১৭ বছরে ২৫ বাঘ হত্যা করেছে শিকারিরা, সংখ্যা দিগুন করার লক্ষ্য থেকে কত দূরে বাংলাদেশ?

প্রকাশিত: ৫:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২২

১৭ বছরে ২৫ বাঘ হত্যা করেছে শিকারিরা, সংখ্যা দিগুন করার লক্ষ্য থেকে কত দূরে বাংলাদেশ?

২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রথমবার অনুষ্ঠিত বাঘ সম্মেলন থেকে বিশ্ব বাঘ দিবসের সূচনা হয়। বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হলেও বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ ১৩টি দেশে বাঘের ঘনত্ব বেশি থাকায় এসব দেশে গুরুত্ব সহকারে দিবসটি পালন করা হয়। সেন্ট পিটার্সবার্গের ওই সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ নিজ নিজ দেশে বাঘের সংখ্যা ১২ বছরের মধ্যে দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েছিল। ইতিমধ্যে নেপাল বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে। ভারত এবং ভুটানও দ্বিগুণের কাছাকাছি নিতে পেরেছে। তবে বাংলাদেশে সামান্য বাড়লেও লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে রয়েছে। সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে ২০১৫ সালের জরিপে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যায় ১০৬টি। তবে ৩ বছরের ব্যবধানে ২০১৮ সালের জরিপ অনুযায়ী বাঘ রয়েছে ১১৪টি। ২০০১ থেকে ২০১৮- এই ১৭ বছরে সুন্দরবনে ৫০টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ২৫টি হত্যা করেছে চোরা শিকারিরা। সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা নির্ধারণে আবারও শুরু হচ্ছে বাঘ গণনা।

 

 

 

 

‘সুন্দরবন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প’র আওতায় চলতি বছরের অক্টোবর থেকে গণনার কাজ করা হবে। এজন্য বনে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের (ফাঁদ) কাজ শুরু করবে বন বিভাগ।

 

 

 

বন বিভাগ সূত্র থেকে জানা যায়, ১৯৭৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘ ছিল ৩৫০টি, ১৯৮২ সালে জরিপে ৪২৫টি ও এর দুই বছর পর ১৯৮৪ সালে সুন্দরবন দক্ষিণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ১১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় জরিপ চালিয়ে ৪৩০-৪৫০টি বাঘ থাকার কথা জানানো হয়। এরপর ১৯৯২ সালে ৩৫৯টি বাঘ থাকার তথ্য জানায় বন বিভাগ। পরের বছর ১৯৯৩ সালে সুন্দরবনের ৩৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় প্যাগমার্ক পদ্ধতিতে জরিপ চালিয়ে ৩৬২টি বাঘ রয়েছে বলে জানানো হয়।

 

 

 

 

একইভাবে ২০০৪ সালের জরিপে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০টি। ১৯৯৬-৯৭ সালের জরিপে উল্লেখ করা হয় ৩৫০ থেকে ৪০০টি। ওই সময়ে বাঘের পায়ের ছাপ পদ্ধতিতে গণনা করা হয়।

 

 

 

 

২০১৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে দাঁড়ায় ১০৬টিতে। হঠাৎ করে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ৪০০টি থেকে ১০৬তে নেমে এলে হৈচৈ পড়ে যায়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের জরিপে ১০৬ থেকে বেড়ে বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৪টিতে।

 

 

 

সুন্দরবন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সুন্দরবনে ৫০টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবে মারা গেছে মাত্র ১০টি। ১৪টি বাঘ পিটিয়ে মেরেছে স্থানীয় জনতা। একটি নিহত হয়েছে ২০০৭ সালের সুপার সাইক্লোন সিডরে ও বাকি ২৫টি হত্যা করেছে চোরা শিকারিরা।

 

 

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চোরাশিকারিদের প্রধান টার্গেট হচ্ছে বাঘ। তারা বাঘ শিকার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার করে। এই চক্র যাতে করে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে না পারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারিসহ টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।সুত্র: ঢাকাটাইমস।