সুব্রত’দা আমার জীবনে একজন আলোর দিশারী!

প্রকাশিত: ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১

সুব্রত’দা আমার জীবনে একজন আলোর দিশারী!

রেজা ঘটক

সুব্রত’দার (সুব্রত কুমার দাস) সাথে আমার পরিচয় নব্বই দশকে মূলত লেখালেখির মাধ্যমে। তখন দাদার লেখা কোনো পত্রিকায় আসলেই পড়তাম। কিন্তু দাদা’র সাথে তখনো আমার দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। দাদার লেখা ভালো লাগার কারণে নিরবে অনুসরণ করতাম। এটা আমার ছোটবেলা থেকেই অভ্যাস। কারো লেখা ভালো লাগলে তাকে অনুসরণ করা। বাংলাদেশে যখন ইন্টারনেট আসলো তখন শুরুর দিকেই আমি এই মাধ্যমটির সাথে পরিচয় হই। হটমেইল-এ তখন আমি একটা একাউন্ট খুলি। সেই মেইল দিয়ে আমি তখন ইলেকট্রনিক চিঠি চালাচালি শুরু করি। বলতে গেলে সেই শুরুর দিকেই দাদার সাথে তখন আমার মেইল চালাচালি শুরু হয়।

তখন সুব্রত’দা খুব ইন্টারেস্টিং একটা বিষয় নিয়ে মেইলে আমার সাথে মত বিনিময় করতেন। বাংলাদেশের উপন্যাস নিয়ে দাদা একটা অনলাইন পোর্টালের কথা খুব গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন তখন। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে গ্লোবালি কীভাবে বাংলাদেশের উপন্যাসকে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, এরকম একটি ভাবনা থেকে দাদা’র সেই উদ্যোগকে আমি খুবই উৎসাহের সাথে অনুসরণ করতে থাকি। ‘বাংলাদেশি নভেলস’ নামে সেই উদ্যোগকে আরো কীভাবে আকর্ষণীয় করা যায়, সেসব বিষয়ে দাদা আমার সাথে মেইলে আলোচনা করতেন।

প্রতি সপ্তাহে আমি সুব্রত’দার সেই উদ্যোগে নতুন আরো কী কী হচ্ছে, তা জানার জন্য সুযোগ পেলেই মেইল করে জানার চেষ্টা করতাম। ২০০৩ সালের ২ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশি নভেলস’ অনলাইনে যাত্রা শুরু করলো। সেদিন অনুষ্ঠান শুরুর অন্তত আধঘণ্টা পর আমি অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখি এলাহি কাণ্ড। সুব্রত’দা অবশ্য মেইলে আমাকে অনুষ্ঠানের বিস্তারিত জানিয়েছিলেন।

আমি তখন আইসিডিডিআরবি’র একটি গবেষণা কাজের সাথে যুক্ত। সেদিন আমার চট্টগ্রাম যেতে হবে। তাই অনুষ্ঠানে আমার বেশিক্ষণ থাকার সুযোগ হয়নি। সুব্রত’দার সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় না করেই আমি বরাবরের মত পেছন থেকে পালিয়েছিলাম। প্রায় ছয় মাস চট্টগ্রামে থাকার সময় আমি কোনো মেইল চেক করতে পারিনি। ঢাকায় ফিরে দাদার মেইল পেলাম। খুব লজ্জ্বিত হয়ে সেই মেইলের জবাব দিলাম। তারপর ২০০৪ সালে অমর একুশে বইমেলায় বাংলা একাডেমিতে সুব্রত’দার সাথে আমার সরাসরি দেখা হলো।

সুব্রত’দা একজন সুলেখক, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক, সম্পাদক, গবেষক, শিক্ষক, কালচারাল এক্টিভিস্ট, সংগঠক, ব্লগার, টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে ততদিনে আমার কাছে নানাভাবে পরিচিত হয়ে উঠলেন। কিন্তু সবকিছু ছাড়িয়ে সুব্রত’দা ধীরে ধীরে আমার একজন দাদা হয়ে উঠলেন। ব্যক্তি জীবনে আমি যে দু’চারজন মানুষের কাছে একান্তভাবে নালিশ করতে পারি, বিভিন্ন আবদার করতে পারি, অনুরোধ করতে পারি, সেই বিরল অঙ্গনে সুব্রত’দা আমার ব্যক্তি জীবনের অংশ হয়ে গেলেন।

আমার লেখালেখি নিয়ে সুব্রত’দার অনেক পরামর্শ আমি গ্রহণ করেছি। লেখার অনেক বিষয় নিয়ে পরম্পরা আলোচনা করেছি। দেখা হলে আমাদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নানান বিষয়ে আলোচনা হতো। আমাদের সেই সম্পর্কটা যখন প্রায় তুঙ্গে তখন একদিন হুট করে দাদা সপরিবারে কানাডায় চলে গেলেন। ফলে আমি সেই আড্ডাগুলো এখনো খুব মিস করি। সুব্রত’দার কুড়ির বেশি বই প্রকাশ পেয়েছে। যদিও আমার পক্ষে সবগুলো বই পড়ার সুযোগ হয়নি। দশ-বারোটি যা পড়েছি তার মধ্যে অন্তত পাঁচটি বই আমার খুব ভালো লেগেছে।

উপন্যাস ‘অন্তর্বাহ’ আমাকে নানাভাবে ভাবিয়েছে। বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কীভাবে ধীরে ধীরে অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে তার একটি আভাস এই উপন্যাসে দেখা যায়। মহাভারতে অর্জুনের ছেলে অভিমন্যু’র নাম আমরা সবাই জানি। কিন্তু ‘অন্তর্বাহ’ উপন্যাসের অভিমন্যু দাস আমাদের পরিচিত গ্রামীণ সমাজের যে সুনিপুন বর্ণনা উপস্থাপন করে, তা এককথায় অভিনব। অভি’র স্মৃতিচারণে একে একে উপন্যাসের বিস্তৃতি ঘটে। শিক্ষকদের প্রতি অভি’র যে ভক্তি, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি অভি’র স্মৃতি থেকে উপন্যাসের কলকব্জা ধীরে ধীরে প্রকাশিত হতে থাকে। বিশেষ করে নদীতে লাশ ভেসে ওঠার মুহূর্তের যে বর্ণনা তা এখনো আমাকে শিহড়িত করে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে সুব্রত’দার গল্প বলার ধরণ। সহজ-সরল-নির্মোহ বলার ধরণে পাঠক খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অন্তর্বাহে ডুবে যায়।

‘রবীন্দ্রনাথ: কম-জানা, অজানা’ বইটি প্রবন্ধের হলেও রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে এই বইয়ে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বিশ্বের নানান দেশে প্রকাশিত অনেক লেখার একটা চুম্বক অংশ এতে সংযোজিত হয়েছে। যা রবীন্দ্র বিষয়ক অন্যান্য যে কোনো বইয়ের তুলনায় বেশ আকর্ষণীয়। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথের খুব কম আলোচিত সাক্ষাৎকার, রবীন্দ্রনাথের অস্ট্রেলিয়া সফর প্রসঙ্গ এবং আমেরিকায় রবীন্দ্র অস্তিত্বের সংকট: হিন্দু-জার্মান ষড়যন্ত্র মামলা বিশেষভাবে আমার দৃষ্টি কেড়েছে। সুব্রত’দা নিজে একজন রবীন্দ্র গবেষক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যে কোনো বিষয়ে দাদা’র পঠন ও চর্চা আমাকে সত্যিসত্যি ইর্ষা জাগায়।

ছোটবেলা থেকেই রামায়ণ ও মহাভারতের প্রতি আমার প্রবল আকর্ষণ। এই দুই মহাকাব্য ছোটবেলায় আমি অনেকবার শুনেছি। আমার মায়ের কাছে আসতেন প্রতিবেশী কৈকেয় পিসি। মায়ের কাছে পিসি যখন রামায়ণ ও মহাভারত নিয়ে গল্প করতেন তখন আমি পাশে বসে শুনতাম। মাঝে মাঝে পিসিকে প্রশ্ন করে ঘটনার আরো বিস্তারিত জানতে চাইতাম। কলেজে পড়ার সময় আমি রামায়ণ ও মহাভারত প্রথম পাঠ করি। সেটা ছিল কালীপ্রসন্ন সিংহ-এর অনুবাদে মহাভারত। তখন খুব কঠিন লাগলো। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে রাজশেখর বসু’র (সারানুবাদ) অনুবাদে মহাভারত অনেক সহজ লেগেছে। এরপর উপেন্দ্রকেশর রায় চৌধুরী’র ছোটদের রামায়ণ ও ছোটদের মহাভারত পড়েছি।

রামায়ণ ও মহাভারত পাঠে আমি ধর্ম, দর্শন, ইতিহাস ও সাহিত্যকে একসাথে পেয়েছি। এরপর নিজে যখন সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা করলাম তখন থেকে রামায়ণ ও মহাভারত আমাকে পুনঃপুনঃ পাঠ করতে বাধ্য করেছে। পিটার ব্রুকের নির্মিত মহাভারত দেখেছি। রবীন্দ্রনাথের মহাভারত পড়েছি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘আমাদের মহাভারত’ পড়েছি। যার ধারাবাহিকতায় সুব্রত’দার লেখা ‘আমার মহাভারত’ আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কয়েক বছর আগে মাহবুব লীলেন-এর ‘অভাজনের মহাভারত’ পড়েছি। পৌরাণিক কাহিনী হলেও প্রতিবার মহাভারত পাঠে আমি নতুন নতুন আধুনিক বিষয়ের সন্ধান পেয়েছি। বলতে গেলে প্রতিবারই আমার মধ্যে মহাভারত পাঠে এক ধরণের অনুসন্ধান কাজ করে। মহাভারতের বীরদের মধ্যে যার যেমন অস্ত্রবিদ্যা সে তেমন শক্তিশালী। অনেকটা বর্তমান যুগে যে দেশের যত আধুনিক অস্ত্র সে দেশ তত শক্তিশালী’র মত ব্যাপার।

সুব্রত’দার ‘আমার মহাভারত’-এ জৈমিনি মহাভারত অংশটি আমার বিশেষ দৃষ্টি কেড়েছে। যদিও জৈমিনি মহাভারত আমার পড়া হয়নি। ভবিষ্যতে পড়ার আগ্রহ তৈরি করার জন্য সুব্রত’দার ‘আমার মহাভারত’ বইটি একটি অন্যতম উৎস হয়ে গেছে। মহাভারতে কৃষ্ণ দ্বৈপায়ণ বা ব্যাসদেব যে দক্ষতায় এত বড় একটি গ্রন্থের বিষয়-আশয় অত্যন্ত সুদক্ষতার সাথে বর্ণনা করেছেন, সেই বইয়ের যে কোনো আলোচনা আমি মুগ্ধতা নিয়ে পড়ি। সুব্রত’দার বইটি সেই অর্থে এখনো আমার কাছে পূর্ণাঙ্গ নয়। দাদাকে অনুরোধ করব বইটিতে আরো অনেক প্রসঙ্গ যুক্ত করতে। বিশেষ করে কনস্টান্টিনোপলের সাথে মহাভারতের একটি সময় হিসেবে তুলনামূলক আলোচনা। আর মেগাস্থিনিস যখন প্রাচীণ ভারত ভ্রমণ করেন, তখনকার ঘটনাবলীর সাথে মহাভারতের একটি তুলণামূলক আলোচনা আমার খুব পড়ার ইচ্ছা। আর এটা সুব্রত’দা খুব ভালো করেই পারবেন বলেই আমি মনে করি।

সুব্রত’দার ‘রবীন্দ্রনাথ ও মহাভারত’ বইটি আমার ভালো লেগেছে। এই বইটিতে সুব্রত’দা রবীন্দ্রনাথের মহাভারতপ্রীতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। যদিও বইটিতে তত্ত্বের চেয়ে তথ্যের সমাবেশ বেশি। বিশেষ করে চিত্রাঙ্গদা কাব্যনাট্য ও নৃত্যনাট্য বিষয়ে মিথের নির্মাণ বিষয়ে একটি গুরুগম্ভীর নান্দনিক আলোচনা আমার প্রত্যাশায় ছিল। যা সুব্রত’দা এড়িয়ে গেছেন। তবে জাভা ও বালি দ্বীপে মহাভারতের সংস্কৃতিচর্চা বিষয়টি ভালো লেগেছে। তবে বইটিতে একটি সমন্বিত গ্রন্থপঞ্জি ও নির্ষণ্ট দিলে বইটি আরো পাঠকের তৃষ্ণা মেটাতে সক্ষম হতো।

হাইস্কুলে আমি কিছুদিন সংস্কৃত পড়েছি। ধীরে ধীরে ভুলেও গেছি। রামায়ণ ও মহাভারত পুনর্পাঠের জন্য এখন নতুন করে সংস্কৃত শিখতে ইচ্ছে হয়। তাহলে অন্তত হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশের সংস্কৃত অনুবাদ পড়তে পারতাম। এটিকে সবচেয়ে মুলানুগ মহাভারত বলে মান্য করা হয়। যদিও কালীপ্রসন্ন সিংহের চেয়ে রাজশেখর বসু অনেক বেশি মুলানুগ অনুবাদ করেছেন। তবে তা অনেক সংক্ষিপ্ত। ভবিষ্যতে রামায়ণ ও মহাভারত নিয়ে সুব্রত’দার থেকে আরো আকর্ষণীয় বইয়ের প্রত্যশা আমার থাকবে।

রবীন্দ্রনাথের পাশাপাশি নজরুলকে নিয়ে সুব্রত’দার পঠন ও চর্চা আমাকে মুগ্ধ করে। বিশেষ করে ‘নজরুল-বীক্ষা’ বইটি আমার ভালো লেগেছে। কাজী নজরুল ইসলাম যেমন আমাদের কাছে বিদ্রোহী কবি, তেমনি লক্ষীপ্রসাদ দেবকোটা নেপালের মহাকবি। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাথে দেবকোটার ‘পাগল’ কবিতার তুলনামূলক আলোচনা সত্যি আমাকে মুগ্ধ করেছে। বইটিতে নজরুলের ‘বাঁধনহারার গঠনশৈলী বেশ নান্দনিকতার সাথে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে নজরুলের সাহিত্যে ইউরোপীয় সাহিত্যের বিষয়-আশয় এবং পশ্চিমা সমালোচকদের দৃষ্টিতে নজরুল সাহিত্য আমাকে মুগ্ধ করেছে।

সুব্রত’দার লেখা ‘শ্রীচৈতন্যদেব’ বইটি আমার দৃষ্টি কেড়েছে। যদিও বইটি আমি এখনো পাঠ করতে পারিনি। বিগত তিন বছরে কেনা বইগুলো এখনো প্যাকেবন্দী অবস্থায় পরে আছে। সিনেমা বানাতে গিয়ে এই তিন বছর পড়াশুনা অনেকটা কম হয়েছে। বইটি খুঁজতে আমাকে অনেক গলদঘর্ম করতে হবে। শ্রী চৈতন্যদেব কি সত্যিই পুরীর সমুদ্রে অথবা জগন্নাথের দারু অঙ্গেই লীন হয়ে গিয়েছিলেন সেই রহস্য জানার জন্যই বইটি কিনেছিলাম। মানবতাবাদী বৈষ্ণবদের ধর্মচর্চা বর্ণবাদী ব্রাহ্মণগণ কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে চৈতন্যদেবের মৃত্যুরহস্য নিয়ে নানান কিসিমের রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। খুব শিঘ্রই সুব্রত’দার বইটি পড়ে এই রহস্য অনুসন্ধান করার চেষ্টা করব।

সাম্প্রতিক সময়ে সুব্রত’দা কানাডায় বাংলা সাহিত্যের নানাপ্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা লিখছেন। কিছু কিছু আমি পড়েছি। বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বে ছড়িয়ে দেবার জন্য সুব্রত’দার এই নিরলস পরিশ্রম আমাকে দারুণভাবে মুগ্ধ করে। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ও শিক্ষক হলেও সাহিত্যের প্রতি তার এই অনুরাগ এবং বাংলা সাহিত্যকে বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণে বিচার বিশ্লেষণ বাংলা সাহিত্যের জন্য একটি সুদূরপ্রয়াসী কর্মযজ্ঞ। এই কর্মযজ্ঞ দিনে দিনে আরো বিকশিত হোক সুব্রত’দার হাতে। এটাই হবে আমার প্রত্যাশা।

মহাভারত-এ সুব্রত’দার পছন্দের চরিত্র অভিমন্যু আর আমার কর্ণ। কর্ণ চরিত্র পছন্দের কারণ তার আদর্শ। আদর্শকে কর্ণ নিজের জীবন দিয়েও জয়ী করেছেন। কুন্তী বা কৃষ্ণের কাছে আদর্শকে জলাঞ্জলি না দিয়ে কর্ণ দুর্যোধনের সাথে বন্ধুত্বকে মহান করেছেন। নিজের রক্তের ভাইদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে প্রাণ দিয়েছেন। আমি নিজেও আদর্শকে ধর্ম জ্ঞান করি। দাদার সাথে বসে মহাভারত দেখা ও মহাভারত নিয়ে আলোচনা করার দীর্ঘ ইচ্ছা এখনো আমি অন্তরে লালন করি। একদিন নিশ্চয়ই আমার সে আশা পূর্ণ হবে। তবে মহাভারত ও রামায়ণ নিয়ে সুব্রত’দার হাতে আরো নতুন নতুন বিশ্লেষণী লেখার প্রতি আমার নির্মোহ প্রত্যাশা থাকবে সবসময়।

রেজা ঘটক: কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা

Calendar

April 2021
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

http://jugapath.com