বিএনপি সাথে বিচ্ছেদ বিচ্যুত হয়ে আছে জামায়াত। তাদের এই কৌশলগত বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যরকম মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ আলোচিত সিসিক নির্বাচনে সতন্ত্র  হয়েছেন সাবেক সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য’র শীর্ষ নেতা, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, ও বর্তমান সিলেট মহানগরীর আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের।

৩৬০ আউলিয়ার পূণ্যভুমি সিলেটে রাজনৈতিক ঐক্যের বিরুদ্ধে জামায়াতের এই প্রার্থিতা নিয়ে গত কয়েকদিন যাবত আলোচনা হচ্ছে বেশ জুরেসুরে। নির্বাচনী মাঠ সহজ করতে কেন্দ্রীয়ভাবে জোটের একাধিক বৈঠক হলেও ভোটের মাঠ ছাড়তে রাজি হয়নি জামায়াত। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি কিছুটা চিন্তিত হলেও, জামায়াতকে তেমনটা আমলেও আনছে না দলের নীতিনির্ধারকরা। সিসিক নির্বাচনে এবার বিএনপির মেয়রপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, আওয়ামীলীগের প্রাথী সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান এবং সতন্ত্র প্রার্থী ও নগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব যোবায়ের। সিলেটে নগরী জিন্দাবাজার, আম্বরখানা,বন্দরবাজার, শেখঘাট, কুমার পাড়া সহ নগরীর কিছু এলাকায় ঘুরে নির্বাচনী আমেজ ভালোভাবেই টের পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি প্রার্থীর পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর স্বতন্ত্র প্রাথীর টেবিলঘড়ির পোষ্টারে ছেয়ে গেছে গোটা নগরী। ভোটের হিসাব যাই হোক, পোষ্টারের সংখ্যায় প্রধান তিন প্রাথীর কেউ কারও চেয়ে কম নয়।
আধ্যাতিœক এ নগরীর সৌন্দর্য হচ্ছে রাজনৈতিক সংস্কৃতির দীর্ঘকালের সৌহার্দ্য পুর্ণ এক বন্ধুত্বের বন্ধন। সিলেট- নগরীর ঐতিহ্য হচ্ছে দলমত নির্বিশেষে একে অপরের আতœার আতীয়। মাঠে এক, কিন্তু ভিতরে ভিতরে অন্যরকম অন্যরুপ সম্পর্ক , ময়দান বা মাঠে দাউ- কুড়াল সম্পর্ক থাকলেও সেটা সাময়িক। সেই বিভেদ, মনমালিন্য সহজেই সোরাহা করে রাজনৈতিক মতাদর্শের উর্ধে উঠে কাদেকাদ মিলিয়ে। হোক বিএনপি আওয়ামীলীগ আর জামায়াত কিংবা অন্য যে কোনো মতাদর্শের রাজনৈতিকদল।
এতে উভয়ের মধ্যে যে বন্ধুত্বের আলাদা বৈশিষ্ট্য মিল সেই বিষয়টি পূণ্যভূমির মতই আধ্যাতিœক।
যেমন, যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ঘিরে কেন্দ্রীয় ভাবে এবং সারাদেশব্যাপী আওয়ামীলীগের মধ্যে যে বিচ্ছেদ বিচ্যুত জামায়াত সম্পর্কের ছেদ ঘটেছে। সেই যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতকে নিয়ে বা সেই-বিষয়টি রাজনৈতিক ভাব লক্ষ্য ও প্রতিয়মান মুলক ভাবে সিলেটে আ’লীগ বনামঃ জামায়াত তাদের বিচ্ছেদ অটুক বহাল তবিয়তে আছে দৃশ্যটা লক্ষ্যমান একমাত্র সিলেট নগরীতে। সিলেটে আ’লীগ জামায়াত তাদের দুরত্ব বা বন্ধুত্বের মধ্যে কোনো ধরনের দন্ধ বা সম্পর্কের ছেদ অন্যরকম।
কেন্দ্রীয় ভাবে আ’লীগ বা সরকার জামায়াতের সম্পর্কে ছেদ ঘটলেও বর্তমানে সিলেটে সিটি নির্বাচনে সেই- বিষয়টি অন্যরুপে রুপান্তরিত। এবার নির্বাচনী মাঠ আবহ অবস্থা জামায়াত, আ’লীগ অনেকটাই আলাদা।

এ বিষয়ে স্থানীয় আ’লীগ এবং ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে বলেন, গত কয়েকদিন আগে ও জামায়াত/শিবিরের যেসব নেতাকর্মীর সঙ্গে তাদের দা-কুড়াল সম্পর্ক ছিল, সেই- বিষয়টি পিছনের দিকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে এখন দুুই দলের নেতাকর্মীরা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে পোস্টার টানাচ্ছেন, প্রকাশ্যে নির্বাচনী সভা- সমাবেশ করছেন। মামালার ভয়ে যেসব জামায়াত নেতাকে এতদিন সিলেটে বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যায়নি, তারা ও এখন তাদের টেবিলঘড়ির মেয়রপ্রার্থীর সঙ্গে থেকে প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন নগরীর এক প্রান্ত হয়ে অন্য প্রান্তে।
এদিকে সিলেটের ভোটারদের একাংশ মনে করেন, জামায়াত মুলত তাদের অবস্থান জানান দেওয়ার জন্যই সিলেটে প্রার্থী দিয়েছে।এ ক্ষেত্রে স্থানীয় আওয়ামীলীগের আর্শীবাদ রয়েছে জামায়াতের সঙ্গে। এদিকে সিলেটের সিটি কর্পোরেশনের ২৭ ওয়ার্ডের মধ্যে অন্তত ৮টি ওয়ার্ডে জামায়াত কাউন্সিলর পদে প্রার্থী দিয়েছে একক ভাবে। বর্তমানে সিলেটে সিটি নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের প্রার্থী মাঠেয় থাকায় ভোটের হিসাবে আ’লীগের লাভ হলেও দীর্ঘমেয়াদী সিলেটের রাজনীতিতে জামায়াতের খুঁটির জোড় আরও পাকাপোক্ত হলো।।

কারো মতে, বিএনপি – জামায়াতের ভোটের অংশ সমন্বয়ে গতবার আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচনী জয়ের বৈতরণী পার হয়েছিলেন আরিফ। এবার ভোট ভাগাভাগি হলে লাভ হবে আওয়ামীলীগের। যদিও কিছু বিএনপি নেতা বা বিএনপি মেয়র- প্রাথী আরিফ এবং বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে,১৫ হাজারের বেশি ভোট নেই জামায়াতের । এতে এই ভোট এবং জামায়াত প্রার্থী বিএনপি’র জন্য কোনো ফ্রেক্টর না। তাতে নির্বাচন- ফলাফল ও নিধারণ করবে না মনে করে বিএনপি ।
জামায়াতের দাবি সিলেট নগরীর মধ্যে তাদের নিজস্ব ভোট ব্যাংক আছে ৪৫/ ৫০ হাজার। বিএনপি জামায়াতের ভোটের হিসাব নিকাশের মন্তব্যসূত্রের প্রতি উত্তরে জামায়াতের নেতারা মন্তব্য করে বলেন- ১৫ হাজার ভোটের কাছে বিএনপি’র এত মাথা ব্যাথা কেনো। তাহলে তো আমরা তাদের কাছে কচুরি পানার ন্যায় ভেঁসে এসেছি বলে মনে হচ্ছে তাদের কাছে। আমরা হাওয়া বাতাসে ভেঁসে আসার দল না। তাদের মতামতের দৃষ্টিতে যদি বিএনপি মনে করে ১৫ হাজার ভোট অমুল্যহীন তাতে কি হবে। বিএনপি’র এই তথ্য ভোটের হিসাবটি মিথ্যা বানোয়াট প্রতিহিংসা পরায়ন মুলক বলে জামায়াতের দাবি। জামায়াত বিএনপি কে চ্যালেঞ্জ করে বলে- ভোটের হিসাব নিকাশ নির্বাচনের দিন পেয়ে যাবেন।

জামায়াতের মজলিসে সুরা- সদস্য, সিলেট- দক্ষিণ জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন- সিলেট নগরীতে আমাদের ৫০ হাজার ভোটার আছে। সেই- বিষয়টি বিএনপি তারা জেনে ও অস্বীকার করে যাচ্ছেন। নগরীর ২৭ টি ওয়ার্ডের মধ্যে আমরা ৮ টিতে আমাদের দলীয় একক কাউন্সিলর পদে প্রার্থী দিয়েছি। আমাদের এই প্রার্থীগণ সবকটি বিজয়ী হবে। তিনি আরও বলেন- আমরা বিএনপিকে গত নির্বাচনের সময়ে ও বলে দেওয়া হয়েছিল যে সিলেট- সিটিতে এবারের নির্বাচনে জামায়াতকে জোটের প্রাথী হিসেবে ছাড় দিতে হবে। তখনকার সময়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন সহ তাদের দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জামায়াতকে আশ্বস্ত করে বলে ছিলেন সেই- বিষয়টি পুর্ণ বিবেচনায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু সেই- বিষয়টি আমাদের সাথে আলোচনা বা মতবিনিময় না করে বিএনপি তাদের প্রাথী ঘোষণা করে। শুধু তাইনা, উক্ত বিএনপি মেয়র- প্রার্থী বিষয়ে বিশ দলীয় জোটের অধিকাংশ জোট নেতাদের ও আপত্তি ছিল। জোটের নেতাদের মতামতের বাহিরে গিয়ে বিএনপি তাদের সিদান্ত তাদের মত- করে চাঁপসৃষ্টির মাধ্যমে চাঁপিয়ে দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের সুরার অন্যতম সদস্য বিশ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা অধ্যাপক আব্দুল হালিম বলেন-সিলেটে সিটি নির্বাচনে আমাদের দলীয় প্রার্থী নির্বাচন- থেকে সরে যাবেননা। দলের সুরার বৈঠকে এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সিদান্তে চুড়ান্ত সিদান্ত নেওয়া হয়েছে সিলেট- নগরীর মেয়র- প্রার্থী এডভোকেট এহসানুল মাহবুব যোবায়ের নির্বাচন- করবেন। এতে আমরা বিএনপি বা জোটের সাথে কোনো ধরণের আপোসে যাওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। দলের সুরার বৈঠকের সিদান্তই চুড়ান্ত সিদান্ত বলে তিনি মনে করেন।

সিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়াতের বিষয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একজন বর্ষীয়ান ভোটার আলাপকালে বলেন, যাদেরকে আমরা চিনি না। সেই- সমস্ত কিছু তরুণদের দেখা যায় কোনো একটা মাসজিদে আসরের নামাজ পড়ে এক সাথে মিলিত হয়ে, এরপর প্রার্থীর পক্ষে জনসংযোগ শুরু করে। একই ভাবে পাশ্ববর্তী মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়া শেষে আবার কিছুক্ষণ নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে এশার নামাজের পর এলাকা ছেড়ে চলে যায়। ভোটকে কেন্দ্রকরে তাদের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি সবার চোঁখে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন অনেক দিন পর জামায়াত তাদের সাংগঠনিক শক্তি দেখানোর সুযোগ পেয়েছে সিলেটে। এ সুযোগটির ষোলআনা কাজে লাগাবে জামায়াত।

সিলেটে বিএনপি নেতারা মনে করেন, আওয়ামীগীলের সঙ্গে আঁতাত করে জামায়াত মেয়রপ্রার্থী দিয়েছে। এ বিষয়ে সিলেট- জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, সারাদেশে জামায়াতের নেতাকর্মীরা যেখানে প্রকাশ্যে আসতে পারে না, সেখানে সিলেটে তারা বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে এবং সেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আওয়ামী লীগের অংশী দারিত্বের সম্পর্ক রয়েছে । বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে জামায়াতের প্রার্থী মেয়র- পদে দাঁড়িয়েছেন।
এদিকে বিএনপির অভিযোগ মানতে নারাজ জামায়াত নেতারা। জানতে চাইলে জামায়াত মেয়র- প্রাথী এহসানুল মাহবুব যোবায়ের বলেন- আমরা আগেই বিএনপি সহ বিশ দলীয় জোটের অন্য শরীকদের জানিয়েছিলাম, সিলেটে আমাদের প্রাথী থাকবে। সেই- পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা এগিয়েছি এবং আমার দল আমাকে যোগ্য মনে করে প্রাথী ঘোষণা করেছে।
সরকারের সঙ্গে আঁতাতের প্রশ্নে তিনি বলেন- জামায়াত কোনো অনৈতিক সুবিধা কখনো নেয়নি এবং নেবেও না।
জামায়াতের প্রাথী মাঠে থাকায় ভোট ভাগ হয়ে যাচ্ছে কিনা, জানতে চাইলে সিলেট- সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রাথী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন- একজন প্রার্থী স্বতন্ত্র ভাবে নির্বাচন করতে পারেন। এটা স্থানীয় নির্বাচন। দলীয় প্রতীক থাকলে ও এ নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হয় না। স্থানীয় সমস্যাগুলো কার দ্বারা সমাধান হবে, সেটা দেখে স্থানীয়রা ভোট দেন।
এদিকে সিলেট সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেন- কোন দলের প্রার্থী মাঠে রয়েছে, এটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। নির্বাচন- সকলের জন্য উন্মুক্ত। আমরা বিশ্বাস করি সারাদেশের অন্যান্য এলাকার মতো সিলেটের মানুষ ও সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিতা রক্ষায় নৌকা মার্কার প্রাথী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান কে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন।
একই বিষয়ে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন- সিলেটে একটি সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ রয়েছে বলেই সকল প্রাথী সমানভাবে তাদের নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারছে। যে দলের যত প্রার্থীই মাঠে থাক না কেন, সিলেটের জনগণ নৌকা মার্কার পক্ষে তাদের রায় দেবে বলে আশাবাদী তিনি।

এদিকে বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলর টকশোতে আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের মাঝে মূলত কি ঘটেছিলো তা নিয়ে মুখ খুলেছেন বিশদলীয় শরিক এলডিপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। টকশোর আলোচনার একটা পর্যায়ে তাঁরা পরিষ্কার করেই বলছিলেন, জামায়াত ২০১৩ সাল থেকে সিলেটের মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী দেবে বলে জানিয়ে রেখেছিলো, কিন্তু সে ব্যাপারে বিএনপি জোটের বৈঠকে অনেকটা আলোচনা না করেই ঘোষণা দিয়েছে তাঁদের একক প্রার্থীর নাম, যা জামায়াত মেনে নিতে পারেনি। তাঁরা বলেন, জামায়াত বিএনপিকে ঢাকা এবং গাজীপুরে প্রার্থী ঘোষণা করেও পরে শুধু মাত্র বিএনপি এবং জোটের কল্যাণে প্রার্থিতা তুলে নিয়েছিল এবং আশা করেছিল সিলেট সিটি নির্বাচনে তাঁদের পূর্ব চাহিদাকৃত প্রার্থীকে জোটের প্রার্থী হিসেবে মেনে নেয়া হয়। কিন্তু সে ব্যাপারে বিএনপি অনেকটা স্বেচ্ছাচারিতার পরিচয় দিয়েছে।

এলডিপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, জুনের ২৭ তারিখ সিলেটের প্রার্থী চূড়ান্ত হবার যে জোটের সভা ছিল, সে সভায় সকল দলের নেতারা উপস্থিত থাকলেও আলোচনা করে চূড়ান্ত হবার আগেই পল্টন অফিস থেকে আরিফুল হককে প্রার্থী ঘোষণা করা হয় যা শুনার পর সে মিটিংয়ে জামায়াতের উপস্থিত প্রথিনিধি মাত্র ৩০ সেকেন্ড উপস্থিত থেকে চলে যান এবং বলে যান সিলেটে জামায়াতের প্রার্থী থাকছে। সেলিম মনে করেন সিলেট সিটি নিয়ে জোটের বড় দুই দলের প্রার্থী দেয়ার এ বিষয়টি সমাধা করা সহজ ছিল যদি বিএনপি তাঁদের প্রার্থী ঘোষণা করার পূর্বে জামায়াতের সাথে একা বৈঠক করতেন। যা তাঁরা করেননি বা করার প্রয়োজন মনে করেননি।

আলোচনার এ পর্যায়ে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, বড় দলগুলোর একটা বাজে স্বভাব তারা প্রার্থিতা ঘোষণা করে জোটের দলগুলোকে সে প্রার্থীকে মেনে নিতে বাধ্য করে, এ কালচার বিএনপি’তে যেমন আছে একই সমস্যা আওয়ামীলীগেও আছে। তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থীকে হয়তো সবাই মেনেই নিত, কিন্তু আলোচনা করে সে বিষয়টি ঘোষণা হলে বিষয়টি এমন হতোনা।

ড. আহমদ আবদুল কাদের আরো বলেন, আমরা জানতে পেরেছি জামায়াত সিটি নির্বাচনগুলোর মধ্যে তিনটিতে প্রার্থী ঘোষণা করবে বলে দাবি করলেও পরবর্তীতে একটি দাবি করেছিল এবং বলেছিল বাকি ১১ সিটিতে তারা বিএনপিকে সমর্থন দিবে, তিন মাস আগে এ বিষয়গুলো নিয়ে বিএনপির সাথে কথাও হয়েছিল কিন্তু তাঁদের সাথে তা করা হয়নি।

শাহাদাত হোসেন সেলিম আরো বলেন, জামায়াতের একজন ভাল প্রার্থী আছে তা তারা অনেক আগেই ঘোষণা করেছিল যা না শুনে বিএনপি চরম একটি ভুল করেছে এবং এ ধরনের ভুল অব্যাহত থাকলে আগামী নির্বাচনে ভাল করতে পারবেনা।