৪৭ হাজার শ্রমিকের বৈধতা ইস্যুতে বাহরাইন যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৪:৪১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৫

৪৭ হাজার শ্রমিকের বৈধতা ইস্যুতে বাহরাইন যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এসবিএন ডেস্ক:
প্রায় ৪৭ হাজার অবৈধ বাংলাদেশিকে বৈধকরণের সময় বাড়ানোর অনুরোধ নিয়ে বাহরাইন যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝিতে সফরটি হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দু’দিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে মন্ত্রী মাহমুদ আলী বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং দেশটির সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করবেন। মন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম ও মধ্য এশিয়া অনুবিভাগের নতুন দায়িত্ব পাওয়া মহাপরিচালক মাসুদ-উর রহমান এবং মন্ত্রীর দপ্তরের পরিচালক শাহ আসিফ রহমান সফরে যাচ্ছেন। সফর প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি হিসাবে ১ লাখ ৪৭ হাজার বাংলাদেশি বাহরাইনে রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৪৭ হাজার অবৈধ। তাদের বৈধকরণের প্রক্রিয়া চলছে দেশটির সরকার ঘোষিত শর্ত সাপেক্ষে সাধারণ ক্ষমার আওতায়। আগামী ৩১শে ডিসেম্বর ওই সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। অন্য অবৈধ বিদেশীদের সঙ্গে বাংলাদেশীদেরও বৈধকরণের প্রক্রিয়াটি বেশ এগিয়ে নিয়েছে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাস। কিন্তু সর্বশেষ পাওয়া তথ্য মতে তাদের মধ্যে অর্ধেকের বৈধ হওয়ার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের জন্য আরও সময় চায় ঢাকা। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আসন্ন সফরের সময় বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাবে বাংলাদেশ। জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় কূটনৈতিক চেষ্টার পাশাপাশি রাজনৈতিক পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে কথা হবে। অবশ্য বাহরাইন কর্তৃপক্ষ বরাবরই বাংলাদেশের বিষয়ে ইতিবাচক। বিশেষ করে বাংলাদেশী শ্রমিকদের আচরণ এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে। জনৈক কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে কিছু ব্যক্তির গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আসে নিয়মিতভাবে। দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশী অপরাধীদের বিষয়ে নিজেরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। অপরাধ বিবেচনায় তাদের জেল-জরিমানা, দেশে ফেরতসহ সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডও দিয়ে থাকে। বাংলাদেশী অপরাধীদের বিষয়ে অবহিত করতে দেশগুলো প্রায়ই ঢাকায় নোট পাঠায়। সেখানে বাহরাইনের অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশটিতে থাকা বাংলাদেশীদের অপরাধে যুক্ত হওয়ার হার তুলনামূলক কম। দেশটির কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নালিশ করার পরিবর্তে অনেক সময় ইতিবাচক রিপোর্ট দেয়। দেশটিতে থাকা শ্রমিকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে রয়েছে। তাদের অনেকে নিয়োগকর্তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে গেছেন। এই বিবেচনায় ওই কর্মকর্তা মনে করেন বাংলাদেশ অনুরোধ করলে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ সময় বাড়ানোর বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই আমলে নেবে। আর এ জন্যই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সফরটি আয়োজন করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বশীল অপর এক কর্মকর্তা বলেন, বাহরাইন কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটি সফরে যাচ্ছেন। আগের সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির সময় থেকেই বাহরাইন কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে এমন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে আসছে। তাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে একাধিকবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সফর আয়োজনও হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত মুহূর্তে অন্য ব্যস্ততায় তা বাতিল করা হয়। এবারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের আয়োজন প্রায় সম্পন্ন জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর মন্ত্রী ও তার সফর সঙ্গীদের ভিসা ও টিকিট নেয়া হয়েছে। মন্ত্রীর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, অনুবিভাগে সফরের নোটিশ সার্কুলেট করা হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২২-২৩শে ডিসেম্বরের সফরের জন্য সোমবার মন্ত্রী বিমানে ওঠবেন। সফরকালে বাহরাইনের সঙ্গে বাংলাদেশের নিয়মিত আলোচনার ফোরাম ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) সংক্রান্ত একটি চুক্তি বা সমঝোতা সই হতে পারে।