সূরা আদ-দাহর বা আল-ইনসান (৭৬)

প্রকাশিত: ১:৩২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০২১

সূরা আদ-দাহর বা আল-ইনসান (৭৬)

মুহম্মদ নূরুল হুদা

০১
কালের প্রবাহে এসে হলো অবসান
এমনও অধ্যায়, করো অবধান,
যখন তেমন উল্লেখ্য ছিল না
মানুষের অবস্থান।
০২
মানুষকে আমি সৃষ্টি
করেছি মিলিত শুক্রবিন্দু থেকে,
তাকে মূলত পরীক্ষা করবো বলে।
তাইতো দিয়েছি তাকে
শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি
(অর্থাৎ বিবেক, জ্ঞান ও বুদ্ধি)।
০৩
অবশ্যই দিয়েছি তাকে
তার পথের নির্দেশনা।
সে কৃতজ্ঞ হবে নাকি
অকৃতজ্ঞ হবে,
সেটি তারই বিবেচনা।
০৪
যারা অকৃতজ্ঞ তাদের জন্য
আমি তৈরি করে রেখেছি
শিকল, বেড়ি ও জ্বলন্ত আগুন।
০৫
সৎকর্মশীল কৃতজ্ঞ ব্যক্তিবৃন্দ
পান করবে এমন পানীয়,
যাতে আছে (সুরভিত) কর্পুরের মিশ্রণ।
০৬
এটি এমন এক ঝর্নাধারা,
যা প্রবাহিত রাখা যায় যে কোনো জায়গায়,
যা থেকে যে কোনো সময়ে পান করবে
আল্লাহর পেয়ারা বান্দারা।
০৭
এই সৎকর্মশীল ব্যক্তিরা
পূরণ করে মানত আর
ভয় করে সেই দিবসের,
যার সর্বনাশ হবে সর্বগ্রাসী।
০৮
যদিও আসক্ত তারা ‌আহার্যের প্রতি,
তবু তারা নিজেদের খাবার থেকে দান করে
তাদেরকে যারা অভাবী, এতিম ও বন্দি।
০৯
আর তারা মনে মনে বলে, “আমাদের উদ্দেশ্য
আল্লাহতালার সম্পূর্ণ সন্তুষ্টি, আর কিছু নয়।
এর বিনিময়ে আমরা চাই না কোনো কিছু
তোমাদের কাছ থেকে,
এমনকি কোনো কৃতজ্ঞতাও নয়।
১০
আমরা তো আমাদের প্রতিপালকের
কাছ থেকে আশঙ্কায় আছি
ভয়াল ও ভয়ংকর এক দিবসের।”
১১
ফলে মহান আল্লাহ তাদেরকে
সেই দিবসের অকল্যাণ থেকে
সুরক্ষা দেবেন; অধিকন্তু
দান করবেন প্রফুল্লতা ও পরমানন্দ।
১২
এবং তাদের সবর ও সহনশীলতার
জন্য প্রদান করবেন উদ্যান আর
রেশমি বস্ত্রের পুরস্কার।
১৩
সুসজ্জিত সুউচ্চ আসনে
আসীন হবে তারা সেখানে;
সেখানে থাকবে না অতিশয় তাপ
আর অতিশয় শীতের অনুভুতি।
১৪
তাদের ওপর বিস্তীর্ণ থাকবে
জান্নাতী বৃক্ষের ছায়া,
আর সব ধরনের ফলমূল থাকবে
তাদের সহজ নাগালে।
১৫
জান্নাতে তাদের যাবতীয় আহারাদি
পরিবেশন করা হবে রৌপ্যপাত্রে,
আর পানীয় পরিবেশিত হবে
স্ফটিক-সদৃশ স্বচ্ছ পাত্রে।
১৬
পরিবেশনকারীরা রজতশুভ্র স্বচ্ছ পাত্রে
পরিমাণমতো ভরে দেবে সেই পানাহার।
১৭-১৮
সেখানে তাদের পান করতে দেয়া হবে
আদ্রক মিশ্রিত পানীয়, যা মূলত
’সালসাবিল’ নামক এক জান্নাতী ঝর্নার জল।
১৯
তাদেরকে পরিবেশন করবে চিরকিশোরগণ,
যাদেরকে দেখলে মনে হয়
ওরা যেন ছড়ানো ছিটানো মুক্তোগুচ্ছ।
২০
সেখানে গিয়ে তুমি দেখতে পাবে
ভোগবিলাসের জন্য নিয়ামত আর নিয়ামত,
আর বিশাল সাম্রাজ্য এক,
যার অধিকার এখন তোমার।
২১
জান্নাতের অধিবাসীদের পরিধেয়
মিহি বা মোটা সবুজ রেশমের।
তাদের অলঙ্কার রূপার কঙ্কন।
প্রতিপালক তাদেরকে
পান করাবেন পানীয় বিশুদ্ধতম।
২২
(তাদের জানানো হবে)
অবশ্যই এসব তোমাদের পুরস্কার,
আর স্বীকৃতি তোমাদের কর্ম-প্রচেষ্টার।
২৩
আমি তোমার প্রতি ধাপে ধাপে
নাযিল করেছি এই কোরআন ;
২৪
অতএব ধৈ‌র্যসহকারে প্রতীক্ষা করো
তোমার প্রতিপালকের। আর
তাদের মধ্যে রয়েছে যে কাফির বা পাপিষ্ঠ,
আনুগত্য করো না তার।
২৫
আর সকাল সন্ধ্যায় স্মরণ করো
তোমার প্রতিপালকের নাম।
২৬
রাতের বেলায় কিছুটা সময় সিজদায়
অবনত হও তাঁর প্রতি,
আর রাতের দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর
পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণ করো।
২৭
অবিশ্বাসীরা তো ভালোবাসে পার্থিব জীবনকেই.;
আর উপেক্ষা করে পরকালের কঠিন দিবস।
২৮
আমিই সৃষ্টি করেছি ওদেরকে, আর
সৃদৃঢ় গঠনও প্রদান করেছি আমিই।
যখন আমি ইচ্ছা করবো, তখন
ওদের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠা করবো
অন্য কোনো জাতিকে।
২৯
এই পবিত্র কোরআন এক উপদেশ-বাণী,
অতএব যার ইচ্ছা সে অবলম্বন করুক
তার প্রতিপালকের পথ।
৩০
কিছুই তো ইচ্ছা হবে না তোমাদের,
যদি আল্লাহ ইচ্ছা না করেন।
অবশ্যই আল্লাহ
সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
৩১
যাকে ইচ্ছা তাকেই তিনি আপন
অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত করেন;
কিন্তু জালিমরা – তাদের জন্য
তিনি তো প্রস্তুত রেখেছেন
মর্মন্তুদ শাস্তি।
২৯.০৪.২০২১

দয়াময় দয়ালু আল্লাহর নামে
[বন্ধুগণ,
কোরআন শরীফের
সূরা আদ-দাহর বা আল ইনসান
মদিনায় অবতীর্ণ; আয়াত সংখ্যা ৩১,
রুকু সংখ্যা ০২। এই সূরায়
মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য, মানুষের চলার দুটি পথ
যথা কৃতজ্ঞতার পথ ও অকৃতজ্ঞতার পথ,
যারা অকৃতজ্ঞ তাদের পরিণাম,
যারা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ তাদের
গুণাবলি ও পুরস্কার প্রভৃতির উল্লেখ আছে।
আর এ নিশ্চয়তাও প্রদান করা হয়েছে যে,
মহান আল্লাহর কাছ থেকে অবতীর্ণ
পবিত্র কোরআনে অটল থাকা ও
তাকে ধারণ করা প্রত্যেক
বিশ্বাসীর জন্য অবশ্য কর্তব্য।
স্বশিক্ষা অনুশীলন হিসেবে এই
সূরার মর্মানুবাদের খসড়া দেয়া হলো।
সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহতালার।
– মু.নূ.হু.]