সৈয়দ মুজতবা আলীর ১১৭ তম জন্মদিন পালিত হবে ১৩ সেপ্টেম্বর

প্রকাশিত: ১১:১২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১

সৈয়দ মুজতবা আলীর ১১৭ তম জন্মদিন পালিত হবে ১৩ সেপ্টেম্বর

সৈয়দ মুজতবা আলীর ১১৭ তম জন্মদিন পালন করবে সৈয়দ মুজতবা আলী পরিষদ । প্রতি বছর এই সংগঠনের উদ্যোগে দিবসটি পালন করা হয় । সৈয়দ মুজতবা আলী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র দেব বলেন, এবারের জন্মদিনের বিষয়বস্তু সৈয়দ মুজতবা আলীর জাতীয়তাবাদ চিন্তা । আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫ টায় তেজগাঁ শিল্প এলাকায় শ্রম সহায়তা কেন্দ্র বিটাক মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে । সেখানে সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ মুজতবা আলী পরিষদের সভাপতি ও বিটাকের মহাপরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ।

 

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, অনুবাদক ও রম্যরচয়িতা। তিনি তাঁর ভ্রমণকাহিনীর জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। বহুভাষাবিদ সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনা একই সঙ্গে পাণ্ডিত্য এবং রম্যবোধে পরিপুষ্টি।

সৈয়দ মুজতবা আলী জন্মগ্রহণ করেন ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ সেপ্টেম্বর অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারতে আসামের অন্তর্ভুক্ত সিলেটের করিমগঞ্জে। পিতা খান বাহাদুর সৈয়দ সিকান্দার আলী সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন। তাঁর পৈতৃক ভিটা মৌলভীবাজার, সিলেট।

১৯২১ সালে তিনি শান্তিনিকেতনে ভর্তি হন। তিনি ছিলেন বিশ্বভারতীর প্রথমদিকের ছাত্র। এখানে তিনি সংস্কৃত, ইংরেজি, আরবি, ফার্সি, হিন্দি, গুজরাটি, ফরাসি, জার্মান ও ইতালীয় ভাষাশিক্ষা লাভ করেন। ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে এখান থেকে বি.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। অতঃপর বৃত্তি নিয়ে জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে গবেষণার জন্য তিনি ডি.ফিল লাভ করেন ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে।১৯৩৪-১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মিশরে কায়রোর আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।

১৯২৭ থেকে ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মুজতবা আলী কাবুলের শিক্ষাদপ্তরে অধ্যাপনা করেন। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে বরোদা কলেজে ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এখানে তিনি আট বছর কাটান। এরপর দিল্লির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের বগুড়ার আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের খণ্ডকালীন প্রভাষকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পঞ্চাশের দশকে কিছুদিন আকাশবাণীর স্টেশন ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন পাটনা, কটক, কলকাতা এবং দিল্লিতে। ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি শান্তিনিকেতনে প্রত্যাবর্তন করেন। বিশ্বভারতীর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রিডার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি অবসরগ্রহণ করেন।

শান্তিনিকেতনে পড়ার সময় সেখানের বিশ্বভারতী নামের হস্তলিখিত ম্যাগাজিনে মুজতবা আলী লিখতেন। পরবর্তীতে তিনি ‘সত্যপীর’, ‘ওমর খৈয়াম’, ‘টেকচাঁদ’, ‘প্রিয়দর্শী’ প্রভৃতি ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায়, যেমন : দেশ, আনন্দবাজার, বসুমতী, সত্যযুগ, মোহাম্মদী প্রভৃতিতে কলাম লিখেন। তাঁর বহু দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন ভ্রমনকাহিনী। এছাড়াও লিখেছেন ছোটগল্প, উপন্যাস, রম্যরচনা। বিবিধ ভাষা থেকে শ্লোক ও রূপকের যথার্থ ব্যবহার, হাস্যরস সৃষ্টিতে পারদর্শিতা এবং এর মধ্য দিয়ে গভীর জীবনবোধ ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতা তাঁকে বাংলা সাহিত্যে এক বিশেষ মর্যাদার আসনে বসিয়েছে। তার কিছু সাহিত্যকর্মের নাম হলো-

‘দেশে বিদেশে ‘(১৯৪৯)

‘জলে-ডাঙ্গায় ‘(১৯৬০)

‘পঞ্চতন্ত্র ‘(প্রথম পর্ব, ১৩৫৯, দ্বিতীয় পর্ব, ১৩৭৩)

‘ময়ূরকন্ঠী ‘(১৯৫২)

‘চাচাকাহিনী ‘(১৯৫৯)

‘পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ‘(১৩৬৩)

‘ধূপছায়া ‘(১৩৬৪)

‘দ্বন্দ্বমধুর ‘(১৩৬৫)

‘চতুরঙ্গ ‘(১৩৬৭)

‘শ্রেষ্ঠ গল্প ‘(১৩৬৮)

‘ভবঘুরে ও অন্যান্য ‘(১৩৬৯)

‘শ্রেষ্ঠ ররম্যরচনা ‘(১৩৬৯)

‘টুনিমেম ‘(১৩৭০)

‘প্রেম ‘(১৩৭২)

‘বড়বাবু ‘(১৩৭২)

‘রাজা-উজির ‘(১৩৭৬)

‘হিটলার ‘(১৩৭৭)

‘কত না অশ্রুজল ‘(১৩৭৮)

‘মুসাফির ‘(১৩৭৮)

এছাড়া, তিনি চারখানি উপন্যাস লিখেছেন। যথা-‘অবিশ্বাস্য ‘(১৯৫৩), ‘শবনম ‘(১৯৬১), ‘শহর ইয়ার ‘(১৯৬৯) ‘তুলনাহীনা ‘(১৯৭৪) ইত্যাদি।

১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নরসিং দাস পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে তাঁকে আনন্দ পুরস্কার প্রদান করা হয়। সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় বাংলাদেশ সরকার ২০০৫ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ১১ ফেব্রুয়ারি রোজ সোমবার পিজি হাসপাতালের ১২৭ নং কক্ষে সৈয়দ মুজতবা আলী মৃত্যুবরণ করেন।

ছড়িয়ে দিন

Calendar

September 2021
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930