সৈয়দ মুজতবা আলী পাঠাগারের উদ্যোগে স্থানীয় শহীদ দিবস পালন

প্রকাশিত: ১:২৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৯

সৈয়দ মুজতবা আলী পাঠাগারের  উদ্যোগে  স্থানীয় শহীদ দিবস পালন

মৌলভীবাজারে সৈয়দ মুজতবা আলী পাঠাগার ও গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে স্থানীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা হয়েছে । গতকাল শহরের ফরেস্ট অফিস রোড দেব ভবনে পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা কবি সৌমিত্র দেব এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন পরাগ নারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি শর্মিলা দেব । আলোচক ছিলেন পাঠাগারের সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। ও শিরিন বেগম । সভাপরিচালনা করেন বিমলকান্তি দত্ত।

মৌলভীবাজারে স্থানীয় শহীদ দিবস আজ ২০ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে হানাদার পাকিস্তান বাহিনীর ফেলে যাওয়া মাইন বিস্ফোরণে মৌলভীবাজারে ২৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। এরপর থেকে এই দিনটিকে স্থানীয় শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন জেলাবাসী। ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত হয়। ঘর ছাড়ার দীর্ঘ ৯ মাস পর সেদিন মৌলভীবাজার জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দল একে একে ফিরে আসতে থাকে। জেলা শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব প্রান্তে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য স্থাপন করা হয় ক্যাম্প। এখানে সমবেত হন বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুক্তিযোদ্ধারা। যুদ্ধের সময় বিভিন্নস্থানে পুঁতে রাখা স্থলমাইন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এনে জড়ো করা হয়। ২০ ডিসেম্বর সেখানে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ ছিল রান্নাবান্না করাসহ নানা উৎসবে ব্যস্ত। কেউ কেউ বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি ও যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করছিলেন, আবার কেউ কেউ আত্মীয়স্বজন, পরিবার-পরিজনের খোঁজ নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে আকস্মিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যাম্প এলাকা। সঙ্গে সঙ্গে চোখের নিমিষেই বিদ্যালয়ের চালের টিন উড়ে যায়, উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের দেহ টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার জেলা মুক্ত হলেও কেউ ভাবেনি এভাবে শহর এলাকায় যুদ্ধকালীন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে। মুক্ত দেশে নিশ্চিত ঘরে ফেরার পরক্ষণেই তারা হয়ে গেলেন ইতিহাসের স্মৃতি। এলাকাবাসী শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ছিন্নভিন্ন দেহ একত্রিত করে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে সমাধিস্থ করেন।

সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে সমাধিস্থলে ২০ ডিসেম্বর নিহতদের নাম ফলক নির্মাণ করা হয়েছে। নাম ফলকে যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন- শহীদ সোলেমান মিয়া, শহীদ রহিম বকস খোকা, শহীদ ইয়ানুর আলী, শহীদ আছকর আলী, শহীদ জহির মিয়া, শহীদ ইব্রাহিম আলী, শহীদ আব্দুল আজিজ, শহীদ প্রদীপ চন্দ্র দাস, শহীদ শিশির রঞ্জন দেব, শহীদ সত্যেন্দ্র দাস, শহীদ অরুণ দত্ত, শহীদ দিলীপ দেব, শহীদ সনাতন সিংহ, শহীদ নন্দলাল বাউরী, শহীদ সমীর চন্দ্র সোম, শহীদ কাজল পাল, শহীদ হিমাংশু কর, শহীদ জিতেন্দ্র চন্দ্র দেব, শহীদ আব্দুল আলী, শহীদ নুরুল ইসলাম, শহীদ মোস্তফা কামাল, শহীদ আশুতোষ দেব, শহীদ তরণী দেব, শহীদ নরেশ চন্দ্র ধর।

ছড়িয়ে দিন