সেক্স ভাইরাসে আক্রান্ত আমাদের জনসমাজ

প্রকাশিত: ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ, মে ১১, ২০১৯

সেক্স ভাইরাসে আক্রান্ত আমাদের জনসমাজ

নার্গিস সোমা জাফর

দেশে সেক্স ভাইরাসে আক্রান্ত আমাদের জনসমাজ ।
৯ দিনে ৪১ জন ধর্ষন হয়েছে, বিষয়টি কি দেশের মানুষদেরকে একবার ও ভাবিয়ে তুলছে না? আজ আমরা নিরাপদ, কালকে এমন ঘটনা তো আপনার কিন্বা আপনার বাড়ীর কারো সাথে হতে পারে তখন আপনি কি করবে্‌ ভেবেছেন কি কখনো?
এত ধর্ষন হচ্ছে এর বিচার সবার সামনে কেনো হচ্ছে না? বিচারপতি এখানে নিরব কেনো?
নাকি এমন বিষয় এখন স্বাভাবিক রূপ নিতে যাচ্ছে?
ছেলে / মেয়ের এই নিরাপত্তা কে দেবে? আগে যে এমন হয় নি তাও কিন্তুু না । হয়েছে, তবে হয় নি প্রচার । প্রচারের অভাবে ধর্ষনকারী সমাজে মাথা উচু করে ঘুরে বেরিয়েছে। এখন তো প্রচারের অভাব নেই তবে তাদের শাস্তি কেন হচ্ছে না ঠিকমত? আমরা কি সারা জীবন এমন ধর্ষনকারীদের সামনে ধর্ষিত হবো প্রতিনিয়ত?
সমাজটা যদি আপনার আমার তৈরী হয় তবে এদের শাস্তি দেবার দায়িত্ব আমরা যখন নিজেরা নেবো জনসম্মুখে তখন কি এর প্রতিকার হওয়া সম্ভব?

মানুষ আগে মেয়েদের পোশাকের দোহাই দিতে বলতো, বেপর্দার জন্য সমাজে এমন অনিষ্ট হচ্ছে । যদি তাই হতো তবে ১ বছরের বাচ্চার পোশাকের দোষ নাকি শরীরের?
ছেলেরা কেন বলাতকারের শিকার হচ্ছে? তাদেরই বা কিসের দোষ?
বোরকা পরা মেয়ে কি তার পর্দার শক্তিতে ধর্ষন ঠেকাতে পেরেছে?
মাদ্রাসা যেখান ইসলাম শিক্ষার হাতেখড়ি সেখানেও তো আমাদের শিশুরা নিরাপদ না । তবে নিরাপদটা কোথায়? শিক্ষাগুরুর চোখে আর ছাত্রের জন্য স্নেহ দেখা যায় না । দেখা যায় কাম বাসনা। এর জন্য দায়ী কে? আমাদের শিক্ষা নাকি পরিবারের শিক্ষা?
একটা শিশু তার বাবার কাছে নিরাপদ না,শিক্ষকের কাছে নিরাপদ না পরিবারের শুধু মাত্র তার “মা” ছাড়া সবার কাছে সে নিরাপত্তাহীন।
এমন আইন কেন হয় না যে আইনে একজন ধর্ষনকারীকে জনগন শাস্তি দেবে প্রকাশ্যে? ধর্ষন কারীর লিঙ্গ কর্তন করতে হবে জনসম্মুখে এবং তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এই সমাজেই নিজেকে দেখবে সে সব সময় নিজের চোখে। আমরা তো সমাজের অনেক নিয়ম তৈরী করি এই নিয়ম কবে তৈরী হবে?
শিক্ষক দ্বারা ছাত্রী ধর্ষিত হচ্ছে বেশী । তারমানে কি দাড়াচ্ছে ? শিক্ষকরা বেশি সেক্স ভাইরাস দ্বারা আকান্ত? কিছু এমন শিক্ষাকের জন্য শিক্ষক সমাজ আজ কলঙ্কি । হাতেখড়ি দেবার হাত যদি বিনাশের কারণ হয় তবে শিক্ষার মান কোথায়? সবাই বলে চিত্রশিল্পী, সঙ্গীত শিল্পী, নৃত্য শিল্পী মানে শিল্পী গোত্রের সবার নাকি আবেগ বেশী । কিন্তু শিল্পীরা তো কোথাও ধরষকের ভুমিকা নিচ্ছে না ।
এখন সংস্কৃতি চর্চাটা কমে যাচ্ছে । সবাই বিনোদন খোঁজে মোবাইলে । মোবাইলে প্রেম, মোবাইলে বিনোদন, আমরা হারাচ্ছি আবেগ- ভালোবাসা, হারাচ্ছি পরস্পরের প্রতি সম্মান, শদ্ধা । মোবাইলের সুবিধা গুলো আমরা ব্যবহার করছি ভিন্ন্ ভাবে । যেমন করছি ফেসবুকের অপব্যবহার , বেড়েছে পরকীয়া, বেড়েছে প্রেমের নামে ভন্ডামী, বেড়েছে সামাজিক অবক্ষয়।
আমরা কবে সচেতন হবো নিজের সম্পর্কে? সচেতনতার অভাবেই আজ আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, নিজের নিরাপত্তার কথা নিজেকেই ভাবতে হবে । কারণ নিজের ক্ষতি পুরণের দায়ভার কেও নেবেনা হয়ত সাময়িক ক্ষতিপূরন কেও দিবে সারাজীবন তা বহন করতে হবে নিজেকেই। নিজেকে তৈরী করতে হবে একজন মানুষ হিসেবে, মানুষ মানে যার( মান + হুশ) আছে। আমরা মানুষ কয়জন? দূর্গা কালীর রূপ নিজের ভেতর আনতে হবে ঘোমটার নিচে মুখ লুকালে সব কিছুই লুকিয়ে যাবে হবে সবার অগোচর, একজন মেয়ে সেই এক সময় হয় একজন ” মা” । তবে মেয়েরা শক্তিহীন কিভাবে? নিজের শক্তিকে যেদিন আমরা চিনতে পারবো সেদিনই পারবো নিজের সম্মান রক্ষা করতে!

লেখক ঃ শিক্ষক ও চিত্রশিল্পী