সীমান্ত এলাকা থেকে চা শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত: ১০:০১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০১৫

সীমান্ত এলাকা থেকে চা শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

মৌলভীবাজারের শরীফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর চা বাগানের দুই শ্রমিক নিখোঁজের ৫ দিন পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে একজন শ্রমিকের লাশ পাওয়া যায় সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায়। গত ২১ নভেম্বর শনিবার থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন।

বৃহস্পতিবার সকালে পাহাড়ি এলাকায় ঘাস কাটতে যাওয়া লোকজন লাশ দেখে বিজিবিকে খবর দেয়। বিজিবি ও বিএসএফ’র আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর এ লাশ ফেরতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

জানা গেছে, গত শনিবার থেকে চাতলাপুর চা বাগানের নিবন্ধিত শ্রমিক রাধে শ্যাম ভর (৩৫) ও দিলিপ পাশী (৩৫) নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরে দুই চা শ্রমিক নিখোঁজের পর চাতলাপুর চা বাগান কর্তৃপক্ষ বিজিবি কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করলে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে জানানো হয়। বৃহস্পতিবার সকালে কমলগঞ্জ উপজেলার ডবলছড়া সীমান্তের ১৮৭৩ নং সীমান্ত খুটি সংলগ্ন নো-ম্যান্স ল্যান্ডে পাহাড়ি এলাকায় গলায় ফাঁস ও পা বাঁধা অবস্থায় রাধে শ্যাম ভরের লাশ পড়ে থাকতে দেখে লোকজন।

ঘটনার খবর পেয়ে চাতলাপুর চা বাগানের শ্রমিকরা ও বিবিজি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ সনাক্ত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শরীফপুর ইউপি সদস্য নছিবুর রহমান জানান, লাশ দেখে বুঝা যায় নির্যাতন করে হত্যার পর লাশটি ফেলে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত চাতলাপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্য মনোয়ার হোসেনও লাশ প্রাপ্তি ও লাশের বর্ণনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশটি এখনও ভারতীয় অংশে পড়ে থাকায় বিজিবি সেটি উদ্ধার করতে পারেনি।

রাধে শ্যামের খালাতো ভাই মুক্তিযোদ্ধা পঞ্চম ভর বলেন, বেলা ২টা পর্যন্ত রাধে শ্যাম ও দিলিপ পাশী চা বাগানের কাজ করে জ্বালানি লাকড়ি সংগ্রহে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় যান। আর ফিরে আসেননি। অপর নিখোঁজ চা শ্রমিক দিলিপ পাশীর বাবা শ্যাম সুন্দর এখনও সীমান্ত এলাকায় বসে ছেলের অপেক্ষা করছেন।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) শ্রীমঙ্গল সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল তারিকুল ইসলাম খান বলেন, ভুল ক্রমে দুই চা শ্রমিক ভারেত প্রবেশ করল কিনা একটু খুঁজে দেখার জন্য নিখোঁজের পর বিএসএফ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছিল। নিখোঁজের ৫ দিন রহস্যজনকভাবে উত্তর ত্রিপুরা সীমান্তের ১৮৭৩ নং খুটি সংলগ্ন নো-ম্যান্স ল্যান্ডে এক চা শ্রমিকের লাশ পাওয়া যায়।

শ্রীমঙ্গলস্থ বিজিবি ৪৬ ব্যাটেলিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল নাসির উদ্দীন বলেন, লাশটি একেবারে জিরো পয়েন্ট। এখন বিজিবি ও বিএসএফ’র আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে চা শ্রমিক রাধে শ্যাম ভরের লাশ গ্রহণ করতে হবে। সঙ্গে নিখোঁজ থাকা চা শ্রমিক দিলিপ পাশীকে খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান চলছে।