মৌলভীবাজার জেলার ১০৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৬৬টিতেই শহীদ মিনার নেই

প্রকাশিত: ৪:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০

মৌলভীবাজার জেলার ১০৫২টি  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৬৬টিতেই শহীদ মিনার নেই

মোঃ আব্দুল কাইয়ুম,মৌলভীবাজার: বাঙালির শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরেই উদযাপন করা হয় ।। অথচ মৌলভীবাজার জেলার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো পর্যন্ত নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। মৌলভীবাজার জেলার ১০৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৬৬টিতেই শহীদ মিনার নেই ।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১১নং মোস্তফাপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৩২ সালে ঐ এলাকার শিক্ষাণুরাগী মরহুম মাষ্টার আব্দুল অদুদ ও মরহুম রইছ উদ্দিন মাষ্টার প্রতিষ্ঠানটির গোড়াপত্তন করেন। দু:খজনক হলেও সত্য ৫২ পেরিয়ে বিগত ৬৭ বছরেও প্রাচীণ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি । অবশ্য শহীদ মিনার নির্মাণ নিয়ে অতীতে কেউ উদ্যেগ নেননি। ২০০১ সালে এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেন ফাতেমা জহুরা বিউটি। তার দাবী তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিগত ১০ বছর যাবত স্কুল প্রাঙ্গণে শহীদ মিনার নির্মার্ণের চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

জানা যায়, প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও একুশে ফেব্রুয়ারিতে প্রভাত ফেরিসহ বিভিন্ন দিবস পালনের জন্য স্কুল আঙিনায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় কাগজ,ফুলসহ নানা উপকরণ দিয়ে অস্থায়ী ডামি তৈরি করে শহীদ মিনার বানিয়ে পালন করা হয় দিবসগুলোর কর্মসূচি, স্মরণ করা হয় শহীদদের।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফাতেমা জহুরা বিউটি বলেন, আমি বিগত ১০ বছর যাবত নানাভাবে চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য। এ নিয়ে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল হোসেনের কাছেও একাধিকবার শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য যোগাযোগ করেছি। তিনি বলেন, বর্তমানে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে,আশা করি এবছরই শহীদ মিনার নির্মাণ সম্ভব হবে।

এবিষয়ে জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ জাবেদ বলেন, জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি প্রকল্প প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, আশা করি দ্রুতই সেখানে জেলা পরিষদের অর্থায়নে শহীদ মিনার নির্মাণ হবে।

জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে। আশাকরি খুব শীঘ্রই বাকী প্রতিষ্ঠান গুলোতে শহিদ মিনার নির্মাণ করা হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ১০৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৬৬টিতেই শহীদ মিনার নেই।

ছড়িয়ে দিন