১০ বছরে প্রায় ৪ লাখ বিচারপ্রার্থীকে আইনগত সহায়তা দিয়েছে সরকার

প্রকাশিত: ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০১৯

১০ বছরে প্রায় ৪ লাখ বিচারপ্রার্থীকে আইনগত সহায়তা দিয়েছে সরকার

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ১০ বছরে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার মাধ্যমে আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার পেতে অসমর্থ তিন লাখ ৯৩ হাজার ৭৯০ জন বিচারপ্রার্থীকে আইনগত সহায়তা দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী বলেন, এদের মধ্যে ১,১৮,৩১৫ জনকে আইনি পরামর্শ সেবা, ২,৪০,২১৮ জনকে মামলায় সহায়তা, ১৭,৯২৯ জনকে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সেবা এবং ১৭,৩২৮ জনকে হট লাইনের মাধ্যমে তথ্য সেবা প্রদান করা হয়েছে। আইনগত সহায়তাপ্রাপ্তদের মধ্যে ৬৬,৪০২ জন কারাবন্দী ছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি । ২৮ এপ্রিল সপ্তমবারের মতো এ দিবস পালন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, খুশির খবর হলো, ৭ম পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনায় যেখানে ২০২০ সালে ৩৭,০০০ বিচারপ্রর্থীকে আইনগত সহায়তা প্রদানের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে আমরা কেবল ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরেই ৮২,০০০ বিচারপ্রর্থীকে আইনগত সহায়তা প্রদান করেছি। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে আমরা ৯০,০০০ বিচারপ্রর্থীকে আইনগত সহায়তা প্রদানের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছি।
তিনি বলেন, লিগাল এইড কার্যক্রমকে গতিশীল ও সেবাবান্ধব করার লক্ষ্যে ঢাকায় জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার (ঘখঅঝঙ) প্রধান কার্যালয় স্থাপন করে এর অধীনে দেশের ৬৪টি জেলা সদরে জেলা লিগাল এইড অফিস স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে এসব অফিসে একজন করে সিনিয়র সহকারী জজ/সহকারী জজকে পূর্ণকালীণ লিগাল এইড অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্টে লিগাল এইড অফিস স্থাপন করে সেখানে লিগাল এইড কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রমিকদের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রম আদালতে শ্রমিক আইন সহায়তা সেল চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল শ্রম আদালতে এই সেল চালু করা হবে।
বলেন, সরকারি আইনি সেবা প্রদান আরও বিস্তৃত ও সহজ করার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে ঘখঅঝঙ- এর প্রধান কার্যালয়ে টোল ফ্রি জাতীয় হেল্পলাইন ১৬৪৩০ চালু করা হয়েছে। সরকারি আইনি সেবার যাবতীয় তথ্য ও কার্যক্রম ডিজিটাল ডাটাবেজের মাধ্যমে সম্পন্ন করার লক্ষে ২০১৮ সালে ‘লিগ্যাল এইড অফিস ম্যানেজমেন্ট সফট্ওয়্যার’ নির্মাণ করা হয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আইনি সেবা প্রদানের লক্ষে ২০১৮ সালে ইউ খবমধষ অরফ অঢ়ঢ় চালু করা হয়েছে। এড়ড়মষব চষধু ঝঃড়ৎব থেকে এই এ্যাপটি ডাউনলোড করে এখন যে কেউ তার আইনগত সমস্যার কথা জানাতে এবং আইনী পরামর্শ পেতে পারেন।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসগুলোকে এখন শুধু আইনি সহায়তা প্রদানের কেন্দ্র হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মামলা জট কমানোর লক্ষ্যে এ অফিসগুলোকে ‘এডিআর কর্ণার’ বা ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির কেন্দ্রস্থল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এজন্য ২০১৫ সালে ”আইনী পরামর্শ ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি” বিধিমালা প্রণয়ন করে লিগ্যাল এইড অফিসারদেরকে এডিআর বা বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এ ক্ষমতাকে আরো কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার লক্ষে ২০১৭ সালে দেওয়ানি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করা হয়েছে। এডিআর কার্যক্রমকে গতিশীল করতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস সমূহে নতুন করে ৯৬টি সহায়ক কর্মচারীর পদ সৃজন করা হয়েছে। এগুলোতে শিগগিরই লোক নিয়োগ করা হবে।
তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি আইনি সেবাকে পৌঁছে দিতে সারা দেশের ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটি সমূহকে সক্রিয় করণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, সরকারি আইন সহায়তা কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন জনসচেতনতা। কারণ এখনও দেশের জনগণের একটি অংশ দরিদ্র ও নিরক্ষর। এই দরিদ্র ও নিরক্ষর জনগণ তাদের আইনগত অধিকার সম্পর্কে ততটা সচেতন নয়। তাই দেশের আপামর জনসাধারণের আইনি অধিকার নিশ্চিত করার সাথে সাথে দরিদ্র ,অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিত নাগরিককে সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে সরকার ২০১৩ সালে ২৮ এপ্রিলকে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস’ ঘোষণা করে। এরপর থেকে প্রতিবছর একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে ২৮ এপ্রিল জাতীয়ভাবে আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। বিগত বছর গুলোর মতো এবছরও জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের জন্য একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্যটি হলো : ‘‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় শেখ হাসিনার অবদান, বিনামূল্যে লিগ্যাল এইডে আইনি সেবাদান ’’
দিবসটি পালনের জন্য জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ২৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে দশটায় ঢাকাস্থ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।