সোয়াদ হত্যার আড়ালে কে আছে?

প্রকাশিত: ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, মে ৭, ২০১৮

সোয়াদ হত্যার আড়ালে কে আছে?

সাভার প্রতিনিধি

যারা ঘটনাটি পড়ছেন তারা সকলে জানেন শিশু সন্তান সোয়াদ হত্যার দায়ে তার মা বাবলী এখন কারাগারে। পুলিশ বাবলীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। একজন মা ১০ মাস ১০ দিন তার সন্তানকে পেটে ধরার পর যখন সেই সন্তানকে হত্যা করেন তখন আমাদের বিবেকে কি প্রশ্ন জাগে না? ঘটনার পেছনে রয়েছে অনেক ঘটনা। আমরা সবাই চাই প্রকৃত খুনি বেরিয়ে আসুক। এখানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ ভূমিকা রাখা উচিত বলে মনে করছেন অনেকে।
কে সেই বাবলী?
সাভারস্থ ছায়াবিথীর স্থায়ী বাসিন্দা বাবুল আল মাইজ ভান্ডারীর প্রথম স্ত্রীর ঘরের সন্তান বাবলী। প্রথম স্ত্রীর সাথে বনিবনা ছিল না । ছেলেমেয়ের কষ্টের দিকে বাবুল ভান্ডারী সবসময় ছিলেন সদয় উদার। নিজে অনেক কষ্ট করে জীবনযুদ্ধে যখন বাবুল একটু দাড় হলো তখন কাল হলো অনেকে। মেয়ের ভালোর কথা চিন্তা করে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক সাভারের স্থানীয় ছেলে মোমিনের সাথে ধুমধাম করে বিয়ে দেয়। বিয়ের সময় বাবুল তার মেয়ের জামাইকে একলক্ষ সত্তর হাজার টাকা নগদ এবং আসবাবপত্র বাবদ তিনলক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করে। কিন্তু বিয়ের পর থেকে বাবলীর জীবনে সুখ নেই বললেই চলে। স্বামী বেকার থাকার কারণে বিয়ের পর থেকে বাবলী প্রায় তার বাবার কাছ থেকে বাজার করার জন্য টাকা পয়সা নিতেন। শুধুমাত্র মেয়ে এবং নাতির সুখের কথা চিন্তা করে বাবুল ভান্ডারী সবসময় তার মেয়ে ও মেয়ে জামাইকে আর্থিক সহযোগিতা করতেন। এরই মধ্যে কিছুদিন পর বাবলীর গর্ভে আসে সোয়াদ।
সাংসারিক জীবনে বনিবনা না হওয়ায় বাবলী কয়েকবার তার বাপের বাড়ি চলে আসে। কিন্তু বাবা মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বারবার তাকে স্বামীর ঘওে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু শেষবারে মেয়ে যখন বেকার স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে তখন আর স্বামীর সংসারে না গিয়ে বাপের বাড়ি থাকতে শুরু করে।
সেদিন যা ঘটেছিল
গত ২০শে মার্চ,২০১৮ ইং তারিখে বাবুল সকালে ঢাকা যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। যাওয়ার সময় নাতি ও ছেলেকে মুখে চুমু দিয়ে চলে যায়। এরপর দুপুরে সে তার কাজ শেষ করে সাভারে আসার সময় ফোন আসে সোয়াদ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। খবর শুনেই বাবুল দ্রুত সোয়াদকে হাসপাতালে নিতে বলেন। তখন বাবলী তার সন্তানকে নিয়ে সরকারি হাসপাতালে রওনা দেন।
সরকারি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকের বক্তব্য
সোয়াদকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তখন হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ছিলেন ডা. সামুদ উজ সামাদ। রেডটাইমস ডট কম বিডিকে এব্যাপারে দেয়া একটি সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, শিশুটিকে যখন নিয়ে আসা হয় তখন সে মৃত ছিল এবং তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। মা তার সন্তানের মৃতদেহ নিজহাতে বুঝে নিয়ে চলে যান।

অবশেষে থানায় মামলা গ্রহণ
২১শে মার্চ বাবলীর বেকার স্বামী মোমিন বাদী হয়ে তার স্ত্রী বাবলী, বাবলী ফেসবুক বন্ধু সুমন ও রনিকে আসামীকে করে ৩০২/১০৯/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০ পরস্পর যোগসাজসে হত্যার সহায়তা করার অপরাধে মামলা দায়ের করেন। সাভার মডেল থানার উপ পরিদর্শক এনামুল হককে মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ।
লাশের ময়না তদন্ত
ময়না তদন্তের জন্য সোয়াদের লাশ ২০শে মার্চই শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়। ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক উজ্জল কুমার সাহা ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বকÍব্য
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, আদালতের নির্দেশে বাবলী কে দুুই দিনের রিমান্ডে বাবলীকে আনা হলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসে। বিজ্ঞ আদালতের ১৬৪ জবানবন্দি বাবলী দিয়েছে। পরবর্তীতে আপনাদের এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

ধরা-ছোয়ার বাইরের অন্য দুই আসামী
এখনো পর্যন্ত মামলার অন্য দুই আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। উল্টো বাবুল মাইজ ভান্ডারীকে ফাসানোর চক্রান্ত চলছে। যে বাবা তার সন্তানের জন্য টাকা পয়সা খরচ করেও সুখ দিতে পারেনি। এখন বাবুলকে কিভাবে ঘায়েল করা হবে তার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। এরই মধ্যে পুলিশ দুই তিনবার বাবুলের বাসায় গিয়েছে।
থানার ওসির বক্তব্য
সাভার থানার অফিসার ইনচার্জ মুহসিনুল কাদির এব্যাপারে বলেন, অতি তাড়াতাড়ি মামলার চার্জশীট দিয়ে দেয়া হবে।
নাতির জন্য বাবুলের অফুরন্ত ভালোবাসা
জন্মের পর থেকে নাতি সোয়াদের যাবতীয় ব্যয়ভার নানা বাবুল ভান্ডারী বহন করে আসছিল।
বাবলীর বর্তমান অবস্থা
বাবলী বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে আছে।

প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ
বাবুল আল মাইজ ভান্ডারী তার নাতি সোয়াদের প্রকৃত হর্ত্যাকারীদের খুজে বের করার জন্য ও ন্যায় বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সহায়তা চাচ্ছেন যাতে সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসে এবং প্রকৃত খুনিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় আনা হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

August 2022
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031