ঢাকা ১৯শে জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১২ই জিলহজ ১৪৪৫ হিজরি

সৈয়দ মুজতবা আলীর মৃত্যু দিবস আজ

redtimes.com,bd
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
সৈয়দ মুজতবা আলীর মৃত্যু দিবস আজ

কালজয়ী সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর মৃত্যু দিবস আজ । ১৯৭৪ সালের এইদিনে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) ১২৭ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বায়তুল মোকাররম মসজিদে জানাজার পর তাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। একুশে পদকে ভুষিত এই মহান লেখকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন সৈয়দ মুজতবা আলী পরিষদের সভাপতি আনোয়ার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র দেব ।

মৃত্যু নিয়ে মুজতবা আলী লিখেছিলেন, “বুড়ো হওয়াতে না-কি কোনো সুখ নেই ৷ আমি কিন্তু দেখলুম, একটা মস্ত সুবিধা তাতে আছে ৷ কোনো কিছু একটা অপ্রিয় ঘটনা ঘটলে—যেমন ধরুন প্রিয় বিয়োগ—মনকে এই বলে চমৎকার সান্তনা দেওয়া যায়—যাক ! এটার তিক্ত স্মৃতি আর বেশীদিন বয়ে বেড়াতে হবে না ৷ মৃত্যু তো আসন্ন ৷ যৌবনে দাগা খেলে তার বেদনার স্মৃতি বয়ে বেড়াতে হয় সমস্ত জীবন ধরে ৷
কিংবা, এই যে বললুম, প্রিয় বিয়োগ—আমার যখন বয়স বছর চৌদ্দটাক তখন আমার ছোট ভাই দু’বছর বয়সে ওপারে চলে যায় কালাজ্বরে ৷ তার ছ’মাস পরে ব্রহ্মচারীর ইনজেকশন বেরোয় ৷ তারপর যখন গণ্ডায় গণ্ডায় লোক তারই কল্যাণে কালাজ্বরের যমদূতগুলোকে ঠাস ঠাস করে দু’গালে চড় কষিয়ে ড্যাং ড্যাং করে শহরময় চষে বেড়াতে লাগলো তখন আমার শোক যেন আরো উথলে উঠলো ৷ বার বার মনে পড়তে লাগলো, ঐ চৌদ্দ বছর বয়সেই আমি তার জন্য কত না ডাক্তার, কবরেজ, বদ্যি, হেকিমের বাড়ি ধন্না দিয়েছিলুম ৷ ইস্কুল থেকে ফিরেই ছুটে যেতুম মায়ের কাছে, শুধাতুম, ‘আজ জ্বর এসেছিল’ ?
মা মুখটি মলিন করে ঘাড় ফিরিয়ে নিতেন ৷ একটু পরে বলতেন, ‘আজ আরো বেশী’৷
আমি চুপ করে বারান্দায় ভাবতে বসতুম—’নাঃ, এ কবরেজটা কোনো কর্মের নয় ৷ কিন্তু শহরের এই তো নাম করা শেষ কবরেজ ৷ তবে দেখি হেকিম সায়েবকে দিয়ে কিছু হয় কি-না’। প্রত্যেক বিদায় গ্রহণে রয়েছে খন্ড মৃত্যু”।।

সংবাদটি শেয়ার করুন

June 2024
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30