হামলাকারী অধিকাংশই ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী

প্রকাশিত: ১১:১২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০১৮

হামলাকারী অধিকাংশই ছাত্রলীগের   পদপ্রত্যাশী

সাদ্দাম হোসেন
সরকারি চাকুরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর গত শনিবার (৩০ শে জুলাই) আওয়ামীলীগের অন্যতম ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বর্বোরচিত হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন হতে জানা যায় এ হামলার সাথে জড়িতদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদ প্রত্যাশী। তবে কি পদের জন্যই এহেন নিন্দনীয় হামলা চালিয়েছে তারা?
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আন্দোলনকারীদের উপর হামলার সময় গ্রন্থাগারের সামনে ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির ৫০-৬০ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। এদের অনেকেই পরবর্তী কমিটিতে শীর্ষস্থানীয় পদ প্রার্থী। তবে মারধরে অংশ নেয়াদের অধিকাংশই কনিষ্ঠ পর্যায়ের নেতাকর্মী। এসময় ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীকেও হামলায় অংশ নিতে দেখা যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া ফুটেজে মারধরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির স্কুলছাত্র বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, উপ সম্পাদক সৈয়দ মো. আরাফাত, মানব সম্পদ বিষয়ক উপ সম্পাদক জহির আহমেদ খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ সম্পাদক আল মামুন, বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল জুবাইর ভূইয়াকে চিহ্নিত করা গেছে।
এদের বাইরে কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সাকিব হাসান, মেহেদী হাসান, স্কুল ছাত্রবিষয়ক উপ সম্পাদক অসীম কুমার বৈদ্য, সাবেক সদস্য মাহবুব খান, জিয়াউর রহমান হল শাখার সভাপতি আরিফুর রহমান, বঙ্গবন্ধু হল শাখার সভাপতি বরিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান, মুহসীন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান প্রমুখকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে।
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, হামলার সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা গ্রন্থাগারের ভেতরে প্রবেশ করে আন্দোলকারীদের খুঁজতে থাকেন। তারা আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করে মারধর করতে থাকেন।
তবে এব্যাপারে পুরোপুরি দায় এড়িয়ে গেছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ গণমাধ্যমকে বলেন, আন্দোলনকারীদের দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে মারামারি করেছে। যদি ছাত্রলীগের কেই সেখানে গিয়ে থাকে তাহলে শিক্ষার্থী হিসেবে গিয়েছে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হিসেবে তারা সেখানে যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এব্যাপারে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন বলেন, ক্যাম্পাস স্বাভাবিক রাখতে ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা নিবে।
এদিকে ছাত্রলীগের এহেন নিন্দনীয় হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল রবিবার মানববন্ধনের ডাক দেয় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। কিন্তু গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস থাকায় ঢাবিতে এ মানববন্ধন আয়োজন সম্ভব হয়নি। তবে দেশের অন্যান্য স্থানে গতকাল মানববন্ধন হয়।