স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য যুবদের ক্ষমতায়ন

প্রকাশিত: ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০২২

স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য যুবদের ক্ষমতায়ন
শুরু হলো দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ ২য় ইয়ুথ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম

২৬ আগস্ট বাংলাদেশ ইয়ুথ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম শুরু হয়েছে সিরডাপ মিলনায়তনে। ২৭ আগস্ট অনুষ্ঠানটি শেষ হবে। ইয়ুথ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম এর আওতায় জাতিসংঘের ইন্টারনেট গভর্নেন্স এর একটি উদ্যোগ।

এটি একটি মাল্টি-স্টেকহোল্ডার, যুব এবং যুব নারীদের-নেতৃত্বাধীন প্ল্যাটফর্ম ।

 

 

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে যৌথভাবে বাংলাদেশ বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম (বিঅইজএফ)

 

 

এমপাওয়ারিং ইয়ুথ ফর স্মার্ট বাংলাদেশ সেশনে আলোচনা করেন জনাব মোঃ শাহারিয়ার হাসান জিসান, ন্যাশনাল কনসালটেন্ট, এটুআই, আইসিটি ডিভিশন, মিসেস শরীফা আলম, টিম লিডার, স্টার্টআপ খুলনা, প্রকল্প সমন্বয়কারী তরুণদের ডিজিটাল সচেতনতায় সরকারী সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করেন।

 

 

 

জনাব ফয়সাল আহমেদ ভুবন, সদস্য-সচিব, বাংলাদেশ ইয়ুথ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম, জনাব হাসান জাকির, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম জনাব মোঃ তৌহিদ হোসেন, মহাসচিব, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্টাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং এই ইস্যু নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

 

 

 

উদ্বোধনী অুনষ্ঠানে প্রধান অতিথি হসেবে উপস্থিত ছিলেন জনান মোস্তফা জব্বার, মাননীয় মন্ত্রী, ডাক ও টেলিকমিউনিকেশন বিভাগ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব সুব্রত রায মৈত্র, ভাইস-চেয়রম্যান, বিটিআরসি। সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব হাসানুল হক ইনু, এমপি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জনাব এ.এইচ.এম. বজলুর রহমান, সিইও বিএনএনআরসি।

 

 

 

বাংলাদেশ ইয়ুথ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের চেয়ারপারসন সৈয়দা কামরুন জাহান রিপা এবং বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের মহাসচিব জনাব মোহাম্মদ আবদুল হক নু স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

 

 

 

মিস আয়েশা লাবিবা, কিডস ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম এবং জনাব আশরাফুর রহমান পিয়াস, বাংলাদেশ স্কুল অফ ইন্টারনেট গভর্নেন্স, মিসেস ফারহা মাহমুদ তৃণা কনভেনার, উইমেন ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম এর পক্ষে সংহতিমূলক বক্তব্য রাখেন।
জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম, সিওও, কার্নিভাল ইন্টারনেট, গ্রামীণ যুবকদের জন্য কার্নিভাল ইন্টারনেট নিয়ে আলোচনা করেন এবং জনাব মোঃ তারেক মঈন উদ্দিন, ডিরেক্টর সেলস, অড্রা, ডিজিটাল ওয়েলনেস নিয়ে আলোচনা করেন।

 

 

 

জনাব টিআইএম নুরুল কবির, সদস্য, গ্লোবাল অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল, সাইবার পিস একাডেমী, অ্যাম্বাসেডর- ইন্ডাস্ট্রি 5.0 এবং জনাব মোঃ এমদাদুল হক, প্রেসিডেন্ট, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ সম্মানিত অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন।
বিশেষ অতিথি সুব্রত রায় মৈত্র, ভাইস-চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) বিটিআরসির উদ্যোগ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ইন্টারনেট এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

 

 

 

ডিজিটাল প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইন্টারনেট সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করার পাশাপাশি সবচেয়ে কম মূল্যে স্মার্ট ফোন সাধারণের নাগালে পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জনিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই ইন্টারনেটের একদেশ একরেট চালু করেছি। দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোন ইতোমধ্যেই শতকরা ৯৬ ভাগ চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য লাগসই ডিজিটাল সংযোগ ও ডিজিটাল ডিভাইস অপরিহার্য। ইন্টারনেট ও স্মার্ট ফোন শ্বাস – প্রশ্বাসের মতো। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিকতায় ইন্টারনেট এখন মানুষের জীবনধারায় অনিবার্য একটি বিষয় হিসেবে জড়িয়ে আছে।

 

 

 

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি হচ্ছে ইন্টারনেট। কাউকে এ থেকে বঞ্চিত করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের খারাপ দিকও আছে আবাব খারাপ দিক থেকে রক্ষার উপায়ও আছে। সেটা থেকে ছেলে মেয়েদের সুরক্ষায় অভিভাবকদেরকেই ভূমিকা নিতে হবে। প্যারেন্টাইল গাইডেন্স ব্যবহার করে ইন্টারনেট শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের এই অগ্রদূত ইন্টারনেট নিরাপদ রাখতে সরকার গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, ইতোমধ্যে ২৬ হাজার পর্নসাইট ও ৬ হাজার জুয়ার সাইট আমরা বন্ধ করেছি। এটি চলমান প্রক্রিয়া।
ছেলে মেয়েদের ডিজিটাল দক্ষতা সম্পন্ন মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই প্রাথমিক স্তরে বই ছাড়া ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে আমি লেখা পড়ার ব্যবস্থা করেছি। দেশের ৮০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তা চালু করা হচ্ছে। আমি রাস্তাটা দেখালাম অন্যরা তা অনুসরণ করবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সন্তানদের ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের সুযোগ না দিলে আগামী পৃথিবীতে তারা টিকে থাকার জন্য অযোগ্য হয়ে পড়বে।

 

 

 

ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার উদ্ভাবক মোস্তাফা জব্বার বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি মানুষ ইন্টারনেটের উচ্চগতিও এখন প্রত্যাশা করে। এই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ যুগান্তকারি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, ২০০৬ সালে দেশে প্রতি এমবিপিএস ইন্টানেটের দাম ছিলো ৭৮ হাজার টাকা, ২০০৮ সালে তা ২৭ হাজার টাকা এবং বর্তমানে তা ৬০ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে। সে সময় দেশে মাত্র সাড়ে সাত জিবিপিএস ব্যান্ডউদথ ব্যবহৃত হতো তা বেড়ে বর্তমানে ৩৮ শত জিবিপিএস-এ উন্নীত হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ফাইভ-জি যুগে প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে বলেন, সামনের যুগের প্রযুক্তি হবে ফাইভ-জি। ২ জি কিছু দিন চলবে, থ্রি জি মোবাইল আমদানি ও উৎপাদন জানুয়ারি থেকে বন্ধ হয়ে যাবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন ফোর-জি হবে কমন প্লাটফর্ম। মোবাইল কলড্রপের টাকা গ্রাহকরা ফেরৎ পাবেন বলেও মন্ত্রী এসময় উল্লেখ করেন।

 

 

 

 

হাসানুল হক ইনু বলেন, এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে ইন্টারনেট প্রযুক্তির প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না। ইন্টারনেট প্রযুক্তি দেশে নতুন অর্থনীতির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। কৃষক- শ্রমিক, প্রবাসী এবং গার্মেন্টেসের নারী কর্মীদের বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে আইটি তরুণ –তরণী। তিনি ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিএনএনআরসি‘র সিইও এএইচএম বজলুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিটিআরসি‘র ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র, অ্যামটবের সাবেক মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবির, আইজিএফ‘র সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুল হক অনু, ইয়ুথ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের চেয়ারপার্সস সৈয়দা কামরুন জাহান রিপা এবং কিডস ইন্টানেট গভর্নেন্স ফোরামের চেয়ারপার্সন আয়শা লাবিবা প্রমূখ বক্তৃতা করেন।

 

 

 

মোবাইল ফোনের মাধ্য‌মে কেনা ইন্টারনেট ডাটার অব‌্যবহৃত অংশ নি‌র্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হ‌লেও পরবর্তী‌তে ব‌্যবহা‌রের সুযোগ থাকার নিয়মে রয়েছে। কিন্তু বাস্ত‌বে ফোন অপা‌রেটরগু‌লো তা মানছে না। তাই এ অনিয়ম বন্ধে বি‌টিআর‌সি‌কে ‘লা‌ঠি নি‌য়ে মাঠে নামতে’ বলেছেন ডাক ও টে‌লি‌যোগা‌যোগ মন্ত্রী ‌মোস্তাফা জব্বার।

 

 

শুক্রবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়ত‌নে ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম-২০২২’ অনুষ্ঠা‌নে প্রধান অ‌তি‌থির বক্ত‌ব্যে এ নি‌র্দেশনা দেন মন্ত্রী।

 

 

 

 

দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শনিবার সকাল ৯টায় শুরু হয়ে চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এদিনও বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেবেন প্রযুক্তিবিদরা। প্রধান অতিথি থাকবেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ। সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

November 2022
S M T W T F S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930