স্বাধীনতা

প্রকাশিত: ১২:৪৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২৪

স্বাধীনতা

হাসিদা মুন

 

নিপীড়ক আদালতে আসে, আসে প্রসিকিউটর
তিনিই বিচারক এবং জুরি -এখানে প্রকৃত জয়’ বা হার’ নেই
কেস কেটে শুকিয়ে গেছে,আসামি একা দাঁড়িয়ে আছে
প্রসিকিউটর নিজেকে সাক্ষী হিসাবে ডাকেন –
হ্যাঁ বিচারক,তার নিজের তৈরি আইনটিকেই সমর্থন করেন
এটি তার পছন্দ মতো পরিবর্তিত হয়
জুরি শুধুমাত্র একটি শব্দ জানেন – শব্দটি ‘অপরাধ’
কার বা কিসের ? তা অস্পষ্ট….

 

কবিতা ধনুক বাণ মনের তিক্ততার ভিড়ে তাক্ করা
এ কলম বর্শা ,বাক্যগুলি ছুরি -পেটানো ব্র্যান্ডিং লোহা
স্বার্থ অন্বেষণ করা রাজনিতীক,বক ধার্মিক ঠগবাজ
কতৃপক্ষের দিকে রাগের সাথে টিপানো তীর
রক্ত ​​এবং পিত্ত দিয়ে লেখে রাখা নির্ভুল লিপিকা …

 

তিক্ত কিছু কালি নিয়েছি রক্ত-লাল চিহ্ন তৈরি করতে
ক্ষত থেকে দুর্নীতি,বিষবৃক্ষ থেকে বিষরস’
এ কবিতা হোক ব্লাক কোবরা বা লক্ষ্য স্থির সুতানালী সাপ
যে আমাদের শিশুদের ভুল ভাঙাবে, দেখো রক্ত- চামড়ায়
মুক্তি কোথায় ?
সাপ -নিপীড়ক -বিচারক-জুরি- সামনে প্রজন্ম …

 

নিজেকে সর্বদা মাথার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে
কবিতা বন্দুক আর শব্দগুলো গোলাবারুদ
কবিতাটি এমন গল্প বলে যা- কাটা বা সেন্সর করা যায় না
এই কবিতাটি বিক্রির জন্য বসে নেই কেউ
একে পুরুষ বা নারী হিসাবে ভাবা যায় না
পয়সা দিয়ে কেনা যায় না …

 

গোয়ালের গবাদি পশুদের কেনা যায়-বেচা যায়
কেউ অফার করবে না টাকা নিজ পার্সে ফেরত রাখো
তবে শুনতে পারবে যা সবাই শুনতে পারে
শুধু মহান এবং নয় শুধুই ভালো,শুধু শান্তি শৃঙ্খলার নয়
বিচারক এবং জুরি শোনো,প্রসিকিউটর শোনো,পুলিশ শোনো
বাঙালিরা পাশে এসে দাঁড়াও-শোনো
হে মিথ্যাবাদীরা তোমরাও শোনো
যারা অত্যাচার করো শোনো
আমি চাই তুমিও শুনো
আমি চাই আমার কথা শুনেই দেখো
যেন আমি এক শান্তি পতাকা
আমি তার পক্ষেই কথা বলি
যে পক্ষে রয়েছে – লাল সবুজ …

 

আমি সমগ্র মানুষের জন্য বলছি
একজন মা’ যার কণ্ঠস্বর বন্ধ ছিলো
যার মুখ আটকে রাখা হয়েছিলো
কারণ এ মাটি বলেছিলো মা’- ‘না!’ জুলুম মানি না
প্রসিকিউটরের কাছে,বিচারক এবং জুরির কাছে,
অন্যায়ের কাছে,অসম্মান ও নিপীড়নের কাছে …

‘না!’

 

ভেবে নিও না যে, আমি মার খেয়েছি,আমাকে দুর্বল বা
হতভাগ্যও ভাববে না ,আমি কোনো দাস নই ,আমি নিঃস্ব নই
যদিও তারা আমার কাছ থেকেও চুরি করেছে অনেক কিছুই …

বাড়ি কেড়ে নেওয়া হলেও আমি বাড়ি ছাড়া নই
আমাকে কেউ করুণা করো না ,একথা বলবেও না যে
আমি কোনো গৌরবের সুযোগ পাবো
অন্য গাল ঘুরিয়ে দিতে বলিনি যে বোকা -থাপ্পড় মারতে পারো
দেখানোর আরেকটা সুযোগ দেইনি,দেখিনি কে কতটা ঘৃণা করে
যদি কেউ কাউকে মেরে ফেলতে পারে- পারুক
বলো, বিজয়ী কে….

 

আমাকে মনে করো না-সেই মানুষটির মতো যার কেউ নেই
বন্ধু নেই, পরিবার নেই, মিত্র নেই, সমর্থক নেই
সে মানুষের বৃত্তটি দেখতে পারে না ,মানুষের সমস্ত জাতি,
বর্ণ, ধর্ম ও ন্যায়বিচারের জন্য আহ্বান …

আমি যদি বলি আমি ক্ষুধার্ত
মানে ন্যায়ের ন্যায্যতার জন্য ক্ষুধার্ত
আমি যদি বলি বাঁধা,মানে মিথ্যার বাঁধা
আমি যদি বলি আমি অন্ধ-আপোস করতে অন্ধ …

 

আমাকে তেমন কেউ চেনে না
তারা জানে না আমিও কি কষ্ট পেয়েছি দূর্বিসহ অনাচারে
যা আমার সমস্ত চিন্তাভাবনাকে অন্ধকার করে দেয় ..
তবুও কিছু নিখাদ ভাবনা বাকি
আমাদের ঘুম স্বপ্নহীন
আমাদের মন ফাঁকা
আমাদের স্বপ্ন সমৃদ্ধ –
প্রতিটি চিন্তা পরিষ্কার করে -একটা পরিস্কার পথ দেখতে চাই ….

 

যে পথে অনেকেই হেঁটেছে ,এটাকে বলা হয় স্বাধীনতার পথ
আমি চাই তার কথা বলো ,চলো, সেই প্রজ্ঞায় চলো
শোনো, যারা আমাকে শোনে,তারা সবাই আমার মতো করে
হৃদয়ের কথা শোনো- কবি ও বন্ধুরা
জানি বুঝবে, যারা ন্যায়ের জন্য জোরে জোরে কাঁদে
চিৎকার করে কথা বলে ,প্রতিবাদ করে
তারা কখনই মাথা নত করবে না
শিকল ও বেড়িতে হাঁটবে না …

 

এই কবিতাটি একটি আয়না যা আমরা ধরে রাখতে পারি
অজ্ঞানদের দেখানোর জন্য তাদের চেহারা
আত্মপ্রতারণার গভীরতা রয়েছে কতোটা তারা
প্রতিফলনের মধ্যে রয়েছে কতোটা নিকৃষ্টতা
বিচারক এবং বিচার প্রার্থীদেরকে দেখানোর জন্য
যে বিশ্ব তাদের কীভাবে দেখছে
যে মানুষ মানুষের বেদনায় আনন্দ পায়
তার হাসিকে বিকৃত করে -সত্যের কণ্ঠস্বর রোধ করে …

 

কবিতার কন্ঠ খুঁজে পেতে সাহায্য করো
কবিতার উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে দেখো
কবিতার পথ স্বচ্ছ আলোর পথ
কবিতার লক্ষ্য- মানুষে মানুষের সমতা
কবিতার পাসওয়ার্ড – ‘স্বাধীনতা’ …..