১৭ বছরে সুন্দরবন হারিয়েছে ৩২৬ বাঘ, বেড়েছে মাত্র ৮ টি

প্রকাশিত: ২:৩৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২১

১৭ বছরে সুন্দরবন হারিয়েছে ৩২৬ বাঘ, বেড়েছে মাত্র ৮ টি

 

মাহমুদ এইচ খান, সিনিয়র রিপোর্টার ▏


আজ বিশ্ব বাঘ দিবস। প্রতিবছর ২৯ জুলাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়। বাঘের জন্য বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ আবাসস্থল ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট সুন্দরবন। তাই বাংলাদেশে এই দিবসটির গুরুত্ব বেশি। কিন্তু করোনা সংকটে এবারে এই দিবসকে ঘিরে কোনো চোখে পড়ার মতো আয়োজন নেই।

 

কেমন আছে সুন্দরবনের বাঘেরা?

রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘের অন্যতম আবাসস্থল সুন্দরবন এখন বাঘের জন্য আর নিরাপদ নেই। ২০০৪ সালে যেখানে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০, সেখানে এখন বাঘ রয়েছে ১১৪টি। ১৭ বছরে সুন্দরবন হারিয়েছে ৩২৬ বাঘ। তবে অন্য এক জরিপ বলছে গত চার বছরে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। উদ্বেগের মধ্যে এই আশার খবরও সন্তুষ্ট করতে পারছে না পরিবেশবাদীদের। কারণ গত কয়েক বছরে বেড়েছে মাত্র ৮টি বাঘ।

 

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘ ছিল ৩৫০টি। ১৯৮২ সালের জরিপে দেখা যায় বাঘের সংখ্যা ৪২৫টি। ১৯৮৪ সালে সুন্দরবনের ১১০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জরিপ চালিয়ে ৪৩০ থেকে ৪৫০টি বাঘ থাকার কথা জানানো হয়।

 

জরিপ অনুযায়ী সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনে ২০০৪ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০। যার ২০১৫ সালে এসে দাড়ায় ১০৬টিতে। ২০১৮ সালে করা একটি জরিপের ফলাফলে বর্তমানে সুন্দরবনে বাঘ রয়েছে ১১৪টি। ২০০৪ সাল থেকে গত ১৭ বছরে ৩২৬টি বাঘ কমেছে সুন্দরবনে। আর ২০১৫ সাল থেকে গত ছয় বছরে বেড়েছে মাত্র ৮টি বাঘ।

 

তবে সর্বশেষ ২০১৮ সালের জরিপের পরে সেখানে নতুন কোনো জরিপ চালানো হয়নি। নতুন জরিপে আরও কয়েকটি বাঘ বাড়তে পারে বলে আশা করছে বন বিভাগ। সম্প্রতি জেলে-বাওয়ালিরা সুন্দরবনের বাঘের আনাগোনা বাড়তে দেখছেন। সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বাঘের অবাধ বিচরণ ও প্রতিনিয়ত বাঘের শাবকের দেখা মিলছে বলে জানিয়েছেন তারা।

 

কেন হারিয়ে যাচ্ছে বাঘ?

প্রাণী বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা বিভিন্ন সময়ে সুন্দরবনের বাঘের হারিয়ে যাওয়ার ৯টি কারণ চিহ্নিত করেছেন। এগুলো হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস), লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়া, মিঠাপানির অভাব, খাদ্যসংকট, বন ধ্বংস, বাঘের আবাসস্থলের অভাব, চোরাশিকারি, অপরিকল্পিত পর্যটন ও বনের মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল।

 

বাঘ কমে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ তুলেছেন বন বিভাগের বিরুদ্ধে। তারা বলছেন, বন বিভাগ এই আবাসভূমিকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে পারেনি। চোরাশিকার, পর্যটনের বিকাশ, বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ বাস্তবায়নে নানা সুপারিশ করেছেন তারা।

 

সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম আকন বলেন, বাঘের ওপর যেসব হুমকি আছে, তা বন্ধ করতে হবে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের যে শর্ত দেয়া থাকে তা বন বিভাগ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে বাঘের প্রজনন বাড়বে। বাঘসহ বন্য প্রাণী রক্ষায় সাধারণ মানুষকেও সোচ্চার হতে হবে। বন্য প্রাণী হত্যা, ক্রয়-বিক্রয়ের বিরুদ্ধে লোক দেখানে কার্যক্রম পরিচালনা না করে প্রকৃতির প্রতি দরদ রেখে এই কাজে বনবিভাগের এগিয়ে আসতে হবে।

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল রেডটাইমসকে বলেন- সুন্দরবনের বাঘ রক্ষা করার জন্য সুন্দরবনকে আগে রক্ষা করতে বন তারা বৈশিষ্ট্য হারালে সেখানে প্রাণী থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। সুন্দরবনের লবনাক্ত্বতা বাড়ছে সেটা রোধ করার জন্য বনবিভাগের ব্যবস্থা নিতে হবে, বনকে রক্ষা করে প্রাণীদের বসবাস উপযোগী করতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন- আমাদের বনবিভাগ এখনও সমৃদ্ধ না। তাদের নানামুখী সংকট রয়েছে। বাঘ রক্ষার জন্য বন বিভাগের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সেখানে স্পেশাল ও ডেডিকেটেড পরিকল্পনা নিতে হবে।

 

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন বলেন, বাঘের প্রজনন, বংশবৃদ্ধিসহ অবাধ চলাচলের জন্য গোটা সুন্দরবনের অর্ধেকেরও বেশি এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাঘ সেখানে আশ্রয় নিতে পারে। চোরাশিকারিদের তৎপরতা বন্ধে স্মার্ট পেট্রোলিং চালু রয়েছে। এর ফলে বাঘের প্রজনন বাড়ছে।

ছড়িয়ে দিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

September 2021
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930