সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী টানা তৃতীয়বারের মতো সংসদ উপনেতা

প্রকাশিত: ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী টানা তৃতীয়বারের মতো  সংসদ উপনেতা

এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সংসদ উপনেতা হলেন তিনি।আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি ।
তিনি আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কান্ডারী। স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ায় তার রয়েছে বিশেষ অবদান। দুঃসময়ে তিনি ভরাট কণ্ঠের শ্লোগানে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন।
সাজেদা চৌধুরী ২০০৯ সালের ফেব্রুারিতে জাতীয় সংসদের প্রথম বারের মত উপনেতা নির্বাচিত হন।
বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ ফরিদপুর-২; (নগরকান্দা, সালথা ও সদরপুর আংশিক) থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি এ অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১৯৩৫ সালের ৮ মে মাগুরা জেলায় মামা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর স্বামী রাজনীতিবিদ এবং সমাজকর্মী গোলাম আকবর চৌধুরী। ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর আকবর চৌধুরী মৃত্যুবরণ করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে পরিচয়ের মাধ্যমে ১৯৫৬ সাল থেকে এক সাধারণ তরুণী সাজেদা চৌধুরী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতার হত্যাকান্ডের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১১ বছর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে কলকাতা গোবরা নার্সিং ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন সাজেদা চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিলেন এই প্রবীন রাজনীতিবিদ।
১৯৭২-১৯৭৫ সময়কালে বাংলাদেশ নারী পুনর্বাসন বোর্ডের পরিচালক ছিলেন তিনি। ১৯৭২-১৯৭৬ সাল পর্যন্তক বাংলাদেশ গার্ল গাইডের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন।
৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর তিনি এবং সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন মিলে আওয়ামী লীগকে নতুন করে গড়ে তোলেন। দলের নানা মত পার্থক্যের মধ্যেও শেখ হাসিনার প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য রেখেছেন। জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার ব্যাপারেও তিনি বিশেষ অবদান রেখেছেন।১৯৮১ সালে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি ১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯২ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়কের দায়িত্বও তিনি পালন করেন।
সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১৯৭৪ সালে গ্রমীণ উন্নয়ন ও শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ইউনেস্কো ফেলোশিপপ্রাপ্ত হন। একই সময় তিনি বাংলাদেশ গার্ল-গাইড এসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক সনদ সিলভার এলিফ্যান্ট পদক লাভ করেন। তিনি ২০০০ সালে আমেরিকান বায়োগ্রাফিক্যাল ইনস্টিটিউট কর্তৃক ওমেন অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।