হাসপাতাল ছাড়লেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুুরী

প্রকাশিত: ৬:১০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৮, ২০১৭

হাসপাতাল ছাড়লেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুুরী

এক মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফিরেছেন একুশের প্রভাতফেরির গানের রচয়িতা, খ্যাতিমান সাহিত্যিক-সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুুরী। লন্ডন থেকে তাঁর মেয়ে বিনিতা চৌধুরী জানিয়েছেন, তার বাবাকে লন্ডনের মিডলসেক্সের নরর্থউইক পার্ক হাসপাতাল থেকে আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২ টায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এখনো পরিপূর্ণ সুস্থ নন। বাড়িতেও তাঁর চিকিৎসা চলবে।
উল্লেখ্য, আবদুল গাফ্ফার চৌধুুরী গত ৪৪ দিন আগে লন্ডনে মিডলসেক্সের মেথুয়েন রোডে নিজ বাড়িতে বাথরুমে পড়ে গিয়ে কোমরে ব্যথা পান। এই ব্যথাসহ নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে তিনি ৩১দিন আগে লন্ডনের মিডলসেক্সের নরর্থউইক পার্ক হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তাঁর শরীরের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।

গাফফার চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন করেছেন ১৯৫৯ সালে। এরপর সাংবাদিকতা করেছেন ঢাকার বিভিন্ন কাগজে। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি ‘জয় বাংলা’, ‘যুগান্তর’ ও ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকায় কাজ করছিলেন।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পর তাঁর লেখা ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটি তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। প্রথমে তিনি নিজেই গানটিতে সুর করেছিলেন। পরে শহীদ আলতাফ মাহমুদ এ গানে সুরারোপ করেন এবং এ সুরেই এখন গানটি গাওয়া হয়। বিবিসি বাংলা বিভাগের দর্শকদের জরিপে এই গান বাংলা গানের ইতিহাসে তৃতীয় সেরা গানের মর্যাদা পেয়েছে।

স্বাধীনতার পর, ১৯৭৪ সালের ৫ অক্টোবর স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য তিনি সপরিবারে লন্ডনে চলে যান। সেখানে ‘নতুন দিন’ নামে একটি পত্রিকা বের করেন। প্রায় ৩৫টি বই লিখেছেন তিনি। নিয়মিত কলাম লিখছেন ঢাকা ও কোলকাতার বিভিন্ন দৈনিক ও অনলাইনে; বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের ওপর গাফফার চৌধুরী একটি চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন, ‘পলাশী থেকে ধানমণ্ডি’। বঙ্গবন্ধুর ওপরেই আরেকটি চলচ্চিত্র, ‘দ্য পোয়েট অব পলিটিকস’ প্রয়োজনা করছেন তিনি।

কাজের স্বীকৃতির জন্য জীবনে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। উল্লেখযোগ্য হল, বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৭), একুশে পদক, ইউনেসকো সাহিত্য পুরস্কার এবং স্বাধীনতা পদক (২০০৯)।