‘হাজার বছরে হারিয়েছে দেড় হাজার নদী’

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৬

‘হাজার বছরে হারিয়েছে দেড় হাজার নদী’

এসবিএন ডেস্ক: ১৪ মার্চ বিশ্ব নদী রক্ষা দিবস। এই দিনটিকে সামনে রেখে ১৩ মার্চ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

সংবাদ সম্মেলনে বাপা’র নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বাংলাদেশ নদী বিপর্যয়ের দেশ। গত এক হাজার বছরে দেড় হাজার নদী বিলীন হয়ে গেছে।

এখন জীবিত আছে মাত্র ২৩০টি নদী। উজানে পানি কমে যাওয়ায় নদীগুলোর এমন দশা হয়েছে। তারা দাবি করেছেন, সরকারের গৃহীত ‘ডেল্টা প্ল্যান’ নদীর জন্য অশনিসংকেত, এই ভুল নীতি বাতিল করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান তারা।

‘ডেল্টা প্ল্যান নদীর জন্য এক অশনিসংকেত’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরো বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে ১৩ ফুট পুরু পলিথিনের স্তর জমা হয়েছে।

এগুলো অপসারণের কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না। নদীতে কারখানার ৬০ ভাগ বর্জ্য, ঢাকা ওয়াসা এবং সিটি করপোরেশনের ৩০ ভাগ বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।

সরকারীভাবে নদী দূষণ করা হচ্ছে। নৌ-যানের বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে। বুড়িগঙ্গার সীমানা পিলার সম্পর্কে তারা বলেন, শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে নদীর পিলার যথাস্থানে স্থাপন করা হয়নি। সীমানা পিলার স্থাপনের নামে তুরাগের ৫ কোটি ২৩ লাখ বর্গফুট জমি বেদখল হয়ে গেছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নদী রক্ষায় তার দৃঢ় প্রত্যয় বার বার প্রকাশ করেছেন।

কিন্তু নদী রক্ষায় প্রশাসনিক কোনো কাজ বা সাফল্য নেই। ২০০৯ সালে দেশের উচ্চ আদালত থেকে নদী রক্ষায় একটি যুগান্তকারী রায় প্রদান করা হয়েছে। যাতে নদী রক্ষার প্রথম কাজ হিসেবে নদীর সীমানা নির্ধারণ ও দখলমুক্ত করতে বলা হয়েছে।

নদী রক্ষার লক্ষ্যে নদী টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্স গত ৫/৬ বছরে একটি নদীও দখলদারমুক্ত করতে পারেনি। বরং ঢাকার চারদিকের নদীর বিশাল আয়তনের জমি ছেড়ে দিয়ে ভুল স্থানে খুঁটি বসিয়ে দখলদারদের বৈধতা দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ একটি নদী রক্ষা কমিশনও গঠন করা হয়েছে। যার কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই, এর কাজই শুরুই হয়েছে হবিগঞ্জের সোনাই নদীর মধ্যে এক দখলদারের তৈরি বেআইনী ভবনকে বৈধ করার মধ্য দিয়ে। আমাদের প্রয়োজন একটি নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন শক্তিশালী নদী কমিশন।

ড. মতিন বলেন, নদীর সকল সমস্যায় করণীয় হিসেবে জাতিসংঘে দীর্ঘ দেড় যুগ আলোচনার পর গত বছর গৃহিত হয়েছে জাতিসংঘ পানিপ্রবাহ আইন ১৯৯৭।

এটির সকল দিক-নির্দেশনার বাস্তবায়নের ভিত্তিতেই আভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নদীসমূহের সকল প্রকার সংকট নিরসন সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার উক্ত জাতিসংঘ আইনটিতে অনুস্বাক্ষর করেনি।

তিনি বলেন, ষাটের দশকে বন্যা নিয়ন্ত্রণের নামে বিদেশি পরামর্শে নদী-বিধ্বংসী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। বর্তমানে নেদারল্যান্ডের সহযোগিতায় বাংলা ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ এর উপর কাজ চলছে। মনে হচ্ছে পুনরায় একটি ভ্রান্ত ধারায় বাংলাদেশ পরিচালিত হবে। নেদারল্যান্ড একটি বদ্বীপ প্রধান দেশ হলেও, তা বঙ্গীয় বদ্বীপ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

কাজেই বদ্বীপ ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। বাংলাদেশকে তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা পারদর্শিতার ভিত্তিতে নিজের বদ্বীপ পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।

তাই পরিবেশ ও মানুষ রক্ষার স্বার্থে নদী বান্ধব নীতি ও কার্যক্রম গ্রহণ জরুরি। সরকারী ও বেসরকারী যে কোনো পক্ষ থেকেই নদী দখল, দূষণ ও ধ্বংসের সকল কর্মকাণ্ড এখনই বন্ধ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন বাপা’র জাতীয় পরিষদের সদস্য জাভেদ জাহান ও নাজিম উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

বান ডাকে না আর চলনবিলের নদ-নদীতে, বিপর্যয়ের মুখে ১ কোটি মানুষ
চলনবিলের নদ-নদীগুলোর দুরবস্থার কথা। ক্রমাগত নদীদখল আর ভরাট হওয়ার কারণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে চলনবিল ও আত্রাই, নন্দকুঁজা, গুমানী, বড়ালসহ চলনবিলের প্রধান ১৬টি নদ-নদী। ফলে বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে নদী অঞ্চলের প্রায় ১ কোটি মানুষ।

১৪ মার্চ বিশ্ব নদী রক্ষা দিবস উপলক্ষে পাবনার চাটমোহরে বড়াল নদী পাড়ের চার জেলার আট উপজেলার মানুষ সকাল ১০টায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে। বিকালে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. মো. রেদওয়ানুর রহমানের প্রবন্ধে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর আগেও চলনবিলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীগুলোতে বছর জুড়েই ৬-১২ ফুট পানি থাকত।

ফলে সারা বছরই সেগুলোতে নৌযান চলাচল করতো। কিন্তু বছরের পর বছর পলি জমে এসব নদ-নদী ভরাট হয়ে গেছে।

ছড়িয়ে দিন