৫ বছরে দেশে ২৪ শতাংশ হারে বৈদেশিক বাণিজ্যিক ঋণ বাড়ছে

প্রকাশিত: ১:৫০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০১৮

৫ বছরে দেশে ২৪ শতাংশ হারে বৈদেশিক বাণিজ্যিক ঋণ বাড়ছে

বিআইবিএমের মহা পরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, আমাদের যে সম্পদ আছে তাতে আমাদের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি ঋণের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু আমাদের ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদানে নানা রকম অনিয়মের কারণেই বিদেশি ঋণ নিচ্ছে। পরবর্তীতে এসব ঋণ আমাদের অর্থনীতির জন্য সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম মিলনায়তনে ‘বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ: একটি ব্যবচ্ছেদ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন ।

বেসরকারি খাতে বিদেশ থেকে বাণিজ্যিক ঋণ নেওয়ার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা দেশের অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মত দিয়েছেন প্রায় সকল বক্তা ।
সেমিনারের গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে মূল প্রবন্ধে বিআইবিএম পরিচালক ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী বলেন, বিগত ৫ বছরে দেশে ২৪ শতাংশ হারে বৈদেশিক বাণিজ্যিক ঋণ বাড়ছে।

২০১৩ সালের ৪০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যিক ঋণ ২০১৭ সালে এক হাজার ১৩৪ কোটি ডলারে এসে ঠেকেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বৈদেশিক বাণিজ্যিক ঋণের ১১ ধরণের উদ্বেগ চিহ্নিত করেছেন প্রশান্ত কুমারের নেতৃত্বে গবেষক দল। এগুলো হলো- বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি, নৈতিকতার ঝুঁকি, ঋণের খরচ, স্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হয়েও বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ, ঋণের সঠিক ব্যবহার, নীতিগত অনিশ্চয়তা, নীতি সহায়তা, ভেরিফিকেশন অব অ্যাপ্লিকেশন, বরোয়িং ফ্রম অফ শোর ব্যাংকিং ইউনিট এবং ঋণ অনুমোদনে দীর্ঘসূতত্রিতা।

প্রধান অতিথি ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ বেসরকারি খাতে বিদেশি বাণিজ্যিক ঋণ নিয়ে বিপাকে পড়েছে। বাংলাদেশে এ ধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও বিষয়টি সর্তকতার সঙ্গে দেখতে হবে।

“প্তানিকারকদের দাবির প্রেক্ষিতে বিদেশি ঋণ নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রথম দিকে এ ঋণের কিছু অপব্যবহার হয়েছিল।

এখন এ ধরণের ঘটনা ঘটছেনা বলে আশ্বস্ত করলেও পুরো বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়া নজরদারিতে রয়েছে বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কর্মকর্তা।

সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এ চৌধুরী বলেন, গত কয়েক বছরে বিদেশি বাণিজ্যিক ঋণ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে অর্থনীতিতে তার বড় ধরণের প্রভাব পড়বে।

বিদেশি ঋণ নিয়ে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের একটি অংশ তাদের স্থানীয় ঋণও পরিশোধ করেছে বলে উদাহরণ তুলে ধরে বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, এমন ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে সেদিকে নজর রাখতে হবে।

ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব-উল-আলম বলেন, বিদেশি ঋণে অনেক ধরণের ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে ব্যাংকারদের পাশাপাশি গ্রাহকদেরও ভালো ধরণা থাকতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিদেশি ঋণ যেন অর্থনীতির জন্য চাপ সৃষ্টি না করে সেদিকে সরকারের সৃষ্টি রাখতে হবে। রেমিটেন্স, রপ্তানি এবং উৎপাদনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিদেশি ঋণ নেওয়ার অনুমোদন দিতে হবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে বিদেশি বাণিজ্যিক ঋণের প্রয়োজন থাকলেও তা যেন ভিন্ন খাতে ব্যবহার না হয় সেদিকে বিশেষ নজরদারির উপর জোর দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং বিডার নির্বাহী কমিটির সদস্য নাভাস চন্দ্র মন্ডল বলেন, ২০০৯ সালের দিকে ব্যাংকে উচ্চ সুদ, ব্যাংক ঋণ নিয়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে বেশি খরচসহ আরও কয়েকটি কারণে সৃষ্ট সংকট কাটাতে সরকার বিদেশি ঋণের অনুমোদন দেয়।

‘প্রাইভেট কমার্শিয়াল বোরোয়িং ফ্রম ফরেন সোর্সেস ইন বাংলাদেশ: অ্যান অ্যানাটমি’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রশান্ত কুমারকে সহযোগিতা করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক নেহাল আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক রুহুল আমীন ও অন্তরা জেরিন, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) উপসচিব মো. আরিফুল হক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্টের যুগ্ম পরিচালক প্রদীপ পাল।