৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমেই জাতি মুক্তিযুদ্ধের দিক-নির্দেশনা পেয়েছিল

প্রকাশিত: ২:১০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০১৭

৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমেই  জাতি মুক্তিযুদ্ধের দিক-নির্দেশনা পেয়েছিল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমেই বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধের দিক-নির্দেশনা পেয়েছিল । ১৮ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। ৭ মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি উদযাপনে সমাবেশের আয়োজন করে নাগরিক কমিটি। গত মাসের শেষ দিকে বিভিন্ন দেশের আরও ৭৭টি ঐতিহাসিক নথি ও প্রামাণ্য দলিলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সেই ভাষণকেও ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত করে নেয় ইউনেস্কো।
সমাবেশের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণে এই সোহওয়ার্দী উদ্যানে লাখো মানুষ সমাবেত হয়েছিল। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মানুষ এসেছিল। ধীরে ধীরে একটি জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একটি জাতিকে স্বতন্ত্র জাতিসত্তার চেতনায় তিনি জাগ্রত করেছিলেন তার আন্দোলন সংগ্রামের পথ বেয়ে। আর সেই বাঙালি এসেছিল দিক-নির্দেশনা নিতে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সব প্রস্তুতির কথাও জাতির পিতা ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে বলেছিলেন। কী কী করণীয় তাও বলেছিলেন। কারণ তিনি জানতেন কী ঘটতে যাচ্ছে।
পৃথিবীতে আর কোনো ভাষণ এতবার বাজানো হয়নি মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ যতবার বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, ততবার বাঙালিরা জাগ্রত হয়েছে। কিন্তু এই ভাষণকে বন্ধ করে রাখতে পারে নাই তারা।
‘তারা কারা’ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, পঁচাত্তরের পর অবৈধভাবে যারা ক্ষমতা দখল শুরু করেছিল, যারা এ দেশের মাটিতে জন্মগ্রহণ করেনি, এ দেশ মাটির প্রতি যাদের কোনো টানই ছিল না, তারাইবঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। সেটাই আজ প্রমাণিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যতই মুছে ফেলার চেষ্টা করুক, ইতিহাস তার জায়গা করে নেবে। আজ ইউনেস্কোর স্বীকৃতির মাধ্যমে সেটাই প্রমাণ হয়েছে। আজ যখন ইউনেস্কো এই ভাষণকে বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে তখন কি তাদের লজ্জা হয় না?’
তিনি বলেন, পাকিস্তানিরা আমাদের সবসময় দাবিয়ে রাখত। কোনো অধিকার বাঙালির ছিল না। পশ্চিম পাকিস্তানিদের কাছে বাঙালিরা সবসময় অত্যাচার, শোষণ করেছে। কিন্তু তারা আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারে নাই। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে আমাদের এই স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি।
‘৭ মার্চের ভাষণে জাতির পিতা সমগ্র বাংলাদেশের জনগণের ২৩ বছরের বঞ্চনা, শোষণ, নিপীড়নের কথা বলেছিলেন। সেই ভাষণের মধ্য দিয়ে তিনি একটি জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন’, বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা চেয়েছিলেন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। ইনশাআল্লাহ আমরা বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব। ২০২১ সালের সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত দেশে পরিণত হব।’
বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যে’র স্বীকৃতি দেওয়ায় ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে ইউনেস্কো। এজন্য তাদের ধন্যবাদ।
এর আগে তিনি বেলা দুইটা ৩৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন।
দুপুরে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে সমাবেশ শুরু হয়। অনুষ্ঠানের প্রথমে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ শেষে বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সেই দিনটি নিয়ে নির্মলেন্দু গুণের কবিতা আবৃত্তি করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় রয়েছেন রামেন্দ্র মজুমদার ও ডা. নুজহাত চৌধুরী।
সমাবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দীতে মঞ্চ বানানো হয়েছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য সামনে রয়েছে আলাদা একটি মঞ্চ।
সমাবেশে যোগ দিতে শনিবার সকাল থেকে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিলের গন্তব্য ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। এর পাশাপাশি বিভিন্ন পেশা এবং শিক্ষার্থীরাও জড়ো হন সেখানে।
সড়কে সড়কে দেখা গেছে, বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে মিছিল যাচ্ছে। বাদ্যযন্ত্র নিয়ে নেচে-গেয়ে যাচ্ছেন অনেকে। তাদের হাতে বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন, অনেকের গায়ে একই রঙের টি-শার্ট, মাথায় একই রঙের ক্যাপ।
সমাবেশের কারণে ওই এলাকায় গাড়ির চাপ কমাতে রূপসী বাংলা হোটেলের মোড়, কাকরাইল মসজিদ মোড়, জিপিও মোড়, গোলাপ শাহ মাজার, ঢাকা মেডিকেলের মোড় এবং নীলক্ষেত মোড় এলাকায় মিছিলবাহী গাড়ি আটকে দিচ্ছে পুলিশ। ফলে এই সব স্থান থেকে নেমে হেঁটে যেতে হচ্ছে উদ্যানে।
শাহবাগ থেকে টিএসসি, নীলক্ষেত মোড় থেকে টিএসসি এবং হাইকোর্টের মাজার গেইট থেকে দোয়েল চত্বর এলাকা মুখর ছিল মিছিলে মিছিলে।