স্বাবলম্বিতার জন্য ব্যবসা হতে পারে অনলাইন

প্রকাশিত: ১২:২১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০২১

স্বাবলম্বিতার জন্য ব্যবসা হতে পারে অনলাইন

 

শেলী সেনগুপ্তা

নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অপরিহার্য এবং এই স্বাবলম্বিতা যে ক্রমাগত বাড়ছে এ কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। উপযুক্ত শিক্ষা ও আন্তরিক প্রচেষ্টা দ্বারা আজ নারীরা অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। এভাবে এগিয়ে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার কারণে নারীর ক্ষমতায়নও হয়েছে।

তাই কেউ আর ঘরে বসে থাকতে চাইছেন না, নিজের প্রচেষ্টা দ্বারা স্বাবলম্বী হতে চাইছেন। এখন চেষ্টা করছেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে এবং পরিবারকে সহায়তা করতে।

অর্থনীতিতে নারীর অবদান বেড়েছে এ কথা বলা অনস্বীকার্য।

সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও বেড়েছে নারীর স্বাধীনতা। নিজের জীবনের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই এখন তিনি নিজে নিচ্ছেন বা নিতে পারছেন।

তাছাড়া পারিবারিক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণেও ভূমিকা রাখছেন তারা। এটা সত্য যে, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বিতা অর্জনের ফলেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীর এই স্বাধীনতা এসেছে।

একদিন যে মেয়ে ছিল বাবা-মার বোঝা, অনেক ক্ষেত্রে সেই মেয়েই আজ পরিবারের আয়ের উৎস।

যে পথ ধরে নারী অর্থনৈতিক মুক্তির পথে হাঁটছিলো, সময়ের কঠিন নাগপাশে তা অনেকটাই স্থবির হয়ে এসেছে। এর একমাত্র কারণ বিশ্বব্যাপী অতিমারীর প্রকোপ। ঘরে ঘরে কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে এসেছে। অনেকেই চাকরিচ্যুত হয়েছে।

তবে কথায় বলে ‘একটি পথ রুদ্ধ হলে আরো অনেক পথ উম্মোচিত হয়’। আমরা জানি পৃথিবীতে প্রথম কৃষিকাজ শুরু করেছিলো নারী। পৃথিবীর সব মানুষ যখন কষ্টের সাগরে সাঁতার কাটছে তখন বাংলার নারীদের মধ্যে জাগ্রত হয়েছে সেই প্রথম কৃষাণী যে কিনা ধরিত্রীর বুকে প্রথম ফসল ফলিয়েছিলো। তাদের হাত দিয়ে নতুন করে শুরু হলো অনলাইন ব্যবসা। কিছুটা পরিবারের ক্ষুন্নিবৃত্তির আর কিছুটা নিজের স্বাবলম্বিতার জন্য।

বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারী শুরুর পর সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের রূপরেখা ব্যাপক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়ায় বাস্তব রূপ লাভ করে চলেছে।

লকডাউনে দোকানে-মার্কেটে, শপিংমলে না গিয়ে নিত্যপণ্যসহ মানুষের চাহিদা পূরণে অনলাইন বিজনেস প্ল্যাটফর্মগুলো বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

 

 

বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে এটি সত্যিকার অর্থেই একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন। রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাম-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ছে ই-কর্মাস ও বিপণন ব্যবস্থা। একজন সাধারণ গৃহিণীও নিজের রান্না ও সূচিকর্মসহ বিভিন্ন পণ্য এবং ছাদবাগানে উৎপাদিত ফুল ও ফল ই-কমার্স এবং এফ-কমার্সের মাধ্যমে বিক্রি করে আয়ের বিকল্প উৎসে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বড় ধরণের বিনিয়োগ, দোকান ভাড়া নেয়া এবং অবকাঠামো নির্মানের ঝক্কি ছাড়াই ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা অনলাইন বিজনেস প্ল্যাটফর্মগুলো একদিকে যেমন লাখ লাখ মানুষকে আত্মকর্ম সংস্থানের হাতছানি দিচ্ছে, অন্যদিকে এর মাধ্যমে দেশের প্রচলিত পণ্যগুলোর বৈশ্বিক পরিচিতি, প্রচার এবং বাজার সৃষ্টিতেও ভাল ভূমিকা রাখতে পারছে।

দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিকে গতিময় করতে কাজ করে যাচ্ছেন নারী উদ্যোক্তারা। উদ্যোক্তা হিসেবে অর্থনীতিতে নারীর প্রবেশ যেমন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করছে, তেমনি ছড়িয়ে দিচ্ছে নারীর ক্ষমতায়নের দৃষ্টান্ত।

একটি দেশকে উন্নত করতে হলে প্রথমে গ্রামের নারীদের রোজগারের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দূরত্ব এবং অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে দরকার অনলাইন ব্যবসা এবং এ ব্যবসায় গ্রামীণ নারীকেও সমৃক্ত করা। যা এখন অনেকটাই সম্ভব হয়েছে।

আমাদের দেশে করোনা মহামারির শুরু থেকে অনেক বেশি নারী সম্পৃক্ত হয়েছেন ক্ষুদ্র উদ্যোগ নিয়ে। যাদের প্রায় সবাই দেশি পণ্যের উদ্যোক্তা। তাঁদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হয়।

শুধু জাতীয় ক্ষেত্রেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও সুনাম অর্জন করেছেন এমন সফল ধ্রুপদী নারী উদ্যোক্তাও রয়েছেন আমাদের দেশে।

যে দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সে দেশের নারীরা সফল হলেই দেশ সফল, যা সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে।

মহামারিতে অনলাইনের মাধ্যমে নারীদের পণ্য বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে লকডাউনে ঘর থেকে বের না হওয়ার কারণে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারীই এ সময় অনলাইনে পণ্য কেনেন, যা ই-কমার্সের সঙ্গে জড়িত নারীদের জন্য ছিল আশীর্বাদের মতো। কারণ অনলাইনে সহজে পণ্যের প্রচার ও প্রসার করা সম্ভব। অনলাইনে পণ্য কেনাবেচা করতে পারলে ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় কমে আসে। অনলাইনে পণ্য বিক্রিতে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়লে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

করোনাকালীন সংকটে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে অনেক নারী উদ্যোক্তা অনলাইনে পণ্য বিক্রিতে আগ্রহী হয়েছেন। বিশেষভাবে শিক্ষিত নারীরা এই পথে বেশি এসেছেন। নারী উদ্যোক্তারা ফেসবুক, ওয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ভাইভারে পণ্যের প্রচার-প্রসার করেছেন। অনেকে ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট খুলেও ব্যবসা করেছেন।

সারা পৃথিবীর ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিদিনই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ছে। দেশের অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে পণ্য উৎপাদন করে বিক্রির জন্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়ায়ও অনেক সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা এড়াতে ব্যবসা-বাণিজ্য অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালনা করা সম্ভব হলে এ দেশের নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে চলা অনেক সহজ হবে।

তাই আমরা সানন্দে বলতে পারি, নারীর ক্ষমতায়নকে বেগবান করার জন্য নারীকে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হতে হবে, সেজন্য এখন এবং সবসময়ই অনলাইন হতে পারে সহজ ও সফল মাধ্যম।

শেলী সেনগুপ্তা : কবি ও সভাপতি রোটারি ক্লাব অব ঢাকা ড্রিমারস

ছড়িয়ে দিন