সুরে আর কণ্ঠের কারিগর বারী সিদ্দিকী’র চতুর্থ প্রয়াণ দিবস

প্রকাশিত: ২:০০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০২১

সুরে আর কণ্ঠের কারিগর বারী সিদ্দিকী’র চতুর্থ প্রয়াণ দিবস

 

বিনোদন ডেস্কঃ সুরে আর কণ্ঠের কারিগর বারী সিদ্দিকী’র আজ চতুর্থ প্রয়াণ দিবস । একস্বপ্নীল সুরের মায়ায় আবিষ্ট করে রেখেছেন লাখো দর্শক-শ্রোতাকে বছরের পর বছর।২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বর ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বারী সিদ্দিকী স্বশরীরে না থাকলেও তার রেখে যাওয়া মায়া জড়ানো গানে দর্শকদের মাঝে অমর হয়ে আছেন।

 

 

বারী সিদ্দিকী ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেত্রকোনায় এক সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বাবা প্রয়াত মহরম আলী ও মা প্রয়াত জহুর-উন-নিসা। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে বারী সিদ্দিকীই ছিলেন সবার ছোট।

 

 

১২ বছর বয়সে নেত্রকোনার শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের কাছে সংগীতে তালিম নেন। তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষসহ অসংখ্য গুণী শিল্পীর সান্নিধ্য লাভ করেন। পরে ক্লাসিক্যাল মিউজিক নিয়ে পড়াশোনা করেন। বাঁশির প্রতি আগ্রহী হয়ে উচ্চাঙ্গসংগীতেও প্রশিক্ষণ নেন। নব্বইয়ের দশকে ভারতের পুনেতে গিয়ে পণ্ডিত ভিজি কার্নাডের কাছে তালিম নেন বারী সিদ্দিকী। দেশে ফিরে লোকগীতির সঙ্গে ক্লাসিক মিউজিকের সম্মিলনে গান গাওয়া শুরু করেন।

 

বারী সিদ্দিকী মূলত গ্রামীণ লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক ধারার গান গেয়েছেন। তার গাওয়া বিখ্যাত গানের মধ্যে রয়েছে- শুয়া চান পাখি, আমার গায়ে যত দুঃখ সয়, সাড়ে তিন হাত কবর, পুবালি বাতাসে, তুমি থাকো কারাগারে, রজনী প্রভৃতি।

 

 

১৯৯৫ সালে হুমায়ূন আহমেদের ‘রঙের বাড়ই’ নামের একটা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে প্রথম সংগীত পরিবেশন করেন বারী সিদ্দিকী। এরপর, ১৯৯৯ সালে হুমায়ূন আহমেদের রচনা ও পরিচালনায় ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে সাতটি গানে কণ্ঠ দেন তিনি। এর মধ্যে ‘শুয়া চান পাখি’ গানটির জন্য তাঁর পরিচয় ও শ্রোতাপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। তারপর, আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

 

 

১৯৯৯ সালে জেনেভায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাঁশি সম্মেলনে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনি অংশগ্রহণ করেন। তিনি প্রবাস প্রজন্ম জাপান সম্মাননা (২০১৪), সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস পেয়েছেন।

ছড়িয়ে দিন