খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশিত: ৫:৪২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৪

খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
সদরুল আইনঃ
অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে বাগেরহাটের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেখ মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) মামলা দুটি দায়ের করেন খুলনা মহানগর দুদকের সহকারী কমিশনার মাহমুদুল হাসান শুভ্র।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাগেরহাট সদরের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম অবৈধভাবে ১৯ লাখ ৭৬ হাজার এবং তার স্ত্রী শারমিন আক্তার ৪৪ লাখ ১১ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।
সেইসঙ্গে ওই খাদ্য কর্মকর্তা নিজের অবৈধ আয় তার স্ত্রীর নামে দেখিয়ে অপরাধ করেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সাল থেকে এই দম্পতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
বৃহস্পতিবার দায়েরকৃত দুই মামলার একটির এজাহার সূত্রে জানা যায়, খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেখ মনিরুল ইসলামের দাখিলকৃত সম্পদের বিবরণী যাচাই করতে গিয়ে অনুসন্ধানে মোট ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৭০৯ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পায় দুদক।
যার মধ্যে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৯ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৭ টাকার সম্পদের হিসাব পান অনুসন্ধানকারীরা।
অবৈধভাবে এ পরিমাণ সম্পদের মালিকানা অর্জন ও ভোগদখলে রেখে এই খাদ্য কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা মতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে মামলার বিবরণীতে।
এছাড়া একইদিন আরেকটি মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে মনিরুল ইসলামের স্ত্রী শারমিন আক্তারকে। মামলার বিবরণী অনুযায়ী, স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে শারমিন আক্তারের মোট এক কোটি ১৮ লাখ ৬৮ হাজার ১০৭ টাকা সমপরিমাণ সম্পদের অস্তিত্ব পায় দুদক।
ব্র্যাক ব্যাংকের ঋণ, দোকান ও বরফকল ভাড়ার জামানত বাবদ ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৯৩ টাকা দেনা আছে তার। এক কোটি দুই লাখ দুই হাজার ১৪ টাকার নীট সম্পদের বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ পাওয়া যায় ৬৬ লাখ ৮৪ হাজার ৫১৪ টাকা।
ওই সময়ে তার ব্যয় ছিল ৮ লাখ ৯৪ হাজার ৩৩২ টাকা। এই ব্যয় বাদে তার নীট সঞ্চয় ৫ লাখ ৭৯ হাজার ১৮২ টাকা। অর্থাৎ, শারমিন আক্তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৪৪ লাখ ১১ হাজার ৮৩২ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন ও ভোগদখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
এছাড়া শেখ মনিরুল ইসলাম দায়িত্বশীল সরকারি পদে কর্মরত থেকে নিজের অবৈধ উপার্জন নিজ স্ত্রীর নামে দেখিয়ে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

লাইভ রেডিও

Calendar

April 2024
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930