সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মদিনে 

প্রকাশিত: ১:৫৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১

সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মদিনে 

কামরুল হাসান
কাল সন্ধ্যাবেলা আমি ছিলাম ছাদে, চাঁদ আর সন্ধ্যাতারার সম্মোহনে। দেখি সেনাদের হেলিকপ্টার ওই চাঁদের আলোয় পথ চলে আবার মাথায় সার্চলাইটও জ্বালিয়ে রাখে। প্রশিক্ষণ বিমানগুলো দক্ষিণে মুখ করে আকাশে উঠে একটা চমৎকার বাঁকানো কার্ভ ধরে উত্তরে চলে এসে ফের নেমে যায় দক্ষিণে পুরাতন বিমানবন্দরের রানওয়েতে। রানওয়ে অবশ্য দেখা যায় না, চাঁদ দেখা যায়। মেঘেরা প্রাগৈতিহাসিক জন্তুর মতো চলে, কখনো চাঁদকে পিঠে নিয়ে চলতে চায়। চাঁদ এক রাজকুমারী বসে থাকে নিজ আসনেই, পিছলে নেমে পড়ে জীবজন্তুর পিঠ থেকে। অমনি মোহাচ্ছন্নতার ভেতর লেখক ও কবি ড. গোলাম মোস্তফার ফোন আসে। ‘আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, গ্রহণ করুন, ‘না’ করতে পারবেন না।’ বলি, পরীক্ষার প্রচুর খাতা দেখতে হবে, কঠিন চাপে আছি। তিনি নাছোড়বান্দা, আমাকে নিয়ে যাবেনই। কী উপলক্ষ? যখন শুনলাম সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মদিন পালন, তখন ‘না’ করা অসাধ্য হয়ে পড়ল। আমার প্রিয় লেখকদের তালিকায় সৈয়দ মুজতবা আলী উপরের দিকেই আছেন। আমন্ত্রণ কবুল করলাম।
গত শতকের গোড়ার দিকে, ১৯০৪ সালের এই ১৩ই সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন অবিভক্ত বাংলার, বর্তমানে আসামের অন্তর্গত করিমগঞ্জ জেলায়। জন্মশতবার্ষিকী তো পার হয়েছেই, তারপরও পেরিয়ে গেছে সতেরটি বছর। কোথায় অনুষ্ঠান? ভেবেছিলাম শাহবাগের কোথাও, যখন শুনলাম তেজগাঁওয়ে অবাক হলাম। সেখানে তো শিল্পকারখানা, লোহালক্কর আর হার্ডওয়্যার। সাহিত্য, সংস্কৃতির মতো সফটওয়্যার তেজগাঁওয়ের কোথায় মিলবে? ড. গোলাম মোস্তফা যখন জানালেন বিটাকে, আমি তো আরও হতভম্ব। বিটাক হলো বাংলাদেশ শিল্প প্রযুক্তি সহায়তা কেন্দ্র। সরকারি প্রতিষ্ঠান, এর মহাপরিচালক হলেন সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব। যোগসূত্রটি পরে খুঁজে পেলাম সৈয়দ মুজতবা আলী, বিটাক মহাপরিচালক আনোয়ার চৌধুরী ও কবি সৌমিত্র দেব তিন জনেই সাহিত্য চর্চার সঙ্গে যুক্ত এবং সিলেটি। ০ শেষোক্ত দুজন প্রতিবছর ১৩ সেপ্টেম্বর চিরপ্রণম্য কথাসাহিত্যিকের জন্মদিন পালন করেন।
তেজগাঁও শিল্প এলাকাকে আমার রহস্যেভরা এক জগৎ মনে হয়। আজ বিকেলে বিটাক চত্বরে ঢুকে মনে হলো এক গোলকধাঁধার ভিতর এসে পড়লাম, সেখানে ছোটো বড়ো টিনের চালের একতলা দালান, চার-পাঁচতলা দালান, কোনটা ঝকঝকে নতুন, কোনটা পুরনো মলিন, এই নিচু তলা তো ধাঁই করে উঠে যায় বহুতল ভবন, বিভিন্নপ্রকার গাছপালা, ঝোপঝাড়, গাদা করে রাখা লোহার পাইপ, ক্যাটারপিলার মেশিন মুজতবা আলীর রচনাবলীর মতোই বহুমুখী ও সুবিস্তৃত ছড়িয়ে আছে দশদিগন্তে। শেষাবধি যেখানে গিয়ে থামলাম সেটি দশতলা, নারিকেল গাছ আর চকচকে রূপালী সাত পতাকাদণ্ডের এক সুশৃঙ্খল সমুখভাগ নিয়ে দর্পিত উঠে গেছে ঊর্ধ্বে, প্রতিদ্বন্দ্বীহীন। দারোয়ান বল্ল, লিফটের ৯, সেও সাঁই করে উঠে গেল নবমতলায়। লিফট থেকে বেরিয়ে বামেও কাচের দরোজা, ডানেও তাই দেখি। আমি চিরকাল বামপন্থী, তবু সুবিধামতো ডানে যাই এবং সঠিক জায়গাটি পেয়ে যাই। আমার আমন্ত্রক ড. গোলাম মোস্তফা মুখোশপরা, আরও কিছু মুখোশপরা লোক নিয়ে সমুখের সারিতে বসে আছেন। কুরিয়ারে পাঠানো পার্সেলের মতো আমাকে ট্র্যাকিং করেছেন, স্বচক্ষে দেখলেন পার্সেলটি সঠিক ঠিকানায় সশরীরে উপস্থিত।
দরোজার দিকটায় একটি নিচু প্লাটফরমের উপর এক লম্বা টেবিল সাদা কাপড়ে পরিপাটি করে ঢাকা, গুণে গুণে ছয়টি চেয়ার তার পেছনে একসারিতে পাতা। ডিজিটাল ব্যানারটি, আলোর বৈপরীত্যে নিস্প্রভ, তাতে তখনো বিশেষ অতিথিদের অন্তর্ভুক্তি চলছে। ডিজিটালের এই সুবিধা, যিনি উপস্থিত তাকে ‘এ্যাড’ করো, যে আসেনি তাকে ‘ডিলিট’ করো। বিশেষ অতিথিদের প্রথমজন ড. গোলাম মোস্তফা প্রথমেই এসে গেছেন, দ্বিতীয়জন কবি শেলী সেনগুপ্তা উজ্জ্বল গাত্রবর্ণের সাথে ততোধিক উজ্জ্বল সবুজ শাড়িতে প্রথমসারি আলোকিত করে বসে আছেন, তৃতীয়জন হলেন বিশ্ব মানবাধিকার প্রতিনিধি প্রীতি সারমান, আর চতুর্থজন যে আমি, তা ডিজিটাল স্ক্রিনে নাম ভেসে ওঠার পর টের পেলুম। এই প্রশস্ত হলঘরটি, তাকে কোনোক্রমেই অডিটোরিয়াম বলা যায় না, একটি সমতল ভূমি, তাতে রূপালী পায়ের শুভ্রগদীর চেয়ার রাখা যতগুলো, অতিথি সংখ্যা যে তার অর্ধেকও হবে না চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়।

 

প্রধান অতিথি হলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব এহছানে এলাহী ,তিনি আর কবি সৌমিত্র দেব একই বিদ্যাপিঠ মৌলভীবাজার সরকারি বিদ্যালয়ের ছাত্র।i আর সভাপতি, তিনিই প্রধান আয়োজক, অতিরিক্ত সচিব জনাব আনোয়ার চৌধুরী। তারা দুজন একসঙ্গে এলেন, সঙ্গে বেশ কিছু লোক, ধারণা করি এরা বিটাকের কর্মী, বিশুদ্ধ সাহিত্যপ্রেমিক নয়, শূন্য চেয়ারগুলোর বেশ কিছু ভরে ফেল্লেন; ‘অডিয়েন্স’ একটা ‘সম্মানজনক’ চেহারা পেল। সভাপতি ও প্রধান অতিথি পদাধিকারবলে সরাসরি মঞ্চে গিয়ে ঠাঁই নিলে ডাকাডাকির ঝামেলা কমে যায়। ডাকতে হলো চার বিশেষ অতিথিকে, নিজেদের অবস্থান নিয়ে যারা দোদুল্যমান, সংশায়াচ্ছন্ন। মঞ্চে আসন নেবার পর সেই সংশয় কাটে, দোদুল্যমানতা রূপ নেয় স্থিরাঙ্কে। আজকের অনুষ্ঠানে একটিই প্রবন্ধ, তাকে মূল প্রবন্ধ বলা যেতে পারে, লিখেছেন কবি ও প্রাবন্ধিক সৌমিত্র দেব। প্রবন্ধটি আজই ছাপা হয়েছে সৈয়দ মুজতবা আলী পাঠাগার ও গবেষণা কেন্দ্রের ‘সুখবর’ নামের একটি চারপৃষ্ঠার, বইমেলা প্রতিদিন ধাঁচের, হাফ ডিমাই সাইজ পত্রিকায়। সৌমিত্রই আজকের অনুষ্ঠানের উপস্থাপক, তিনিই সরাসরি পোডিয়ামে উঠে রোস্ট্রামের উপরে রাখা মাইকটি তুলে ভণিতা ও বিশেষণহীন শুরু করেছিলেন সাবলীল ছন্দে। মাইকে ভাসা তার ভারী ও শ্রুতিমধুর কণ্ঠ সুনন্দ ছড়াল। তিনি পড়তে শুরু করলেন, ‘সৈয়দ মুজতবা আলীর জাতীয়বাদ চিন্তা’ প্রবন্ধটি। ব্যানার আর পত্রিকার শিরোনামে সামান্য পার্থক্য চোখে পড়ে তবে তাতে মূল অর্থ বদলায় না। ব্যানারে লেখা, সৈয়দ মুজতবা আলী ও তাঁর জাতীয়বাদ চিন্তা’। আমরা শ্রোতৃকুল নিজ নিজ পাঠে ও শ্রবণে মন দেই।

 

 

পর্ব ২
কবি সৌমিত্র দেব গড়পড়তা বাঙালির চেয়ে অনেকখানি দীর্ঘকায়। তিনি যাকে নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন, সেই সৈয়দ মুজতবা আলী গড়পড়তা বাঙালি লেখকের চেয়ে অনেকখানি দীর্ঘকায়। আজকের মূল প্রবন্ধ ‘সৈয়দ মুজতবা আলী ও তাঁর জাতীয়তাবাদ’ পাঠ চলছে। পাঠ করছেন প্রাবন্ধিক নিজেই। সৈয়দ মুজতবা আলীর বংশপরিচয় দিয়ে শুরু প্রবন্ধটি শুরুতেই এই প্রত্যয় জুড়ে দেয় যে মুজতবা আলীর পিতা সৈয়দ সিকান্দর আলীর ইংরেজি শিক্ষার প্রতি অনুরাগ থাকলেও সৈয়দ মুজতবা আলীর তেমন অনুরাগ ছিল না। তার অর্থ এই নয় যে তিনি ইংরেজি ভাষার প্রতি বিদ্বেষী ছিলেন। জার্মানীর বন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের উপর পিএইচডি অভিসন্দর্ভটি তিনি ইংরেজিতেই লিখেছিলেন। ভারতবর্ষ দখল করে রাখা ইংরেজদের তিনি অপছন্দ করতেন, এমন কথাও বলেছেন ইংরেজ শাসিত ভারতের রাষ্ট্রদূত হওয়ার চেয়ে স্বাধীন ভারতের কোনো দূতাবাসের দারোয়ান হওয়া শ্রেয়।
সৈয়দ মুজতবা আলীর জাতীয়তাবাদের ধরণ কী তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সৌমিত্র দেব ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি দেন। তাতে প্রতিভাত হয় সৈয়দ মুজতবা আলীর জাতীয়তাবাদ বাঙালি মুসলমান জাতীয়তাবাদ। অথচ মুজতবা আলী নিজে লিখেছেন, “বাঙালীর একথা ভুললে চলবে না, সে বাঙালী। সে হিন্দু নয়, মুসলমান নয়, খ্রীশ্চান নয়, সে বাঙালী।” এতে সুস্পষ্ট মুজতবা আলী অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। এর সাথে মিশেছিল তাঁর আন্তর্জাতিকতাবোধ। রবীন্দ্রনাথের ভাবশিষ্য গভীরভাবেই গুরুর মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। অটোগ্রাফ প্রত্যাশি মুজতবা আলীর খাতায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, “আমার দেশ যেন উপলব্ধি করে সকল দেশের সঙ্গে সত্য সম্বন্ধ দ্বারাই তার সার্থকতা।” সৌমিত্র দেব লিখেছেন , “গুরুদেবের এই জাতীয়তাবাদী দর্শন মুজতবা গ্রহণ করেছিলেন মনেপ্রাণে। তাদের স্বপ্নের জাতীয়তাবাদ বিকশিত মৈত্রীর বন্ধনে, বৈরী বিভেদে নয়। প্রথা বিরোধীতার নামে তিনি ঐতিহ্য বিসর্জন দেবার পক্ষপাতি ছিলেন না।” একথা স্মতর্ব্য যে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা হওয়া উচিত বলে প্রবন্ধ লেখার জন্য তাকে নিগৃহীত হতে হয়, তিনি পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে চলে যান। ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের তত্ত্ব যে অসাড় তা তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারেন। তিনি লিখেছেন, “আরবদের ভাষা আরবি, ধর্ম ইসলাম, জাতে তারা সেমিটিক। আরব মাত্রেরই এই তিন তিনটি ঐক্যসূত্র রয়েছে। পৃথিবীতে এমন উদাহরণ বিরল। তবু দেখুন তারা কয়টি রাষ্ট্রে বিভক্ত-তাদের ভিতর রেষারেষি কীরকম মারাত্মক!” মুজতবা আলীর জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি তাই ধর্ম, ভূখণ্ড, সরকার, এমনকি সার্বভৌমত্ব নয়, মূল ভিত্তি হলো সংস্কৃতি। উপসংহারে সৌমিত্র লিখেছেন, “মুজতবার জাতীয়তাবাদ ধর্মভিত্তিক তো নয়ই, প্রাদেশিকও নয়, নৃতাত্ত্বিক ধারা থেকে তা গড়িয়ে গেছে আন্তর্জাতিকতার দিকে। সংস্কৃতি নির্ভর জাতীয়তাবাদী চিন্তা বিস্তৃতি পেয়েছে আগ্রাসনে নয়, ভালোবাসায়।”
সৌমিত্র দেবের প্রবন্ধ আমরা মনোযোগ দিয়ে শুনলাম। তার মাধুর্যময় ভরাট কণ্ঠস্বর শ্রোতাদের আবিষ্ট রেখেছিল। নিখাদ উচ্চারণের সাথে তার সুদর্শন দৈহিকগঠন ও অবয়ব তৈরি করেছিল মুগ্ধতা। স্বল্প সময়ে বেশ কিছু তথ্যসহায়ক গ্রন্থের সাহায্যে তিনি যে প্রবন্ধটি দাঁড় করিয়েছেন তা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। এটিকে আরও বিস্তৃত করা যেতে পারে। যা আমাদের কাছে দৃষ্টিকটু লাগল তা হলো পত্রিকাটির অসংখ্য টাইপো এরর, অনিয়ন্ত্রিত যতিচিহ্ন বসে প্রবন্ধটির সৌন্দর্যহানি। বুঝি তাড়াহুড়ো করতে গিয়েই তা ঘটেছে, তবে মুদ্রণপ্রমাদ এত বেশি সংখ্যায় কাম্য নয় কিছুতেই।

 


প্রবন্ধ পাঠের পর শুভেচ্ছা বক্তব্য দিতে উঠলেন ওসমানী স্মৃতি সংসদের সভাপতি। তিনি জানালেন করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করলেও সৈয়দ মুজতবা আলী বড়ো হয়েছেন মৌলভীবাজারে। সেখানে তাঁর একটি বাংলো রয়েছে। তাঁরা তিনভাই উচ্চশিক্ষিত, তিনজনেই সুপণ্ডিত এবং লেখক। ‘সৈয়দ মুজতবা আলী দ্বিতীয় রবীন্দ্রনাথ হয়ে উঠেছিলেন’- বক্তার এই উক্তিকে আবেগের বেসামাল উৎসারণ বলেই প্রতীয়মান হলো। আজকের উৎসবে আলোচনার পাশাপাশি কবিতাপাঠ কথাটি রয়েছে। তাকে সফল করতে, গদ্যের একঘেয়েমি কাটাতে, কবিতা পড়তে এলেন আফলাতুন নাহার। কালো গভীর চোখের এই শ্যামাঙ্গীনি কবিকে হলঘরে প্রবেশমাত্র দেখেছিলাম লাল শাড়ি আর কালো চুলরাশি নিয়ে সবুজ পোষাকপরা কবি শেলী সেনগুপ্তের পাশে বসে আছেন। লাল সবুজের একটি কম্বিনেশন হালকা চোখে পড়েছিল। আফলাতুন নাহার পড়লেন ‘কোনো এক মেয়েকে’ শিরোনামের স্বরচিত কবিতা। এরপরে বিশেষ অতিথিদের মধ্যে প্রথম বক্তৃতা দিতে আহবান জানানো হলো বিশ্ব মানবাধিকার প্রতিনিধি জনাব প্রীতি সারমানকে।
সৈয়দ মুজতবা আলীর মতো ইনিও একজন ভূপর্যটক, এবং আশ্চর্য তিনি দেশ ঘুরেছেন ১১৭টি, যা মিলে গেল ১১৭তম জন্মবার্ষিকীর সাথে। মুজতবা আলী ভ্রমণগ্রন্থ লিখেছেন গোটা চারেক, ইনি একটিও লেখেননি। তবে তার ভাণ্ডারের সঞ্চয় রীতিমতো ঈর্ষাজনক, অভিজ্ঞতার ঝুলিটি ভারী। তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার সময় ড. গোলাম মোস্তফা বলেছিলেন, তিনি অনর্গল ইংরেজিতে বক্তৃতা দিতে পারেন। এর প্রমাণ পেলাম তার আধা বাংলা-আধা ইংরেজি বক্তৃতায়। তবে তার ইংরেজিকে আমার প্রাচীনগন্ধী বলেই মনে হলো, উচ্চারণে স্বদেশী ছাপ।
সৌমিত্র দেব সঞ্চালক, তিনি শুভেচ্ছা বক্তব্য দিতে ডাকলেন ‘বিশ্ববাংলা’ পত্রিকার সম্পাদক মেনন চৌধুরীকে। তিনি সংক্ষিপ্ততমরূপে কথা শেষ করলেন। পরের বক্তা বিটাকের একজন পরিচালক ড. এহসানুল করিম। চমৎকার উচ্চারণ ও কণ্ঠস্বর তার। ভেবেছিলাম তিনি অনেকক্ষণ বলবেন, কিন্তু তিনিও দ্রুতই শেষ করলেন সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রতি শ্রদ্ধা, মুগ্ধতা ও বিহ্বলতা প্রকাশ করে, এ আয়োজনের সাফল্য কামনা করে, শ্রোতাদের ধন্যবাদ দিয়ে।
এরপরের বক্তা বিশেষ অতিথি কবি ও লেখক ড. গোলাম মোস্তফা শুরু করলেন কবিতা দিয়ে। বুঝলাম এ হলো অচিরেই কথাপ্রবাহের যে ঘূর্ণিঝড় ওঠবে তার আগের শান্ত আকাশ। আমরা চেয়ারে শক্ত হয়ে বসি সে ঝড়ের দাপট দেখার জন্য। (ক্রমশঃ)

কামরুল হাসান : কবি

ছড়িয়ে দিন