স্মৃতিতর্পণে কবি ড. খোন্দকার আশরাফ হোসেন : তিনবাংলা’র আয়োজন

প্রকাশিত: ১১:২১ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০১৯

স্মৃতিতর্পণে কবি ড. খোন্দকার আশরাফ হোসেন : তিনবাংলা’র আয়োজন

আশি দশকের অন্যতম প্রধান কবি খোন্দকার আশরাফ হোসেন। ছিলেন একাত্তুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান। নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মপ্রাণ উপাচার্য। ‘একবিংশ’ সাহিতপত্রের সম্পাদক-প্রকাশক। বিশ্বসাহিত্যের নিবেদিতপ্রাণ বঙ্গ-অনুবাদক। ‘অনিরুদ্ধ আশি’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। গত ১৬ জুন ছিলো কবির ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। তিনবাংলা, বাংলাদেশ আয়োজন করে স্মৃতিতর্পণ অনুষ্ঠানের।

কবি ড. খোন্দকার আশরাফের সতীর্থদের উপস্থিতি ছিলো লক্ষণীয়। উদ্বোধক ছিলেন অনিরুদ্ধ আশি’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সালেম সুলেরী। তিনি তিনবাংলা’র গ্লোবাল সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শতগ্রন্থের লেখক আফরোজা পারভীন। তিনবাংলা, বাংলাদেশ-এর নির্বাহী সভাপতি তিনি। প্রেসিডিয়াম সদস্য কবি রহিমা আখতার কল্পনা ছিলেন প্রধান আলোচক।

ব্যক্তিগত সম্পর্কের আলোকে বক্তব্য রাখেন অনিরুদ্ধ আশি’র দু’জন। কবি ফেরদৌস সালাম ও কবি ওয়াহিদ রহমান। প্রথমজনের মতে, শহরে থাকলেও তিনি গ্রামকে ‘গোড়াজীবন’ বলতেন। ২০১৩-এর মৃত্যুকালে তিনি গ্রামজীবনেই ছিলেন। ময়মনসিংহের ত্রিশালে নজরুল বিশ্বদ্যিালয়ে ছিলেন উপাচার্য। দ্বিতীয়জনের মতে, রমনা পার্কের প্রকৃতিতে প্রশান্তি খুঁজতেন। লেখক মান্নান সৈয়দের প্রয়াণে হু হু করে কেঁদেছেন। বলেছেন, ‘কী বিশাল মনীষি, কিন্তু মূল্য পেলেন না। আমরাও হয়তো পরপারযুগে তেমন কিছু পাবো না’।

অনুষ্ঠানে বেশ ক’জন লেখক-প্রকাশক শ্রদ্ধামথিত বক্তব্য দেন। যথা পল্লীকবিপুত্র খুরশিদ আনোয়ার জসীমউদ্দীন, সর্বকবি মিনা মাশরাফী, আহমদ জামালী, জামসেদ ওয়াজেদ। শ্রদ্ধা জানান লেখক-সংস্কৃতিসেবী প্রণব মজুমদার, আলম শামস, কাজল মেহমুদ, লতা নাহার, দেবাশিস কায়সার, মাহাবুর রহমান প্রমুখ। পরিচালনায় ছিলেন তিনবাংলা’র সাহিত্য সম্পাদক কবি মনসুর আজিজ। তিনি বলেন, খোন্দকার আশরাফ প্রথমে ছিলেন শিক্ষক। পরে হয়েছেন কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক।

উদ্বোধক কবি সালেম সুলেরী বলেন, আমরা ছিলাম সতীর্থ। ‘অনিরুদ্ধ আশি’ প্রতিষ্ঠা হয় আমাদের হাত দিয়েই। তিনি ছিলেন সভাপতি, আমি সম্পাদক। বর্ণাঢ্য কার্যক্রমের ভেতর দিয়ে সাহিত্যচর্চাকে এগিয়ে নিয়েছি। ২০০৫-এ আমি অ্যামেরিকা চলে গেলে তিনি হতাশ হন। বলেন, এ সংসারে বিচ্ছেদ ঘটেছে, অতএব আর নয়। তিনি প্রায়শ বার্তা পাঠাতেন দেশে ফেরার। ২০১৩-তে ভিসি হয়েও আমাকে ফিরতে বলেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানী অপরাধীদের বিচারে আগ্রহ দেখাতেন। আপাদমস্তকই তিনি ছিলেন এক বহুমাত্রিক মানুষ। বাংলা একাডেমির উচিৎ- ‘খোন্দকার আশরাফ রচনাবলী’ প্রকাশ করা।

স্মৃতিসিক্ত আলোচনা করেন কবি রহিমা আখতার কল্পনা। প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বলেন, ভুলতে পারি না। ওনাকে বলতাম, বাংলা কবিতার কৃষ্ণকান্তি যুবরাজ। এই শিরোনামে কবিতা লিখে ওনাকে উৎসর্গ করেছি। ‘তিন রমণীর ক্বাসিদা’ ওনার প্রথম কাব্যগ্রন্থ। সঠিক উচ্চারণে শিরোনামটি বলতে পারায় ধন্যবাদ দিতেন।

অনুষ্ঠান সভাপতি আফরোজা পারভীনও নানা বিশ্লেষণ মেলে ধরেন। বলেন, খোন্দকার আশরাফ একজন ভাষাতাত্ত্বিক কবি। ‘জীবনের সমান চুমুক’ কাব্যগ্রন্থটি আমাকে সর্বাধিক টানে। ইংরেজি, জার্মানসহ অনেক ভাষায় তিনি অনূদিত হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ, ইডিপাস নিয়েও কাজ করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ তাকে নিয়ে বড়ো কিছু করছে না। এবারের মৃত্যুবার্ষিকীও পালিত হচ্ছে শুধু তিনবাংলা’র মাধ্যমে। যদিও তিনি ছিলেন গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা, বিরলপ্রজ লেখক।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

April 2021
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

http://jugapath.com