৪ আতঙ্কে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২:১০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০২০

৪ আতঙ্কে বাংলাদেশ

মীর আব্দুল আলীম

করোনা আতঙ্ক বিশ^ জুড়ে। এদিকে সড়কে মৃত্যু অতঙ্ক বাংলাদেশের ঘরে ঘরে।
ধর্ষকদের ভয়ে নারীরা আতঙ্কিত! আগাম ভয় ডেঙ্গুর। এই ৪ আতঙ্কে চারদিকে ভয়
আর ভয়; কি জানি কি হয়! করোনা আতঙ্কের মধ্যেই এখন আবার ডেঙ্গুর ছোবল।
রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। নতুন করে ডেঙ্গু
আক্রান্ত রোগী রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদিকে পত্রিকায় প্রতিদিন দেখছি দেশের ধর্ষকরাও বেশ
ক্ষেপেছে। ধর্ষণ হচ্ছে ঘরে-বাইরে, বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, রাস্তা-ঘাটে।
ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ডাক্তার,ইমাম, মুয়াজ্জেন, উকিল, সংবাদকর্মী
এদের সবাই ধর্ষকদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। ওদের লাম্পট্যের শিকার
ছাত্রী,আয়া, বুয়া, নার্স, ডাক্তার, গৃহবধু। এমনকি ষাট উর্দ্ধ বৃদ্ধা
মা-দাদীরাও ধর্ষকদের হাত থেকে আর রেহাই পাচ্ছেন না। এদেশের সড়ক গুলোতো
রিতিমতো মড়ক লেগেছে। সড়ক দুর্ঘটনা মহামারীতে (!) রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন
বাংলাদেশের সড়কে যত মানুষ মরছে তত মানুষ বোধ করি সারা বিশে^ও করোনায় মরছে
না।
প্রসঙ্গ করোনা:
শত দেশে করোনা ছড়ালো। করোনার ছোবল বাংলাদেশেও। করোনা আতঙ্ক এখন দেশ জুড়ে।
এদেশে ৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে বলে আইইডিসিআর দাবি করেছে।
করোনায় করুণা করছে না কাউকে। মানুষ মরছে প্রতিদিন। আমাদের সবসময় প্রস্তুত
থাকা দরকার। আমরা কতটা প্রস্তুত? আর কতটা শতর্ক? শতর্কতা খুবই কম।
রাজধানী কেন্দ্রীক প্রস্তুতি থাকলেও জেলা কিংবা উপজেলা পর্যায়ে প্রস্তুতি
তেমন চোখে পড়ে না। জেলাসদরে ডিসি এবং সিভিল সার্জন হাসপাতাল মালিকদের
নিয়ে সভা করেছেন কেবল। হাসপাতাল গুলোকে করোনার জন্য ইউনিট তৈরি করতে
পারেননি বলেই জানি। জেলায় এক দু’টি কোয়ারেন্টাইন কক্ষ রাখা হয়েছে মাত্র।
জনবল কম। করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে তাতে সামাল দেয়া কঠিনই হবে। আমাদের
জনগনও সচেতন নয়। একবার করোনা ছড়িয়ে পরা শুরু করলে সর্বণাশ হয়ে যাবে। এ
জন্য আগেভাগেই জনগনকে সচেতন করে তুলতে নানা কর্মসূচি গ্রহন করা উচিৎ।
প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা
দরকার। সভা সেমিনার করা দরকার। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা,
ইউনিয়ন পরিষদ সবখানে সভা সেমিনার করে জনগনকে করোনা ভাইরাসের হাত থেকে
রক্ষায় করণীয় সম্পর্কে বুঝাতে হবে। যা এখনও চোখে পড়ছে না আমাদের।
সারা বিশে^র ন্যায় বাংলাদেশেও ঘনীভূত করোনা আতংক। যত দিন গড়াচ্ছে, করোনা
ভাইরাসের হানায় সন্ত্রস্থ হচ্ছে গোটা দুনিয়া। এরই মধ্যে চীন থেকে ‘করোনা
ভাইরাস’ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। সবখানে আতংক। বাংলাদেশে আতংক ছড়িয়েছে বেশি;
সতর্কতা কম। রোগব্যাধি নিয়ে আতঙ্ক নয়, দরকার হলো সতর্কতা ও সচেতনতা। এখনও
বাংলাদেশে চীনা নাগরীক এবং প্রবাসীরা প্রবেশ করছে। করছে বহু চীনা নাগরীক
দেশে বসবাস। তাদের ব্যপারে সতর্কতা কম, বাঁধা নিষেধ কম। আমাদের বিমান
বন্দর, স্থল বন্দর, সমুদ্র বন্দর গুলো এখনও রক্ষিত বলা যাবে না। কারা
আসছে? কোথা থেকে আসছে? ট্রানজিট হয়ে করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে কেউ আসছে
কিনা তা নিয়ে শতর্কতা নেই, কোন হিসাব নেই। এ অবস্থায় বাংলাদেশে করোনা
ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। শুধু মানুষের জীবন নয়, এখন বিশ^
অর্থনীতির জন্যও হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে করোনা ভাইরাস।
প্রসঙ্গ ধর্ষণ :
দেশে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। শিশুধর্ষণ, গণধর্ষণ ও ধর্ষণশেষে
হত্যার ঘটনা ক্রমশ: গ্রাস করছে আমাদের সভ্যতাকে। নিত্যই ব্যভিচার ও
ধর্ষণকামিতার ঘটনা ঘটছে। রোধ হচ্ছে না। দেশে ধর্ষণের একটা ঘটনাও কিন্তু
ঘটা উচিত নয়। কিন্তু দেশে ধর্ষণসহ নির্যাতনের ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে কি না,
সে প্রশ্নটা ঠান্ডা মাথায় ভাবতে হবে। তা না হলে খোদ রাজধানী ঢাকায় শত
নিরাপত্তার পরও একের পর এক নারী ধর্ষিত হচ্ছে কেন? সর্বশেষ ঢাকা
বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল এখন ঢাকা। বোঝা যাচ্ছে না,
ধর্ষণের প্রতিরোধ করতে সরকারের যে ব্যর্থতা, তা কি সকল ক্ষমতাশীন
দলেরব্যর্থতার ধারাবাহিকতা কিনা? তাই যদি না হয় দেশে ধর্ষন কমছে না কেন?
কোন ক্ষমতা মেয়েদের বিপদ বাড়াচ্ছে? কথা না বলার চাপ মেয়েদের উপর। ধর্ষিত
হলে শ্লিলতাহানীর শিকার হলে পরিবার থেকে বলা হয় চুপ থাকতে হবে, নইলে মান
যাবে। আবার মেয়েদেরও পুলিশের উপর আস্থা থাকে না। তাই বিচারহীনসাংস্কৃতি
নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ধর্ষণের অনেক তথ্য উপাত্ত প্রকাশিত আছে, কিন্তু সঠিক কোন পরিসংখ্যান বা
তথ্য আমাদের নেই। বাংলাদেশে কোথাও না কোথাও প্রতি ২১ মিনিটে একটি করে
ধর্ষণকান্ড ঘটে। প্রকৃত সংখ্যাটা সম্ভবত এর চাইতে বহু গুণ, কেননা ৯০
শতাংশ ধর্ষণই লোকলজ্জায় কিংবা পরিবারের অমতে গোচরে আনা হয় না। এই বিপুল
পরিমাণ ধর্ষণের যারা শিকার, তাদের ১৮ শতাংশই নাবালিকা, অনেকেই চার-ছয়
বছরের শিশু। সর্বোপরি নথিভুক্ত ধর্ষণকান্ডগুলির ৯৮ শতাংশ ক্ষেত্রেই
ধর্ষকরা ধর্ষিতাদের আত্মীয়, স্বজন, নিকট প্রতিবেশী বা পূর্বপরিচিত। আর
এখানেই সামাজিক ভরসা ও বিশ্বাসের সনাতন, সযত্নলালিত ধারণাগুলি ভাঙ্গে
পড়ার প্রসঙ্গটি উঠে পড়ে। দেহরক্ষীর হাতে নিহত হওয়ার মধ্যে যেমন
বিশ্বাসহানি রযেছে, তেমনই বিশ্বাসভঙ্গের ব্যাপার আছে আত্মজনের হাতে
যৌননিগ্রহের ঘটনায়ও। যাকে রক্ষা করার কাজে নিযুক্ত, তাকেই হত্যা করা যেমন
কৃতঘ্ন বিশ্বাসঘাত, আত্মীয়তা কিংবা পূর্বপরিচয়ের সূত্রে অর্জিত বিশ্বাসের
সুযোগ নিয়ে ধর্ষণ করাও সমান নারকীয়তা। শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক ও
সামাজিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে ধর্ষণের পরিণতিই এক ও অভিন্ন হলেও এ ধরনের
ধর্ষণকে ইদানীং ‘পারিবারিক হিংসা’র পর্যায়ভুক্ত করা হয়। পরিবারের ভিতরে
পুরুষ আত্মীয় ও গুরুজনদের দ্বারা বা পরিবারের বাহিরে নিকট প্রতিবেশীদের
দ্বারা যৌননিগ্রহের শিকার হওয়া মহিলারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁদের
দুর্গতির কথা মুখ ফুটে বলতে পারেন না, পুলিশের কাছে অভিযোগ করা তো
দূরস্থান। কারণ পরিবারই সেই নিগ্রহ-লাঞ্ছনার কথা চেপে যায়, লাঞ্ছিতাকে
পরিবারের সামাজিক মর্যাদাহানির ভয় দেকিয়ে চুপ করিয়ে রাখে, প্রায়শ তাাদের
দূরে কোথাও পঠিয়ে দেয়। তাতে পরিবারের ‘মর্যাদা’ অক্ষত থাকে, ধর্ষক পুরুষ
আত্মীয়ও নিষ্কলঙ্ক থাকে যায়। আর এখানেই ভিতরে ভিতরে চলতে থাকে
পিতৃতন্ত্রের লীলা, নারীর প্রতি বৈষম্যের অনুশীলন। পরিবারের গন্ডির মধ্যে
শুরু হওয়া এই অনুশীলনই বৃহত্তর সমাজেও ছড়িয়া পড়ে।
এ কারণেই ধর্ষন বাড়ছে। গত ২০১৯ সালে ধর্ষণ বেড়েছে দ্বিগুণ। ২০১৯ সালে
ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১ হাজার ৪১৩ জন নারী। ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৩২
জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে দ্বিগুণ যা ভয়াবহ। এটা
কিন্তু সরকারি হিসাব। বেসরকারি হিসাব এর চাইতে বহুগুণ বেশি। পরিসংখ্যান
অনুযায়ী, ধর্ষনণ তো বেড়েছেই। বেড়েছে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নিষ্ঠুরতাও।
কঠোর আইন, প্রচার ও উচ্চ আদালতের নানা নির্দেশনার পরও নারীর প্রতি
সহিংসতা ও নিষ্ঠুরতা কমানো যাচ্ছে না। ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায়
আনা হচ্ছে কম। যাদেও আইনের আওতায় আনা হয় তাদেও (ধর্ষণকারী) কিন্তু
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না। তাই কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না ধর্ষণ। অপরাধ
বিশেষজ্ঞরা নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিচারহীনতাকেই
দায়ী করেন।
প্রসঙ্গ সড়ক মৃত্যু :
এদেশে প্রতিদিন সড়কে মূল্যবান প্রাণ যাচ্ছে। রাজীবের হাত যাচ্ছে, কারো
পা যাচ্ছে, মাথা যাচ্ছে, মিশুক-মনির, সাইফুর রহমানদের জীবন যাচ্ছে। থামছে
না সড়কে মৃত্যু মিছিল। আমরা বিশেষ দু’একজনের জন্য আহ্ উহ্ করি। প্রতিদিন
কত খালিদ, কত হৃদয় পঙ্গু হচ্ছে, জীবন দিচ্ছে তার খোঁজ কি রাখি? আমরা কেন
মৃত্যুর মিছিল রোধ করছি না? কেবল আলোচিত ঘটনায় মন্ত্রী, এমপিরা ছুটে
যায়,স্বজন কিংবা লাশের পাশে। আমরা মায়া কান্না করি; লাভ কি তাতে?
এদেশে আইন হয় আইনের প্রয়োগ হয়না কখনো। দ:ুক্ষজনক হলেও সত্য এদেশে আইন
নিযন্ত্রণ করেন সড়ক পরিবহন নেতারা। আরও কষ্টের কথা হলো এদেশের সড়ক
পরিবহনের শীর্ষ নেতা (শাহজাহান খান) সরকার দলেরর শীর্ষ পদের। সড়ক নিরাপদ
করতে নয়া আইন হয়েছে। তা বাস্তবায়ন শুরু হবে ১ নভেম্বর ২০১৯ থেকে। শুরুতে
তর্জন গর্জন শুনেছি। ভালো লেগেছে। পওে দেখলাম শ্রমিক নেতাদের দেনদরবারে
হঠাৎ থমকে গেছে সরকার ও প্রশাসনের আইন প্রয়োগের কার্যক্রম। সড়ক নিয়ে
আন্দোলনে নামা নিরাপদ সড়ক চাই এর প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন উল্টো
শাহজাহান খানের হুমকির মুখে পড়েন। থমকে গেছে সড়ক আন্দোলনও। তাই রাস্তায়
আগের চেয়ে বেপরোয়া চালক। যা হবার তাই হচ্ছে সড়কে। মাঝে মাঝে আইন প্রয়োগের
কথা উঠলে; বড় কোন দুর্ঘটনায় সরকার মহলের হুঙ্কার শুনলে তৃপ্ত হই এই ভেবে
যে এই বুঝি সড়ক নিরাপদ হচ্ছে। নিরাপদ সড়কের জন্য হাজারো হুঙ্কার আন্দোলন,
ধর্মঘট, মিছিল, সমাবেশ কতকিছুই না হয়; সড়ক আর নিরাপদ হয় না।
সম্প্রতি উচ্চ আদালত ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে না চলতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
ফিটনেসবিহীন গাড়ি এখনও সড়কে চলছে। তবে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান
চললে সড়কে গাড়ি সংখ্যা কমে যায়। এতে জনগণের ভোগান্তির সৃষ্টি হয় উল্ল্যেখ
করে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “আমরা বিকল্প ব্যবস্থার
বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করছি”। এটা কিন্তু সরকারের উল্টে পথে
হাঁটারই লক্ষণ। সরকার সিথিল হলে আইনের প্রয়োগ না হলে সড়কে মানুষতো মরবেই।
সম্প্রতি উচ্চ আদালত ফিটনেসবিহীন গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ না করতে
নির্দেশনা দিয়েছেন। জালানী পাম্প গুলোতে সাইনবোর্ডও লাগিয়ে দেয়া হয়েছে “
ফিটনেস ছাড়া জালানী সর্বরাহ করা হয় না”। সে নির্দেশ এখন অকার্যকর। এ সড়ক
ও পরিবহনমন্ত্রী বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনায় ‘বাস্তবতার নিরিখে’
ব্যবস্থা নেয়া হবে। তেল দেয়ার বিষয়টি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের। হাইকোর্ট
যখন আদেশ দিয়েছেন, পেট্রল পাম্প তো জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের, তারা এ আদেশ
মানার প্রক্রিয়ায় কতটুকু এগিয়েছে, তা জানি না বলেছেন মন্ত্রী। হাইকোর্ট
যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, আমরা দেখেছি সিদ্ধান্ত দেয়ার আগেও হেলমেট না থাকলে
তেল নয়, যে ব্যবস্থা করা হয়েছিল, সেটি কার্য্যকর হয়েছে। কাজেই ফিটনেস
বিহীন গাড়িতে তেল সর্বরাহ না করার এ বিষয়টি মনে হয় জনস্বার্থে মেনে নেয়া
দরকার এবং মেনে নিলে মানুষ উপকৃত হবে। সেটা কার্যকর হচ্ছে না এখনো। হয়তে
হবে না কখনো। এদেশে হাইকোর্টের নির্দেশকেও বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখায় তারা।
এবার নয়া ‘সড়ক আইন ২০১৯’ মনে আশা জাগে বড়; তবে মনে জোড় পাইনি। আমাদের কত
কিছুর জন্যইতো আইন আছে প্রয়োগ হয় ক’টা? এদেশে কঠোর খাদ্য আইন আছে তবুও
প্রায় সব খাবারেইতো বিষ মিশানো থাকে। নারীরর প্রতি সহিংস্রতার আইন আছে
এদেশের নারীরা কতটা নিরাপদ। অনিরাপদ হয়ে ধর্ষিত হয়ে, খুন হয়ে যাবার পর
নুসরাতের মত ক’টা ঘটনার বিচার হয় এদেশে। সড়ক আইন ছিলো আগেও এখনও আছে।
প্রয়োগ হয় কি?। নয়া আইনের প্রয়োগ নিয়েও মনে প্রশ্ন উঁকি ঝুকি মারে। তবুও
আশা করতে দোস কোথায়? আসার বাসা বেঁধে নাহয় নিরাপদ সকের স্বপ্ন দেখতে দোস
কি তাতে। একে বাওে আশা ছেড়ে দেয়া যাবে না। যা ভাবিনি তাতো হচ্ছে দেশে।
সড়কে সড়কে ফ্লাইওভার, মেট্রো রেল, স্বাপন্ওে পদ্মা সেতু সেবইতো দেখছি।
নতুন করে জানলাম শিশুরা নতুন বছর নতুন বইয়ের সাথে টাকা পাবে। বয়স্ক
মানুষ, দরিদ্র মানুষ ভাতা পাচ্ছে। একদিন আমরা দেশের সকল নাগরিকরা হয়তো
ভাতার আওতায় আসবো। ফ্রি চিকিৎসা পাব। এমন স্বপ্ন এখন দেখতে পারি। ভবি সব
কিছুইতো হচ্ছে। অসভ্য খুনে সড়ক কি আদৌ নিরাপদ হবে কখনো? মনে বড় সংশয়। সড়ক
ঠিকই নিরাপদ হবে। কিছু কিছু ঘটনায় দেখেছি প্রধানমন্ত্রী নাড়া দিলে সব নড়ে
চড়ে ওঠে। তিনি দৃষ্টি দিলে সব সহজে হয়ে যায়। এবারও তিনি সড়ক নিরাপদ করতে
নির্দেশ দিয়েছিলেন। আন্দোলনের ভয়ে হয়তো সেই নির্দেশনা অকার্যকর হয়ে আছে।
মনে প্রশ্ন জাগেই, আদৌ কি খুনে সড়ক আমাদেও জন্য নিরাপদ হবে? থেমকে কি
সড়কে মৃত্যুর মিছিল?
প্রসঙ্গ ডেঙ্গু :
মশা আর ডেঙ্গ এদেশে আরেক আতঙ্কেও নাম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য
অনুযায়ী, এই মুহূর্তে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ১০ জন ডেঙ্গু রোগী
চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ২৬০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত
হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ২৫০ জন চিকিৎসা শেষ করে ইতোমধ্যে
হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী
২০১৯ সালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক লাখেরও বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি
হন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ১ হাজার ৩৭ জন। এদিকে,
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর)
হিসাব মতে, গত বছর ডেঙ্গুজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে ২৭৬ জনের। এদের মধ্যে
১৭৯ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বাকিরা
ডেঙ্গুর পাশাপাশি আরো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এবারও ডেঙ্গতে ভয়
রয়েছে। মশা যেভাবে বাড়ছে তা সামাল না দেয়া গেলে বহু মানুষের ডেঙ্গু
আক্রন্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

সর্বশেষ এটাই বলবো, আমরা যোদ্ধার দেশ। দেশের জন্য যুদ্ধ করে দেশ পেয়েছি।
কলেরা-ডায়েরীয়ামহামারী সামনে ফেলে সফল হয়েছি। করোনা, ডেঙ্গু, ধর্ষণ, সড়ক
মৃত্যুকেও আমদের জয় করতে হবে। সব ভয়কেই দুরে সরিয়ে নির্ভয়ের বাংলাদেশ
গড়তেই হবে আমাদের। বাংলাদেশ দরিদ্র দেশ হলেও সব দুর্যোগ, মহামারী উৎড়ে
সফলতার মুখ দেখেছে। উন্নত দেশের স্বাদ পাচ্ছি আমরা। সকল ভয়কে কাটিয়ে
বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই।
✒ লেখক : সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও গবেষক

ছড়িয়ে দিন