সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দুদের ঘরে হামলায় মামলা

প্রকাশিত: ১০:৩৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২১

সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দুদের  ঘরে হামলায় মামলা

সৌরভ: হিন্দুদের  বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সুনামগঞ্জের  শাল্লা থানায় একটি মামলা হয়েছে । আজ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে নোয়াগাঁও গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যক্তি এই মামলা করেন । শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হক মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলায় আসামি করা হয়েছে ৭০০ জনকে। এর মধ্যে ৭০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাকিরা অজ্ঞাত। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। তবে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে জানান তিনি।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘অশালীন’ পোস্ট দেয়ার অভিযোগের জেরে সুনামগঞ্জের শাল্লায় তার অনুসারীরা একটি হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে। বুধবার (১৭ মার্চ) সকালে এ ঘটনা ঘটে। আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মিছিলে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ লোকই ছিলো দিরাইয় উপজেলার নাচনি, চন্ডপিুল, সরমঙ্গল, কাশিপুর, সন্তোষপুর এবং শাল্লা উপজেলার কালিমপুর, কাশিপুর গ্রামের। এই মিছিল থেকেই কিছু লোক নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীরা ভাঙচুর করেছে পরিমাল মজুমদারের বাড়ি। তিনি বলেন, ঘর ভাঙার পাশপাশি আমার ঘরে থাকা হাওররক্ষা বাঁধ নির্মাণের টাকাগুলোও ছিনিয়ে নিয়েছে হামলাকারীরা। তিনি বলেন, হামলাকারীদের আমি চিনতে পারিনি। আমাদের আশপাশের গ্রামের হলে চিনতে পারতাম।
হামলার পর বিকেলে শাল্লায় যান সুনামগঞ্জের সাংবাদিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের কর্মী শামস শামীম। তিনি বলেন, হামলাকারীদের বেশিরভাগই এসেছে দিরাইয়ের নাচনি গ্রাম থেকে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত ১৫ মার্চ দিরাইয়ে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে আসেন মামনুল হকসহ কেন্দ্রীয় হেফাজত নেতৃবৃন্দ। তিনি সমাবেশে নানান আপত্তিকর কথা বলেন। এ ঘটনায় গতকাল ক্ষুব্ধ হয়ে শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাও গ্রামের এক যুবক ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে বঙ্গবন্ধুর ভাঙস্কর্যবিরোধী নেতা মামুনুলের সমালোচনা করেন তিনি।

এ ঘটনাকে ধর্মীয় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ এনে ওই এলাকার হেফাজত নেতার অনুসারীরা রাতে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাতেই ওই যুবককে আটক করে। বুধবার সকালে কাশিপুর, নাচনী, চণ্ডিপুরসহ কয়েকটি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামের হেফাজত নেতা মামুনুল হকের কয়েক হাজার অনুসারী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায়।

এদিকে হাজারো মানুষের আক্রমণে গ্রাম ছেড়ে পলায়ন করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। এই সুযোগে হেফাজত নেতার অনুসারীরা গ্রামে প্রবেশ করে তছনছ করে। লুটপাট করে বিভিন্ন বাড়িতে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভয়ে ও আতঙ্কে কথাও বলতে পারছে না হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। হামলাকারীরা ভাঙঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি মন্দির ও ভাঙঙচুর করেছে। হামলার খবর জানালেও পুলিশ দেরিতে ঘটনাস্থলে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামের লোকজন। তারা এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলেও জানান। অন্যদিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষের দিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের গ্রামে সংঘবদ্ধ হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সুধীজন। তারা এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে সাম্প্রদায়িক দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদ সমাবেশ হচ্ছে।

ছড়িয়ে দিন