অনলাইন ডেস্ক:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি)। এদিন বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশের ৬১ জেলায় একযোগে এ নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হবে। এতে অংশ নেবেন পৌনে ১১ লাখেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী।
এদিকে, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে প্রশ্নফাঁস চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। চক্রের দুই সদস্যকে রংপুর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।
তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা বলছেন, পরীক্ষা এক দফায় পিছিয়ে দেওয়া এবং প্রশ্নপত্র জেলাপর্যায়ে পাঠানোর পর প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চক্রটি প্রার্থীদের সঙ্গে কৌশলে যোগাযোগ করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘হিসাব সহকারী’ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এ কারণে পরীক্ষা শুরুর মাত্র এক ঘণ্টা আগে বিনা নোটিশে তা স্থগিত করে দেওয়া হয়।
হিসাব সহকারী পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এবার সামনে এসেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। এ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা।
চাকরিপ্রার্থী ও অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি চাকরিতে দেশের সবচেয়ে বড় নিয়োগ হয় প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে। এবারও ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে এ পরীক্ষা নিতে তৎপর হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে সন্দেহ-সংশয় বেড়েছে।
তাদের অভিযোগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উচ্চপদে নির্বাচনের পর রদবদল হবে। অধিকাংশ পদে পরিবর্তন আসতে পারে। এজন্য তড়িঘড়ি করে এ পরীক্ষা নিয়ে মৌখিক পরীক্ষা শেষ করতে চান। এ কারণে নিয়োগে প্রভাব ও অনিয়মের আশঙ্কা করছেন বিভিন্ন পক্ষ।
তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক এ কে মোহম্মদ সামছুল আহসান।
তিনি জাগো নিউজকে বলেন, গত ২ জানুয়ারি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। সঙ্গত কারণে আমাদের সেসময় জেলাপর্যায়ে প্রশ্নপত্র পাঠিয়ে দিতে হয়েছে। প্রশ্নপত্র স্ব স্ব জেলা প্রশাসনের (ডিসি) ট্রেজারিতে জমা আছে। সেখানে কঠোর নিরাপত্তায় সিলগালা এসব প্রশ্ন রাখা হয়েছে। সেখান থেকে প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগই নেই।
এ কে মোহম্মদ সামছুল আহসান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অপতথ্য বা মিথ্যা-ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, এটি একটি চক্রের কাজ। একটি চক্র পরীক্ষা ভণ্ডুল করতে চায়। আবার কেউ কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করে পরীক্ষাটা পেছাতে চান। ৯ জানুয়ারি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা হবে। শতভাগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার দুই ধাপ মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসেবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়াই করবেন প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রার্থী।
তথ্য সুএঃ Jagonews24
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2026 RED TIMES. All rights reserved.