ঢাকা ১৮ই জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১১ই মহর্‌রম ১৪৪৬ হিজরি


হৃদয় এবং রিয়া আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে

redtimes.com,bd
প্রকাশিত জুলাই ২৭, ২০১৯, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
হৃদয় এবং রিয়া আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে

`ছেলেধরা’ গুজবে তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয়ে হত্যার মূল সন্দেহভাজন ইব্রাহিম হোসেন হৃদয় এবং রিয়া বেগম ওরফে ময়না আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

শুক্রবার বাড্ডা থানার পরিদর্শক মো. আব্দুর রাজ্জাক দুই আসামিকে আদালতে হাজির করলে ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মিল্লাত হোসেন তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন বলে জানা গেছে ।

তাদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী হৃদয়কে গ্রেপ্তার করার পর গত মঙ্গলবার ৫ দিনের রিমান্ডে পেয়েছিল পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের তিন দিনের মাথায় তিনি জবানবন্দি দিলেন।

আর ২৭ বছর বয়সী রিয়াকে বৃহস্পতিবার রাতে সাঁতারকুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করা হলে তিনি জবানবন্দি দেন।

পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে ‘মানুষের মাথা লাগবে’ বলে সম্প্রতি ফেইসবুকে গুজব ছড়ানোর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেলেধরা সন্দেহে আক্রমণের ঘটনা ঘটছে।

এর মধ্যেই গত শনিবার উত্তর বাড্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তসলিমাকে (৪২) পিটিয়ে মারা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি তার মেয়েকে ভর্তির খবর নিতে ওই বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন।

এরপর তসলিমার বোনের ছেলে নাসির উদ্দিন টিটো বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের ৪০০/৫০০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

রেনুকে পিটিয়ে হত্যার সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই ভিডিওতে ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতা হৃদয়কে রড হাতে নির্দয়ভাবে তাসলিমাকে পেটাতে দেখা যায়।

মঙ্গলবার হৃদয়কে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার আদালতে তোলা হলে রিমান্ড শুনানিতে তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে থাকা আরেক নারীর ‘প্ররোচনায়’ তিনি পিটুনিতে অংশ নিয়েছিলেন।

বিচারকের প্রশ্নে তিনি বলেন, এক মহিলা বলে তিনি (রেনু) গলাকাটা। ওই মহিলার ছবিও আছে। ওই মহিলার কথায় তাকে আমি মেরেছি।

এরপর গৃহকর্মীর পেশায় থাকা রিয়াকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সেদিন কয়েকজন অভিভাবক সন্দেহবশত রেনুকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় সেখানে উপস্থিত রিয়াই ‘ছেলেধরা’ বলে চিৎকার দিয়েছিলেন। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

পুলিশের অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, রিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করলেও পিটুনিতে অংশ নেননি বলে জবানবন্দিতে দাবি করেন।

রিয়া বলেন, ওই এলাকায় কয়েকটি বাড়িতে তিনি রান্নার কাজ করেন। তার ছেলেও ওই স্কুলে পড়ে। সে কারণেই স্কুলে গিয়েছিলেন।

আর হৃদয় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘটনার সময় সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছেন বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

এ মামলায় এ পর্যন্ত মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।তাদের মধ্যে জাফর হোসেন নামে আরও একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

July 2024
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031