সোনার ডিম পাড়া হাঁসের গল্প

প্রকাশিত: ৮:৫৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২১

সোনার ডিম পাড়া হাঁসের গল্প

লুৎফর রহমান রিটন
এক যে ছিলো খুব রূপসী শুভ্র-শাদা হাঁস
শুভ্রতারই দীপ্ত আভায় ভরাতো চারপাশ।
পালকে তার থাকতো লেগে রোদের ঝিকিমিকি
প্রশস্তি তার রচিয়াছেন কতো না বাল্মীকি…
হাট্টিমাটিম টিম
পাড়তো সে হাঁস রোজ প্রতিদিন একটা সোনার ডিম!
হাঁসের মালিক ফরেন ফেরৎ চতুর নরেন কাকু
ব্যাক পকেটে থাকতো গোঁজা ধারালো এক চাকু।
রাত্রিকালে দুয়োর এঁটে ঘুমিয়ে যখন পাড়া
নরেন কাকুর ঘাড়ে তখন ভূত দিয়েছে পাড়া।
একটা সোনার ডিমের জন্যে অপেক্ষা দিন ভর?
ভূত দিয়েছে বুদ্ধি–ওকে জলদি জবাই কর!
হাঁসের পেটের সবগুলো ডিম একবারে তুই চাস?
বিলম্ব আর করিস কেনো? ফ্যাল্‌ কেটে ফ্যাল হাঁস!
আর দেরি নয় নরেন কাকুর লোভ চকচক চোখ
জলদি, সোনার ডিম পাড়া হাঁস জবাই করা হোক।
ঘোর বিপদের আভাস পেয়ে হাঁস করে প্যাঁকপ্যাঁক–
”জগতবাসী দ্যাখ
অতি লোভেই তাঁতি নষ্ট শিক্ষা হবে ওর…”
জবাই শেষে নরেন কাকুর কাটলো লোভের ঘোর–
ভেবেছিলো হাঁসের পেটে অনেকগুলো ডিম
কিন্তু একি! হায় রে কপাল! হাট্টিমাটিম টিম…
হাঁসের পেটে নেই তো কোনো সোনার ডিমের লেশ
বিরল সোনার ডিম পাড়া হাঁস ছটফটিয়ে শেষ!
মরার আগে ঝাঁপটে ডানা বললো সোনার হাঁস–
”একটা সোনার ডিম পেতি তুই সত্যি বারো মাস।
কিন্তু আমায় মেরে ফেললি! আর পাবি না ডিম!”
ফরেন ফেরত নরেন কাকুর দুই চোখে রিমঝিম–
বৃষ্টি নামে, অঝোর ধারায় হাট্টিমাটিম টিম…
করোনাকাল, ১৪ জুলাই ২০২০