সুপ্রভাত ধানক্ষেত

প্রকাশিত: ৬:২৪ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২১

সুপ্রভাত ধানক্ষেত
প্রতিটি ভোর হয় আমার এমনই এক সবুজের ঘুম ভাঙ্গা গানে। সবুজের কী যে এক অসাধারণ কান্তিময় সুর যার রেশ ধরে কাটতে থাকে সারাবেলা কর্মমুখরতায়। যে পথ ধরে হাঁটতে থাকি সে রাস্তার দু’ধারে অবারিত নিরবিচ্ছিন্ন ধানক্ষেত। খানিকটা দূরত্বে এক একটি বাড়ি। টিলার উপর দিয়ে চলে গেছে উঁচুনিচু পাকা সড়ক গুলো। সুনসান স্তব্ধতা ভেঙ্গে দু-একটি অটোরিকশা বা সিএনজি দেখা যায়। কখনো হাঁটতে হাঁটতে চলে যাই গ্ৰামের একটি উৎরাই রাস্তা ধরে কালভার্টের কাছে । নিস্তব্ধতারও যে নিজস্ব একটা শব্দ আছে যা আমাকে উৎকর্ণ করে, চুম্বকাকর্ষনে আক্রান্ত করে অবিরত। হাঁটতে হাঁটতে আপন মনে কখনো গেয়ে উঠি,
ওমা অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে কি দেখেছি…..
১৪ ফিট পাকা সড়ক, বিদ্যুৎ ঘরে ঘরে, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার দেখে বোঝার উপায় নেই এটা কোনো গ্ৰাম। কৃষিবান্ধব এই গ্ৰামের প্রতিটি জমিতে ৩ ফসলি ধান হয়। বৈশাখে বোরো ধান ঘরে তুলতে তুলতেই ভাদুরি রোপণ শুরু হয়েছে। ধান রোপণ অবস্থায় কৃষককে জিজ্ঞস করায় উত্তর এলো এই ধান উঠবে ভাদ্র মাসে। যাকে বলা হয় আউশ আর আঞ্চলিক ভাষায় বলে ভাদুরি । ভাদুরি ঘরে তুলতে তুলতেই লাগানো হবে আগুনি অর্থাৎ আমন ধান। আমন শুনলেই মন কেমন চনমন করে ওঠে নতুন ধানের গন্ধে। ফিরে ফিরে যাই সেই খড়ের গাদায় গড়াগড়ি করে মায়ের বকুনি খেয়ে সাত সন্ধ্যায় পুকুর ঘাটে গোসল করতে যাওয়ার দিনগুলো তে।
যা বলছিলাম, প্রতিবিঘায় ধান উৎপন্ন হয় প্রায় ২২ থেকে ২৫ মন অথচ আমাদের ছোটবেলায় দেখেছি বিঘাপ্রতি উৎপাদন হতো ৪ থেকে ৫ মন পর্যন্ত। গত কয়েক বছর ধরে দেখেছি ফলনে কোনো হাহাকার নেই। কৃষক ভীষণ খুশি–তৃপ্তসুখে যাপন উদযাপনে কাটছে সারা বছর। বছরের খোরাকি রেখে ধান বিক্রি করে অর্থ হাতে রাখছে কৃষক পরিবারগুলো।
২০১৯–২০ অর্থবছরে এ খাতে ভর্তুকি বরাদ্দ ছিল ২১ হাজার কোটি টাকা। এসব অর্থ ভর্তুকি বাবদ ৩ ভাবে দেয়া হয়। কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবং প্রণোদনা বাবদ। বোরো মৌসুমে শ্রমিক সংকট এড়াতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ খাতে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে কৃষিকে সম্পূর্ণ রূপে যান্ত্রিকীকরণ প্রয়াসে সরকার কৃষকদের সবধরণের কৃষি যন্ত্রপাতিতে ভর্তুকি দেবে।
মহামারী, অতিমারি দীর্ঘ মেয়াদি করোনার নীরব আঘাতে পৃথিবীর অনেক দেশে অগণিত প্রাণহানির পাশাপাশি মন্দা, খাদ্যাসংকট দেখা দিয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি ভিত্তিক ধানের বাম্পার ফলন এবং কৃষি বান্ধব সরকারের আন্তরিক সহযোগিতায় খাদ্য সংকট, দুর্ভিক্ষ এসব শব্দগুলোকে পেছনে ফেলে বহুদূর এগিয়েছে বাংলাদেশ। এককথায় কৃষিতে বাংলাদেশ সফল।অন্যথায় করোনা দুর্যোগে অধিক জনসংখ্যার দেশ হিসেবে আমাদের ও হয়তোবা একবেলা খেয়ে না খেয়ে মঙ্গাময় প্রহর গুনতে হতো।
আমরা কেবল সরকারের সমালোচনা করে বুদ্ধিজীবী দের তালিকা ভুক্ত হতে চাই। ১৮ থেকে ১৯ কোটি জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশ নানাবিধ সমস্যা জর্জরিত ও পীড়িত। আমরা সরকারের নেতিবাচক দিক গুলো নিয়ে সমালোচনায় মুখর কিন্তু ইতিবাচক অর্জনকে স্বীকার না করে এড়িয়ে চলি । সাধারণ জনগণ, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী মহলের উচিত গঠন মূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এই ভূমিকায় অগ্ৰপথিক হতে পারে বিরোধী দলগুলো।
৩০ লক্ষ শহীদ এবং ২ লক্ষ শহীদ ও গাজী নারীর জীবনের এবং লাঞ্ছনার বিনিময়ে অর্জিত এ রাষ্ট্র আমাদের। আমরা সকলে মিলে এ মাটিকে ভালোবেসে এগিয়ে নিয়ে যাই এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পণ করি। স্কুল জীবনে এসেম্বলিতে মুষ্টবদ্ধ হাতে যেভাবে শপথ গ্ৰহণ করেছি। আসুন ভালোবাসি দেশের মাটি ও মানুষকে।
২১ মে ২০২১
ছড়িয়ে দিন