স্যানিটারী ইন্সপেক্টরশীপদের কাজে লাগানোর দাবিতে’ স্বাসেপ এর মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৫:০৩ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০১৭

স্যানিটারী ইন্সপেক্টরশীপদের  কাজে লাগানোর দাবিতে’ স্বাসেপ এর  মানববন্ধন

 

‘খাদ্য-স্বাস্থ্য উন্নয়নের উপযুক্ত প্রশিক্ষক প্রাপ্ত ২২শ’ স্যানিটারী ইন্সপেক্টরশীপদের নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার পরিদর্শন কাজে লাগানোর দাবীতে’ স্বাধীনতা সেনিটারিয়ান পরিষদ (স্বাসেপ) এর উদ্যোগে মানববন্ধন ও খাদ্য মন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর স্মরকলিপি পেশ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে

মান বন্ধনে সভাপতিত্ব করেন এস.এফ জুনায়েদ আহমদ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যাব সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূইয়া, রাজনিতিবিদ রুহিন হোসেন প্রিন্স,রাজেকুজ্জামান রতন । স্বাসেপ এর সদস্য সচিব এনামুল হক মোল্লার সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাসেপ প্রধান উপদেস্টা এম. খসরু চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইমুল হোসেন রিপন, যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদা খাতুন, মিডিয়া প্রধান জাকির হোসাইন, পৌরসভা সেনেটারিয়ান ইন্সপেক্টর এসোসিয়েশন সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসাইন প্রমুখ। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আগত সেনেটারিয়ানগণ এতে অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মন্ত্রণালয়ে গিয়ে মাননীয় খাদ্য মন্ত্রী ও মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর স্মরকলিপি প্রদান করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৬৭ সালের বিশুদ্ধ খাদ্য বিধি অনুযায়ী এই কাজ মাঠ পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা তদারকি/পরিদর্শনের মৌলিক দায়িত্ব পালন করেন খাদ্য-স্বাস্থ্য পরিবেশ উন্নয়নের উপর উপযুক্ত ডিপ্লোমা, শিক্ষা সনদ প্রাপ্ত দক্ষ সেনেটারিয়াগণ। সরকারি আইএইচটিগুলোতে যে জনবল তৈরীতে সরকারের লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগও আছে। বর্তমানে সরকারের হাতে এসব সনদপ্রাপ্ত জনবলের পরিমান ২২ শতাধিক। কিন্তু দুঃখজনক হলো, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) বিএফএসএ ও ডিজিএইচএস এর সমন্বয়হীনতার দরুন এই সকল দক্ষ জনবল প্রায় অকেজো হয়ে রয়েছে। প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও এদেকে একসাথে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। করে দেশের প্রায় ২৫ লক্ষ খাদ্য স্থাপনা সরকারের নিয়মিত তদারকি/পরিদর্শনের আওতাধীন নয়। যারফলে সরকারও এই সকল প্রতিষ্ঠান হতে বছরে সম্ভাব্য ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার প্রমিসেসেস ফি আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশের খাদ্য স্থাপনাসমূহ তদারকি কাজের বাইরে থাকা খাদ্যে ভেজালকারীদের দৌরাত্ম ও ভেজালের পরিমান বিগত ৩ বছরে বহুগুণ বেড়েছে। বেড়েছে খাদ্যের মাধ্যমে সৃষ্ট রোগ ও রোগীর পরিমান। সম্প্রসারিত হচ্ছে চিকিৎসা সেবার বাণিজ্য। দেশে মাঠ পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার পরিদর্শন কাজের ২২ শত দক্ষ সরকারি জনবল থাকা সত্ত্বেও এ অবস্থা মেনে নেয়া যায় না।

বক্তারা আরো বলেন, বর্তমান সরকার জনকল্যাণে বদ্ধপরিকর। যার দৃষ্টান্ত হলো দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এডহক ভিত্তিক ৬ হাজার ৫ শত মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দিয়েছেন। আমাদের সুস্পষ্ট দাবি জনগণের খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে এবং ভেজাল খাদ্যের মাধ্যমে সৃষ্ট দুই শত ধরনের রোগ নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে অবিলম্বে সনদপ্রাপ্ত ২২ শত সেনেটেরিয়ানদের একসাথে ‘নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক’ পদে তাদের দায়িত্ব অর্পণ করা। আমরা মনে করি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খাদ্য পরিদর্শনে বাস্তব ও বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করলে ২/৩ বছরের মাথায় খাদ্যে ভেজাল ও খাদ্যের মাধ্যমে সৃষ্ট রোগসমূহ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব।